|
মাশরুমের তৈরি গ্যানোডারমা নুচিডাম |
|
|
তোফাজ্জল হোসেন (বাংলা প্রেস),সৈয়দপুর
|
|
শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১১ |
|
নিলফামারীর সৈয়দপুরে মাশরুমের তৈরি ২শ ঔষধি গুণসম্পন্ন গ্যানোডারমা নুচিডাম ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শহরের টেকনিক্যাল কলেজ পাড়ায় বিজ্ঞান সম্মতভাবে এটি তৈরি করছে মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে মাশরুমের তৈরি ওষুধি ওই পণ্য ব্যবহার করে নানা জটিল রোগে আত্রুান্ত মানুষরা দিন দিন আরোগ্য লাভ করছেন। দামে সস্তা, পরিমাণে বেশি ও ফলপ্রসু হওয়ার ফলে সাশ্রয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রাও। দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে ম্যালেশিয়ান গ্যানেক্স কোম্পানীর গ্যানোডারমা নুচিডাস বাজারজাত করে আসছিল। এ কোম্পানীর একটি ট্যাবলেটের দাম দেশীয় টাকায় প্রায় ৫০ টাকা। সেখানে সৈয়দপুরের ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের তৈরি প্রতি ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০ টাকা। ফলে দাম কম থাকায় মানুষেরা তা সহসায় কিনতে পারছে। রোগাত্রুান্ত মানুষেরা সৈয়দপুরের তৈরি ওষুধি মাশরুম কিনে অল্পদিনে আরোগ্য লাভ করছেন। এ কারণে বিস্তার ঘটছে মাশরুমের নানা প্রকল্প। ইতোমধ্যে সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় বেশ ক টি কাঁচা মাশরুম তৈরির খামার গড়ে উঠেছে। মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের তৈরি গ্যানোডারমা নুচিডাস ব্যবহার করে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস্, অনিদ্রা, উচ্চ কলেস্টেরল, শ্বাসকষ্টের মতো অনেক জটিল দূরারোগ্য থেকে মানুষ আরোগ্য লাভ করেছেন। বিশেষ করে ওষুধিগুণ সম্পন্ন মাশরুম অনিদ্রা,মানসিক চাপ,ইনফ্লুয়েঞ্জা ও সাধারণ ঠান্ডা, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি. ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, , বহুমূত্র, মাথা ব্যথা,পেট ব্যথা,হাড়ে সমস্যা, পিটে ব্যথা,ত্বকের যত্ন, চুল পড়া, জটিল নিউরোলজিকাল সমস্যা,জন্ডিস,কফ,পুরাতন ব্রন্কাইটিস,অনিয়মিত ঋতুস্রাব প্রভৃতি রোগের জন্য বিশেষভাবে উপকৃত। মাশরুম থেকে তৈরি ওষুধিগুণ সম্পন্ন ট্যাবলেটগুলো নিয়মিত সেবন করে সৈয়দপুর শহরের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ভাল ফলাফল পেয়েছেন বলে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে জানা গেছে। জাতীয় মাশরুম সেন্টারের সহযোগিতায় বিশ্বের সর্বাধুনিক টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উৎপন্ন বীজ দিয়ে সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সম্মতভাবে ওষুধিগুণ সম্পন্ন মাশরুম উৎপাদন করছে মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ। পরবর্তীতে ওই মাশরুম থেকে গ্যানোডারমা নুচিডাম প্রস্তুত করে বাজারজাত করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী মো. আজিজুল ইসলাম জানান, সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে তিনি মাশরুম চাষ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি গবেষণার মাধ্যমে তাঁর খামারে উৎপাদিত মাশরুম থেকে ওষুধি গুন সম্পন্ন গ্যানোডারমা নুচিডাসসহ আরও বেশক টি পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করছেন। এ সব সেবন করে মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগবালাই থেকে আরোগ্য পাচ্ছেন। তিনি জানান, পুঁজি স্বল্পতার কারণে তাঁর খামারটি সমপ্রসারণ করতে পারছেন না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা দিলে মাশরুম উৎপাদনের আরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তাঁর খামার দেখে সৈয়দপুর উপজেলা আরো বেশ কয়েকজন মাশরুম উৎপাদন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। এ সব প্রকল্পে নানাভাবে প্রায় ৫শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউপি র লক্ষণপুর গ্রামে হাফিজুর রহমান গামা নামে এক আত্ন প্রত্যয়ী যুবক নিজ উদ্যোগে মাশরুম খামার গড়ে তুলেছেন। তাঁর খামারে উৎপাদিত মাশরুম বিভিন্ন ধরনের খাবারে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া তিনি নিজেও সৈয়দপুর শহরের অত্যাধুনিক সুপার মার্কেট সৈয়দপুর প্লাজায় একটি মাশরুমের খাবারের স্টল খুলেছেন। সেখানে মাশরুম থেকে বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরি করে বিত্রিু করা হচ্ছে। আর ওই মাশরুমের বিভিন্ন খাবার খেতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাঁর দোকানে প্রতিদিন ভীড় করছে। |
|
সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০১১ )
|