News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২৪ মে ২০১৩, শুক্রবার      
পাহাড়ছোঁয়ার ছবিগল্প প্রিন্ট কর
মোছাব্বের হোসেন   
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১০

হিম হিম পরিবেশ। শীতের তীব্রতা কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে! চারদিকে তুষার পড়েছে, একেবারে ধবধবে সাদা। তাঁবু গাড়া হয়েছে একটি স্থানে। আর তার পাশ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছেন এক পর্বতারোহী। এই পরিবেশ বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট অভিযান নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীর। হিম হিম পরিবেশেই ধাপে ধাপে তুলেধরা হয়েছে এভারেস্ট চূড়া বিজয়ে মুসা ইব্রাহীমের অভিযানের নানা পর্যায়ের আলোকচিত্র। মুসা ইব্রাহীম ও সহযাত্রী পর্বতারোহীদের তোলা ৪৬টি আলোকচিত্র আছে এতে। ঢাকার ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে ২৬ নভেম্বর শুরু হয়েছে এ প্রদর্শনী। ৯ ডিসেম্বর প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলবে এটি। শুক্র ও শনিবার সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা ও বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে, রোববার বন্ধ।
‘এভারেস্ট চূড়ায় বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন আলোকচিত্রের পাশাপাশি দেখানো হচ্ছে মুসা ইব্রাহীমের অভিযানে ব্যবহূত পোশাক, তাঁবু, বুটসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।
হিমালয় পর্বতের সৌন্দর্য একেক সময় একেক রকম। সূর্যের আলোকরশ্মিতে চিক চিক করা রোদেলা হিমালয় যেমন মনকে মুগ্ধ করে, তেমনি জ্যোৎস্নারাতের হিমালয়ও। চারদিকে তুষার, আর তার মাঝে ছোট ছোট তাঁবুকে মনে হচ্ছে হলুদ কচ্ছপের দল! আকাশে তখন বাতাসের সঙ্গে উড়তে থাকা বরফের মেঘের আনাগোনা। কোথাও বরফ থেকে আবার আপন খেয়ালে চুইয়ে পড়ছে পানি। সেই পানি গেছে জমে।প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া এমন সব মনোমুগ্ধকর ছবি দেখে যেন স্থির হয়েই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কত সুন্দর আর আশ্চর্য হতে পারে হিমালয় পর্বত! এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে অবস্থানকালে অন্য শেরপাদের সঙ্গে তাঁবুতে অবস্থান, হেঁশেলের কেতলির ধোঁয়ার উষ্ণ ছোঁয়া, বৈরী প্রকৃতির মধ্যে তাঁবুতে সহযাত্রীদের সঙ্গে জড়সড় হয়ে অপেক্ষার প্রহর, একটি দিনের পর আবার নতুন দিনে নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করার বিভিন্ন পর্যায় উঠে এসেছে ছবিতে ছবিতে। একেকটি ছবি যেন একেকটি গল্প আর বিস্ময় হয়ে ধরা দেয় চোখের সামনে। এভারেস্ট জয়ের পর নেপালের কাঠমান্ডুতে রাম ডুডল রেস্টুরেন্টে বিশ্বের নামকরা এভারেস্টজয়ীদের পাশে স্বাক্ষর করছেন মুসা ইব্রাহীম। ছবিটি দেখে মনে হয় সারা দেশের মানুষের হাত যেন এক হয়েই সই করছে তাঁর হাতে হাত রেখে। প্রদর্শনীতে এসে বিভিন্ন ছবির সামনে ছোটাছুটি করে বড় বড় চোখে বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে এ-ছবি ও-ছবি দেখছিল অর্ণব ও আদ্রিকা। আর তাদের ছবি তোলার ধকল সামলাতে হচ্ছে চিকিৎসক মা নুরুন নাহান চৌধুরীকে! প্রথম দিন থেকেই দলে দলে মানুষ আসছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে। প্রদর্শনীর বিভিন্ন ছবির সামনে নিজের একটি ছবি যেন তোলা চাই-ই চাই। আর পাশে মুসা ইব্রাহীমকে পেয়ে তো একেবারে সোনায় সোহাগা! একটা অটোগ্রাফ দিন, একটা ছবি তুলব—এমন সব অনুরোধ মেটাতেই ব্যস্ত মুসা ইব্রাহীম। এর ফাঁকেই কথা হলো তাঁর সঙ্গে। ‘এটা আসলে একক কোনো চিত্র প্রদর্শনী নয়। সবাইকে এভারেস্ট বিজয়ের একটি সামগ্রিক ধারণা দিতেই মূলত এই আয়োজন।’ বললেন মুসা ইব্রাহীম। তরুণ প্রজন্ম এসব দেখে এভারেস্ট অভিযানে উৎসাহিত হবেন বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এসব নিয়ে প্রদর্শনী করার ইচ্ছার কথা জানালেন মুসা ইব্রাহীম। শিল্পী অশোক কর্মকারের পরিকল্পনায় স্থাপনাশিল্পের মাধ্যমে প্রদর্শনীটিতে হিমালয় অঞ্চলের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা প্রদর্শনীতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রদর্শনী উপলক্ষে বেরিয়েছে মুসা ইব্রাহীমের লেখা এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশ নামের একটি বই।বইয়ের দাম এক হাজার টাকা। চাইলে ছবিগুলোও কেনা যাবে।
প্রদর্শনীতে মুসা ইব্রাহীমের একটি ছবি আছে—বরফের বুকে তাঁর পদচিহ্ন। আর এই ছবির পরপরই চোখ চলে যায় এভারেস্ট বিজয়ের পর এর চূড়ায় মুসা ইব্রাহীমের দিকে। তাঁর হাতের লাল-সবুজ পতাকাটার দিকে তাকিয়ে ভাবতে ভালো লাগে—এ বিজয় যেন আমারও।
সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০১১ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates