|
যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত স্বাস্থ্যবিল ভেস্তে যাচ্ছে |
|
|
বাংলাপ্রেস/নিমা,নিউইংল্যান্ড থেকে
|
|
রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০ |
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা’র বহুল প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যবিল আর আলোর মুখ দেখছে না। তাঁর এ স্বাস্থ্যবিল নিয়ে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে। ম্যাসাচুসেটস অংগরাজ্যে এডওয়ার্ড কেনেডির সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের পরই স্বাস্থ্যবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।
ডেমোক্রেটিক পার্টিরও অনেকে এ বিলটি পাস হওয়াকে অনিশ্চিত বলে ঘোষণা দেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বরাবরই বিলটি পাসের ব্যাপারে দৃঢ়বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি কখনোই বিলটি পাসের বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করেননি। তবে এবার ওবামা নিজেই বললেন, তাঁর স্বপ্নের স্বাস্থ্যবিল আর পাস না-ও হতে পারে। এ মন্তব্যের মধ্যেই অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত স্বাস্থ্যবিলের মৃত্যু দেখে ফেলেছেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার রাতে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির তহবিল সংগ্রহের জন্য একটি সমাবেশে ভাষণ দানকালে ওবামা স্বাস্থ্যবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের শঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, এমনও হতে পারে যে কংগ্রেস এ বিলটি পাসের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত নেবে। কংগ্রেসের এ সিদ্ধান্ত ভুল না সঠিক, তা মার্কিন জনগণই বিচার করবে। স্বাস্থ্যবিল পাস না হলে তা মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন ওবামা। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রক্রিয়া এমনই। সামনে যখন আবার নির্বাচন আসবে, তখন মানুষ তাদের সিদ্ধান্তের কথা ভোটের মাধ্যমে জানাবে। ওবামা ইঙ্গিত দেন, কিছুদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। তাঁর ভাষায়, রীতি অনুসারেই আগামী কয়েক সপ্তাহ এ বিলটি নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হবে। এরপর যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই স্বাস্থ্যবিল পাস করাকে নিজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে অভিহিত করে আসছেন ওবামা। এ বিলটি নিয়ে এই প্রথম এমন নমনীয় বক্তব্য দিলেন তিনি। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো মন্তব্য করেছে, ওবামা রাজনৈতিক বাস্তবতার কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। গত মাসে ম্যাসাচুসেটস রাজ্যে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পরই সিনেটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা হারিয়েছে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি। আর রাজ্যটিতে নিজেদের প্রার্থী স্কট ব্রাউনের বিজয়ের মাধ্যমে সিনেটে যেকোনো সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে বিরোধী রিপাবলিকান পার্টি। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে কোনো সিদ্ধান্ত পাসের জন্য অন্তত ৬০ ভোটের প্রয়োজন। ম্যাসাচুসেটসে পরাজয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এখন ৫৯টি ভোট রয়েছে। এদিকে ওবামা তাঁর নতুন এ মন্তব্যের মাধ্যমে নিজের নীতি পরিবর্তন করলেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রেই চারলিন বলেন, 'প্রেসিডেন্ট স্বাস্থ্যবিলের বিষয়ে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেননি; বরং এমন বক্তব্যের মাধ্যমে বিলটি পাসের জন্য ডেমোক্র্যাটদের উজ্জীবিত করতে চেয়েছেন।' তবে বক্তব্যের উদ্দেশ্য যা-ই হোক, চলতি সপ্তাহেই স্বাস্থ্যবিল নিয়ে ওবামার চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান তাঁর দলের সিনেটররা। আগামী সপ্তাহেই এক সপ্তাহের ছুটিতে যাবেন সব সিনেটর। তখন নিজ আসনের তাদের।
গত ২৬ জানুয়ারি প্রথম স্টেট অব দি ইউনিয়ন ভাষণেই স্বাস্থ্যবিল নিয়ে নিজের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসেন ওবামা। তিনি নতুন বছরে তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন বেকারত্ব দূর করার বিষয়টিকে। তবে স্বাস্থ্যবিল নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বৃহস্পতিবারই প্রথম বলেন তিনি। অনেকে মন্তব্য করছেন, ওবামার এমন নমনীয়তা এক বছর ধরে বিলটির পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ডেমোক্র্যাটদের হতাশ করতে পারে। তবে ওবামার আশঙ্কা যদি সত্যি হয়, তবে সবচেয়ে বড় পরাজয় ঘটবে তাঁরই। গত সেপ্টেম্বরেও তিনি কংগ্রেসে বলেছিলেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার প্রথম ব্যক্তি নই আমি। তবে আমিই হব শেষ ব্যক্তি। |