News-Bangla - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

১০ সেপ্টেম্বর ২০১০, শুক্রবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow দেশ arrow বাংলাদেশে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত
বাংলাদেশে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত প্রিন্ট কর
হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ থেকে   
সোমবার, ০৮ মার্চ ২০১০

 

 বর্ণাঢ্য র‌্যালী-শোভাযাত্রা, সমাবেশ, আলোচনা সভা, নাটক, চিত্র প্রদর্শনসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার সারাদেশে পালিত হয়েছে আর্ন্তজাতিক নারী দিবস।

শততম নারী দিবসে সমান সুযোগের জোরালো দাবি

শততম পূর্তি উপলক্ষে দিবসটির কর্মসূচি ও কদর অন্যান্য বারের চেয়ে ছিল অনেকটা বেশি। দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সমাজে নারীদের সম অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সহিংসতা বন্ধের দাবি জানানো হয়।

 শততম নারী দিবসে সমান সুযোগের জোরালো দাবি

‘সমান অধিকার, সমান সুযোগ, সকলের সমৃদ্ধি’-এই শ্লোগানে সোমবার পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ বছর দিবসটির শততম বর্ষপূর্তিতে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠন বর্ণাঢ্যভাবে দিনটি পালন করেছে। নারী শ্রমিকদের নিরাপদ মাতৃত্বের দাবিতে সোমবার সকালে মুক্তাঙ্গনে র‌্যালি ও সমাবেশ করেছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার মিলন চত্ত্বরে কোটেশন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেছে স্কুল কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। দৈনিক সমকালের উদ্যোগে সমাবেশ শেষে একটি র‌্যালি বের হয়। এতে ভিকারুননেসা নুন স্কুল ও উদয়ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের শপথ নেয়। র‌্যালিটি শহীদ মিনার থেকে যাত্রা করে জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়া রাজধানীজুড়ে ছিলো নারী দিবসের নানা আয়োজন।

দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো রাজধানীতেও নারী দিবস শতবর্ষ পূর্তির র‌্যালিতে যোগ দিয়ে সবাই অঙ্গীকার করলেন নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য রোধে শুধু নিজেই নন অন্যকেও উৎসাহিত করবেন। সকাল থেকে শাহবাগে জড়ো হওয়া নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের কণ্ঠে স্লোগান ধ্বনিত হলো: ‘সমঅধিকার ও সমসুযোগের নীতি, নিশ্চিত করবে জাতির অগ্রগতি’। এ র‌্যালীতে দাবি উঠলো সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতিমালায় মৌলিক পরিবর্তন আনার।

এদিকে, শহীদ মিনারে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। সেখানে কিশোরী সমাবেশ, শপথ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া মানুষের সবারই দাবি, নিছক দিবস পালনের মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে আঁধার ভাঙার শপথ নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন। এ সময়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হয় বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রীসহ বিপুল সংখ্যক নারী। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট। মোমবাতি প্রজ্বলনের আগে নির্যাতিত নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, নারী নেত্রী খুশী কবীর, তালেয়া রেহমান, ফারাহ কবীর, লায়লা পারভীন, সনজীদা খাতুন প্রমুখ।

‘সম-অধিকার ও সম-সুযোগের নীতি, নিশ্চিত করবে জাতির অগ্রগতি’ শ্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের রাজধানীতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজন করে। এতে সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধি, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু বলেন, আমি একজন মা, আমি একজন নারী। কিন্তু, আজ আমাদের পালন করতে হচ্ছে নারী দিবস। নারী দিবস আর যেন পালন করতে না হয় সেজন্য আমি আজীবন সংগ্রাম করে যাব। র‌্যালি শেষে সকাল সাড়ে ১০ টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিবেদিত সংগ্রামী নারী হিসেবে ভাষা সৈনিক জনাব রওশন আরা বাচ্চু’কে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অনন্য মাত্রা সংযোজনের জন্য নাট্য ব্যক্তিত্ব ফেরদৌসি মজুমদার’কে এবং সাংবাদিকতা পেশায় অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ মুন্নী সাহা’কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

এদিকে দিনটি উপলক্ষ্যে দেশের নারী সংগঠন গুলো সোমবার রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে র‌্যালী, মিছিল, মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ পালন করছে। এতে সংগঠনের নারী নেতৃবৃন্দ বলেন, নারীরা এখনো তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। স্কুল, কলেজ, কর্মস্থলে এমনকি বাসায়ও নারীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। নারী ধর্ষণ, পুরুষের প্রতারণার কারণে আত্বহত্যার ঘটনা চলছেই। এর প্রতিকার করতে হবে।  জাতীয় শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সম্পাদক শাহিদা পারভীন শিলা, শ্রমজীবী নারী ঐক্যের সভাপতি জাহানারা বেগম, নারী উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক মাসুদা খাতুন শেফালী, মুক্ত শিশু ও নারী ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে  বক্তব্য রাখেন।

অন্যদিকে নারীর প্রতি সবধরনের বৈষম্য দূর করা এবং সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত নারী সমাজ। সোমবার রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সমাবেশে তারা এ আহ্বান জানান।

এতে অন্যাণ্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের আহবায়ক রোশন আরা রুশো, সম্মিলিত নারী সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাহেরা বেগম জলি, শম্পা বসু, শামিমা নাজনীন সুরভী ও সোমা সাহাসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য, শ্রমিক নারীদের দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করা হয়। তখন বাংলাদেশের মতো একটি পশ্চাৎপদ দেশের নারীদের উন্নয়নে সংগ্রাম সূচনা করেছিলেন পায়রাবন্দ গ্রামের মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত ।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বেতন ৮৩ শতাংশ বেড়েছে
 

সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০৮ মার্চ ২০১০ )
 
< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates