| ’বেষ্ট কমিউনিটির কন্ট্রিবিউশন’এওয়ার্ডে ভুষিত হলেন লিটন |
|
| নুরুল ওয়াহিদ, স্কটল্যান্ড থেকে | |
| শুক্রবার, ২০ আগস্ট ২০১০ | |
![]() স্কটিশ রাজধানী এডিনবরাস্থ ইভিনিং নিউজ পত্রিকার পাঠকদের সরাসরি ভোটে বেষ্ট কমিউনিটি কন্ট্রিবিউশন ২০১০ - শীর্ষক এওয়ার্ডে ভুষিত হলেন এডিনবরার বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত মোহাম্মদ লিটন। গত ১০ই আগষ্ট বিকাল ৩ ঘটিকায় ইভিনিং নিউজ পত্রিকার কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর এওয়ার্ড সিরিমনি অনুষ্টিত হয়। ২০০ বছরের পুরনো, স্কটল্যান্ডের সর্বপ্রাচীন সংবাদপত্র ইভিনিং নিউজ পত্রিকার এডিটর টম লিটল এওয়ার্ড তুলে দেন বিজয়ীদের হাতে। উল্লেখ্য, ৬টি ক্যাটাগরীতে ৩ জন করে নমিনী ফাইন্যাল রাউন্ডের জন্য মনোনীত হন। ’কমিউনিটি কনট্রিবিউশন’ ছাড়া আরও যেসব ক্যাটাগরী ছিল সেগুলি হচ্ছে’ বেষ্ট পোষ্ট অফিস, বেষ্ট ফিশ এন্ড চিপ শপ, বেষ্ট হিবস্ ফ্যান, বেষ্ট হার্টস ফ্যান ও বেষ্ট বার। ইভিনিং পত্রিকার ১৪ হাজার পাঠকের সরাসরি ভোটে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। স্থানীয় কমিউনিটির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখার জন্য এ বছরই চালু হয়েছে এই এওয়ার্ড। এ ধরনের মেইনষ্ট্রিম এওয়ার্ডে একজন বাংলাদেশী বিজয়ী হওয়ায় পুরো কমিউনিটি গর্বিত। সচেতন মহল মনে করেন এর ফলে স্কটল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির ভাবমুর্তি আরও উজ্জল হয়ে উঠবে। মোহাম্মদ লিটন ১৯৬৪ সালে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার গৌড়করন গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবার নাম মো: আব্দুস শহীদ (অব: পোস্টমাষ্টার) তিনি একজন হোমিও চিকিৎসক। জুরী প্রাইমারী স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় এবং কুলাউড়া এনসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। কুলাউড়া ডিগ্রী কলেজে øাতক কোর্সে অধ্যায়ন সম্পন্ন করে ১৯৮৭ সালে উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র গমন করেন। সেখানে তিনি উইলকিসন ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ কোর্স অধ্যায়ন করেন। ১৯৯০ সালে মো: লিটন স্থায়ীভাবে বসবাস করার উদ্দেশ্যে লন্ডন এবং এর ৫ বছর পর কর্মসুত্রে স্কটিশ রাজধানী এডিনবরায় আগমন করেন। সফল উদ্যেক্তা মো: লিটন ১৯৯৭ সালে মিডলোদিয়ান কাউন্সিলের পেনিকুইক এলাকায় ক্লিপার্স নামে একটি বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্ট চালু করেন। তিন সন্তানের জনক মো: লিটন লন্ডনে থাকাকালীন কমিউনিটির উন্নয়নে নানা ভলান্টারী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এডিনবরাস্থ সিটিজেন এডভাইস বুরোর ফাউন্টেনব্রীজ শাখায় ভলান্টিয়ার হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করেন। ব্যাবসা পরিচালনার পাশাপাশি পেনিকুইক এলাকার উন্নয়নে নানা কার্যক্রমের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। পেনিকুইকের ক্যান্সার আক্রান্ত তরুনী ক্রিষ্টি হ্যারিসনের সহায়তায় ক্লিক সার্জেন্ট নামক চ্যারিটি সংস্থার জন্য সফল ভাবে ফান্ড রেইজিং এ কার্যক্রম সম্পন্ন করায় সবার নজর কাড়েন মোহাম্মদ লিটন। এছাড়া এডিনবরা ওয়েষ্টার্ন জেনারেল হাসপাতাল, ম্যাগী সেন্টার, সিক কিড হসপিটাল ইত্যাদি সংস্থাকে নিয়মিত ভাবে সহায়তা করে আসছেন তিনি। বিগত বছর গুলোতে তিনি যেসব স্থানীয় প্রতিষ্টানকে নানা ভাবে সহায়তা করে আসছেন সেগুলো হচ্ছে - পেনিকুইক রাগবি ক্লাব, বিস্লাক ডিসেবলড স্পোর্টস ক্লাব, এসক্মিল বয়েস ক্লাব, বিস্লাক থিসল ফুটবল ক্লাব, পেনিকুইক প্যারেড, মার্চবার্ন প্লেগ্র“প ইত্যাদি। স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলের ছাত্রদেরকে খাবারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষ্টি ও কালচার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা ব্যাতিক্রমধর্মী প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন তিনি। মোহাম্মদ লিটন সপরিবারে এডিনবরা শহরে বসবাস করেন কিন্তুু রেস্টুরেন্ট ব্যাবসা পরিচালনার সুবাধে পেনিকুইক এলাকার স্কটিশ কমিউনিটির সাথে ওত:প্রোত ভাবে জড়িত। এডিনবরা বাংলাদেশ সমিতির সদস্য মো: লিটন অবসরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাঠান। তার শখ মোটর বাইক রাইডিং ও ব্যাডমিন্টন খেলা। ৩ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে নজরুল ডান্ডি ইউনিভার্সিটিতে ল পড়ছে, ২য় ছেলে জিসিএসই তে এবং ছোট মেয়ে খোদেজা হাই স্কুলে অধ্যায়নরত। কুলাউড়ার পল্লী এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহন করার প্রস্তুুতি নিচ্ছেন তিনি। এওয়ার্ড প্রাপ্তিতে অনুভুতি ব্যাক্ত করতে গিয়ে মো: লিটন বলেন, ’মানুষ মানুষের জন্য’ - ’’এ কথাটিই আমাকে প্রেরনা যুগিয়েছে, এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আমি সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই আমি সবচে আনন্দ পাই। আমি যে সম্মাননা পেয়েছি সেটা দুস্থ: মানুষের প্রতি উৎসর্গ করছি, এছাড়া আমার সেবামুলক প্রকল্পে পরিবারের সদস্য, রেষ্টুরেন্টের কর্মচারী ও অসংখ্য মানুষ নানাভাবে সহায়তা প্রদান করেছেন, তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধাভরে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি’’। |
|
| সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ২০ মে ২০১১ ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|