News-Bangla - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১০, বুধবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow জিয়া এখন চোরাচালানের স্বর্গ
জিয়া এখন চোরাচালানের স্বর্গ প্রিন্ট কর
বাংলাদেশ থেকে হাবিবুর রহমান   
রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০
জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সিভিল এভিয়েশনের কতিপয় কর্মকর্তা, নিরাপত্তা কর্মী, কাস্টমস কর্মকর্তা ও মেসার্স নাহিদ ট্রেডার্সের কতিপয় কর্মচারী সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীদের নানাভাবে সহায়তা করছে। বতমানে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চোরাচালানের স্বর্গ পরিণত হয়েছে। এ খবর বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। সূত্র জানায়, মোবাইল ফোন সেট, স্বর্ণ, মদ, হেরোইন, ইয়াবা ও ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য বিভিন্ন দেশ থেকে চোরাই রুটে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। এসব কেনার জন্য অর্থও যায় অবৈধ পন্থায়। এই মুদ্রা যে পরিমাণ যায় তার সিংহভাগই চলে যায় অগোচরে। তবে কিছু কিছু আটকও হয়। আটককৃত এই অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হয়। চোরাইপথে আসা এসব মোবাইল ফোন সেট রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালেব প্লাজা, ঢাকা স্টেডিয়াম এলাকাসহ বিভিন্ন অভিজাত বিপণি বিতানে বেচাকেনা হচ্ছে। মাদক দ্রব্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবে বিক্রি হয়। জিয়ার কাস্টমস হলে সম্প্রতি একটি ল্যাপটপসহ লাগেজ আটক করতে গিয়ে বিসিএস কর্মকর্তা এসি মো. শফিউর রহমান চাকরি হারাতে বসেন। পরে তাকে ঢাকা কাস্টমস হাউজের কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, জিয়ায় চোরাচালানসহ অবৈধ কর্মতৎপরতা রোধে এনবিআরের নিজস্ব দুটি গোয়েন্দা সংস্থাসহ মোট ২৯টি গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর অন্যতম। যদিও এই সংস্থার বিরুদ্ধেই উৎকোচ গ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। দেশের বড় বড় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা এখানে ডিউটি করলেও তারা নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করছেন। অপর একটি সূত্র জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের বিজি কলকাতা, বিজি করাচী, বিজি সিংগাপুর, জিএমজি কলকাতা, পাকিস্তান এয়ার লাইন্সের পিকে করাচী, থাই এয়ার ওয়েজের টিজি ব্যাংকক, চায়না এয়ারের এমইউ চায়না, ইন্ডিয়ান এয়ার লাইন্সের আইটি কলকাতা এবং আইএক্স ফ্লাইটে চোরাচালানের পণ্য আনা হচ্ছে। চোরাচালনের পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ, রৌপ্য, আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ, বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী। ঐসব পণ্য সিভিল এভিয়েশনের চিহ্নিত নিরাপত্তা কর্মী, গার্ড, ট্রলিম্যান ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার কতিপয় সদস্য নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে কনভেয়ার বেল্ট ও কাস্টম হল গ্রীন চ্যানেলের পাশে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের নানাভাবে ব্যস্ত রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছে। এসময় ময়লা পরিষ্কার করার নামে নাহিদ ট্রেডার্সের কর্মী শফিক ভিতর থেকে মালামালগুলো পাচার করে দিচ্ছে। ময়লার ট্রলিতে করে বিভিন্ন মালামাল খালাস করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ ময়লা পরিষ্কারের আড়ালে কোন চোরাচালানী করা যাবে না বলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এয়ার বমডোর (অব.) মুহম্মদ আকীউল ইসলাম একটি হুশিয়ারি মুলক নির্দেশ জারি করেছেন । অথচ সেই নোটিশের কোন নির্দেশ মানছে না ময়লা পরিষ্কারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
 
< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates