News-Bangla - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

১০ সেপ্টেম্বর ২০১০, শুক্রবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow দেশ arrow শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে জঙ্গিরা
শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে জঙ্গিরা প্রিন্ট কর
বাংলাদেশ থেকে হাবিবুর রহমান   
রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০
রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)’র শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওর্য়াক গড়ে তুলেছে জঙ্গিরা। রাজধানীর কাজলা, শ্যামপুর, ভাঙাপ্রেস, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, সাভার, আমিনবাজার, গাবতলী, মিরপুর, খিলগাঁও, খিলক্ষেত, বাড্ডা, উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, টঙ্গী ও আশুলিয়া এলাকায় জেএমবি’র সক্রিয় সদস্যরা ফের সংগঠিত হচ্ছে। জেএমবি ত্যাগ করেছে বা দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে না এমন জঙ্গি সদস্যদের একটি গোপন তালিকা তৈরি করেছে জঙ্গিরা। সে তালিকা অনুয়ায়ী সাবেক জঙ্গি সদস্যদের মৃত্যুর হুমকি দিয়ে জেএমবি’তে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রচেষ্টা চলছে। যারা দলে ফিরছেন না তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। জেএমবি’র এসব কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেএমবি’র অপারেশন কমান্ডাররা। সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া জেএমবি’র সদস্যদের জবানবন্দি এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, জেএমবি করা পাপ। জেএমবি’র কার্যক্রম ইসলামে অনুমোদন নাই। এটা কোন ইসলামিক কার্যকলাপের মধ্যে পড়ে না। জেএমবি যারা করে তারা ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করছে। গত ৮ জানুয়ারি উত্তরখানের কড়াইহাটি জামে মসজিদে জুমার নামাজে খুতবা পাঠের পর উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে এ কথা বলেছিলেন জেএমবি’র দলত্যাগী এহসার সদস্য রশিদুল ইসলাম। খুতবা পাঠের সময় জেএমবি বিরুদ্ধে কথা বলায় জেএমবি’র এহসার সদস্য আকাশ, আল আমিন ও নাদিম গত ১ ফেব্র“য়ারি সোমবার সকালে উত্তরা ৬ নং সেক্টরস্থ ঈদগাঁ মাঠে প্রকাশ্য দিবালোকে রশিদুল ইসলাম (২৯)কে নির্মমভাবে খুন করে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জেএমবি’র সাবেক এহসার সদস্য রশিদুল ইসলামের সাথে জেএমবি’র আমীর মাওলানা সাইদুর রহমানের ছেলে বাশার, জেএমবি’র উপদেষ্টা         মোস্তাফিজুর রহমান, সামরিক শাখার প্রধান সোহেল মাহফুজ, গ্রেনেড বিশেষজ্ঞ আল আমিন, আকাশ (বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র), নাদিম, সাতক্ষীরার হাসান, এহসার সদস্য মাহমুদ আসাদ, হাবিব, রানা ও শাহিদের বিভিন্ন সময় যোগাযোগ হতো। রশিদুলের স্ত্রী আলিফ নূরের সাথে জেএমবি’র প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী নূরুন নাহার হিমুর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

২০০৯ সালের মধ্যে জেএমবি থেকে অনেক কর্মীই বের হয়ে আসেন। এ নিয়ে নূরুন নাহার হিমু তার স্বামী মাওলানা সাইদুর রহমানের কাছে বেশ কয়েকটি চিঠি লিখেন। হিমু র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর ঐসব চিঠি থেকে র‌্যাব জানতে পারে জেএমবি থেকে অনেকেই বের হয়ে যাচ্ছে। আবার এমন সব চিঠি উদ্ধার হয়েছে যেখানে হিমু তার স্বামীকে জেএমবি থেকে টাকা ও আইনি সহায়তা নিয়ে দল পরিত্যাগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়।

সূত্র জানায়, জেএমবি’র এহসার সদস্য রশিদুলকে হত্যার ঘটনায় জেএমবি’র সাবেক সদস্যদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সদস্য আত্মরক্ষার তাগিদে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ ও নিরাপত্তা চেয়েছে। রশিদুল খুন হওয়ার দিনই তারই সহপাঠী ও সাবেক জেএমবি’র সদস্য জামাল থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে নিরাপত্তা চায়। পরবর্তীতে সে জেএমবি’র বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দিয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। জেএমবি’র বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমান সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) খন্দকার হাসান মাহমুদ জানান, র‌্যাবের কঠোর তৎপরতার কারণে জঙ্গিরা সংগঠিত হতে পারছে না। জঙ্গি নির্মূল হয়নি তবে তারা সংগঠিত হতে পারবে না। রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে র‌্যাব সদস্যরা সার্বক্ষণিক জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। র‌্যাবের তৎপরতার ফলে জেএমবি সদস্য গ্রেফতার, বিস্ফোরক দ্রব্য ও জেহাদী বই উদ্ধার হচ্ছে গোয়েন্দা জালে।
 
< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates