News-Bangla - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১০, বুধবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow দেশ arrow টাওয়ার হ্যামলেTটের প্রথম বাঙ্গালি মহিলা ডেপুটি মেয়রের সংবর্ধনা
টাওয়ার হ্যামলেTটের প্রথম বাঙ্গালি মহিলা ডেপুটি মেয়রের সংবর্ধনা প্রিন্ট কর
মোহাম্মদ আশিকুর রহমান/বাপস   
রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০

 গত ৪ ফেব্রুয়ারী যুক্তরাজ্যস্থ লন্ডন বোরো অব টাওয়ার হ্যামলেট এর প্রথম বাঙ্গালি মহিলা ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর লুৎফা বেগমকে এক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।   জাতীয় প্রেসক্লাব এর ভি আই পি লাউঞ্জে, “এমপো বাস্তবায়ন ফোরাম বাংলাদেশ” এর উদ্যোগে  এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং  সমমর্যাদায় ১০০/১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়নে ‘এমপো’র ১১ দফা সুপারিশ  দ্রুত বাস্তবায়ন শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন “এমপো” বাস্তবায়ন ফোরামের আহ্বায়ক নূর-উন-নাহার মেরী। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্খিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য ও শ্রম ও কর্মসংস্খান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্খায়ী কমিটির সভাপতি ইস্রাফিল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্খিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ এর প্রফেসর ও জানিপপের চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ এর চেয়ারম্যান ও সিডিএলজি’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবুল কাশেম মজুমদার, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, সাবেক রাষ্ট্রদুত জনাব মঞ্জুরুল আলম। এতে বক্তব্য  রাখেন জাতীয় গার্হস্খ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি এড: জোবায়দা পারভিন, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক লাভলী ইয়াসমিন, জাতীয় নারী মুক্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বেগম, স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি শামিমা নাসরিন, দিশা এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সেলিনা শেলী, দরিদ্র সমাজ সেবা সংঘ এর সম্পাদিকা মাহমুদা রম্নবী, জানাফ এর লিগ্যাল এডভাইজার এ্যাডভোকেট মাকসুদা ইয়াসমিন লাভলী , নারী ঐক্য বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান জেসমিন খানম, আহসান উল্লাহ মিশন স্কুল মিরপুর, এর সহ-সভাপতি রোকসানা বেগম, আদিব আহসান ফাউন্ডেশন এর সহ-সম্পাদিকা আসমা রহমান, লায়ন রম্নহুল আমিন, জাগো নারী ফাউন্ডেশন এর ভাইস চেয়ারম্যান মুশতারী বেগম, প্রাইমারি কালচার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার-এর পরিচালক ও কলাম লেখক মোশাররফ হোসেন মুসা প্রমুখ।


সভাপতি তাঁর সূচনা বক্তব্যের প্রথমে মাননীয় ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর লুৎফা বেগমকে “এমপো বাস্তবায়ন ফোরাম  এর প‹ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন। মাননীয় ডেপুটি মেয়র সংবর্ধিত হয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে যেয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও স্খানীয় সরকারের বিধানিক বিভাগে সমমর্যাদায় নর-নারীর গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়নের এ প্রস্তাবটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। সংসদে যাবতীয় আইন ও উন্নয়নমূলক ব্যয়বরাদ্দ পাশ হয়। সেখানে যদি মেয়েরা সমমর্যাদায় ১০০/১০০ প্রতিনিধিত্বে বসার সুযোগ পায় তাহলে তাদের কথা ও উপকার তারাই বলতে ও করতে সক্ষম হবে; কারো দয়া কিংবা করুণার ওপর নির্ভর করতে হবেনা। ইংল্যান্ডকে সভ্যতার পাদপিঠ বলা হয়। অথচ সেখানে নারীরা এখন পর্যন্ত ৭-৮% হারে ক্ষমতায়িত হয়েছে। বিদ্যমান পদ্ধতি চালু থাকলে পুরুষদের সমান হতে মেয়েদের আরও ১ হাজার বছর অপেক্ষা করতে হবে। সেক্ষেত্রে এ প্রস্তাবটিকে অর্থাৎ এমপো একটি উত্তম ম্যাকানিজম বলা যেতে পারে। তিনি ইংল্যান্ডে এই আন্দোলনটি ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথি মাননীয় সংসদ সদস্য ইস্রাফীল আলম বলেন, আমি আশা করি বর্তমান সরকার এমপো ও ১১ দফা সুপারিশ বিশেষ বিবেচনায় নেবে, কারণ এই সরকার নারীপুরুষের ক্ষমতায়নে বিশাস ও কাজ করে। বিশেষ অতিথি জানিপপের চেয়ারম্যান ও সিডিএলজি’র ভাইস-চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাজমূল আহসান কলিমূল্লাহ বলেন, আমার বিশ্বাস এমপো একদিন সারাবিশ্বে গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়নের মডেল এ পরিণত হবে, তাই এই মহান ক্যাম্পেইনে শরীক হয়ে গৌরবান্বিত হবার সুযোগ সকলে গ্রহণ করা উচিত হবে। ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান বলেন, এমপো অনুযায়ী প্রণীত ১১ দফা প্রয়োগ হলে নারী-পুরুষের বৈষম্য সহনীয় হয়ে পড়বে এবং মানবকল্যাণ বেগবান হবে।

প্রাইমারি কালচার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার-এর পরিচালক ও কলাম লেখক মোশাররফ হোসেন মুসা বলেন, ইংল্যান্ড সহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই শতভাগ নগরায়ন হওয়ায় সেখানে একরূপ নগরীয় স্খানীয় সরকার রয়েছে। তাছাড়া সেসব দেশে একাধিক সরকার ব্যবস্খাও রয়েছে। বাংলাদেশও দ্রুত নগরায়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ‘গণতান্ত্রিক স্খানীয় সরকারের রূপরেখা’ অনুযায়ী  ২০৫০ সাল নাগাদ পুরো দেশটাই নগরায়ন হয়ে যাবে। বর্তমান ব্যবস্খায় তিন প্রকারের তথা গ্রামীণ স্খানীয় সরকার, নগরীয় স্খানীয সরকার ও গ্রামীণ-নগরীয় স্খানীয় সরকার থাকলেও ভবিষ্যতে শুধু নগরীয় স্খানীয় সরকার থাকবে। সেজন্য দুই প্রকারের সরকার ব্যবস্খা তথা-কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্খা ও স্খানীয় সরকার ব্যবস্খা বাস্তবায়ন এর পাশাপাশি নগরীয় স্খানীয় সরকারের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। এবং  সেসঙ্গে প্রতিটি স্তরের সরকারের বিধানিক বিভাগে সমমর্যাদায় নর-নারীর ১০০/১০০ প্রতিনিধিত্বে গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতি তঁাঁর বক্তব্যে অবিলম্বে ‘এমপো’ অনুযায়ী প্রণীত ১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবী জানান। এমপো অনুযায়ী প্রণীত ১১ দফা সুপারিশ হচ্ছে, এক, জাতীয় সংসদের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা জাতীয় সংসদ সদস্য ও একজন পুরুষ জাতীয় সংসদ সমদ্য নির্বাচিত করতে হবে; দুই, জাতীয় সংসদে একজন মহিলা ডেপুটি স্পীকার ও একজন পুরুষ ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করতে হবে;  তিন, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড হতে একজন মহিলা মেম্বার ও একজন পুরুষ মেম্বার  নির্বাচিত করতে হবে;  চার, ইউনিয়নে একজন মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান এবং একজন পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে হবে; পাঁচ, পৌরসভার ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড হতে একজন মহিলা কাউন্সিলর ও একজন পুরুষ কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে হবে; ছয়, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে একজন মহিলা ডেপুটি মেয়র ও একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত করতে হবে; সাত, উপজেলায় ‘মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো)’ অনুযায়ী নির্বাচিত একজন মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও একজন পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করতে হবে এবং তাঁদের পদকে উপযুক্ত সম্মানীসহ পূর্ণকালীন করতে হবে; আট, উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ ও বিভাগীয় সংসদ গঠন করে এদের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে; নয়, জেলায় ও বিভাগে একজন মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও একজন পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে হবে; দশ, জাতীয় সভা গঠনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক জেলা হতে একজন মহিলা জাতীয় সভাসদ ও একজন পুরুষ জাতীয় সভাসদ নির্বাচিত করতে হবে; এগার, ‘এমপো’র আলোকে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সমমর্যাদায় ১০০/১০০ প্রতিনিধিত্বে নারী পুরুষের গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী নর-নারীর বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে ‘মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো)’ হলো একটি ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী প্রস্তাব। এ প্রস্তাবে বলা হয়েছে- সংরক্ষিত নয়, ৩৩% নয়, ৫০/৫০ নয়, সরাসরি ১০০/১০০ প্রতিনিধিত্বে নর-নারীর গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করতে হবে। এ প্রস্তাবটি উথাপন করেন, স্খানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক গবেষক ও সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক লোকাল গভার্নান্স (সিডিএলজি) এর নির্বাহী পরিচালক আবু তালেব। তাঁর এই প্রস্তাবটি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। ‘এমপো বাস্তবায়ন ফোরাম বাংলাদেশ” এর আহ্বায়ক নূর-উন নাহার মেরীর নেতৃত্বে ২২টি সামাজিক সংগঠন। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও বাংলাদেশে সেমিনার, ওয়ার্কসপ, মানববন্ধন, মতবিনিময় সভা, পথ সভা, প্রচারপত্র বিতরণ, লেখালেখি, গ্রুপ মিটিং, একজন-একজন কনফারেন্স, আলোচনা চক্র ইত্যাদি করে চলেছে। বাপসনিউজ;
 
< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates