News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, রবিবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow প্রবাস arrow অধ্যাপক শহীদূর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী
অধ্যাপক শহীদূর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রিন্ট কর
নিউজ-বাংলা ডট কম   
মঙ্গলবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
 
ভার্জিনিয়ার ফল চার্চে ক্ষনজন্মা কবি-লেখক এবং শিক্ষানূরাগী অধ্যাপক শহীদুর রহমানের ২৫তম মৃত্যুদিবস পালন উপলক্ষে  সম্প্রতি  এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভার্জিনিয়ার ফল চার্চে ঘরোয়া পরিসরে। গ্রেটার ওয়াশিংটনের বিশিষ্ট সাংষ্কৃতিক কর্মী এবং আবৃত্তিকার অদিতি সাদিয়া রহমানের পিতা মরহুম শহীদুর  রহমান ১৯৯২ সালের ৪ঠা জানুয়ারী রাতের প্রথম প্রহরে  মাত্র ৪৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এরপর থেকে প্রতি বছরই এই দিনক্ষনে তাঁকে স্মরণ করে, তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং তাঁর সাহিত্য কর্মের উপর আলোকপাত করে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। স্মরণ সভাটি পরিচালনা করেন মরহুম লেখক-কবি শহীদুর রহমানের জামাতা এবং গ্রেটার ওয়াশিংটনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই ফোরামের সাবেক  সাধারন সম্পাদক রায়হান এলাহী।

 শুরুতেই  বাংলাদেশ এসোশিয়েশন অব আমেরিকা (বাই) এর প্রাক্তন সভাপতি ওয়াহেদ হোসেইনী মরহুমের আত্মার কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। তিনি কোর আন শরীফের বিভিন্ন সূরার ছন্দবৃন্তে ভাবানূবাদ পড়ে শোনান। পরবর্তীতে সিলিকা কণা, সরকার কবির উদ্দিন , আদিতি সাদিয়া রহমান, আরিয়ানা সানিকা এলাহি ও আব্দুল হাই শহীদুর রহমান এর কবিতা পড়েন। আনিস আহমেদ শহীদুর রহমান এর কিছু কবিতার বিশ্লেষণ ধর্মী আলোচনা করেন। কামরুল হাসান, দিনার মণি ও ডরোথি বোস গান করেন।

 মরহুম অধ্যাপক শহীদূর রহমানের সূযোগ্য কন্যা, গ্রেটার ওয়াশিংটনের বিশিষ্ট আবৃত্তিকার এবং সংষ্কৃতিক কর্মী  অদিতি সাদিয়া রহমান শৈশবকালে বাবার স্মৃতি নিয়ে   স্মৃতি কথা পাঠ করলে অনুষ্ঠান জুড়ে এক আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি নয়। ২৩ বছর আগে বাবাকে হারানো অদিতি তখন শিশু। সেই শিশু কন্যার স্মৃতিতে বাবার স্নেহভরা আদুরে কন্ঠে "মাগো" ডাক তাকে এখনও আলোড়িত করে, তার অন্তরে ছোঁয়া দিয়ে যায়। অদিতির এই হৃদয় স্পর্শী স্মৃতিচারনটি উপস্থিত সকলের হৃদয় স্পর্শ করে। নেমে আসে নিরবতা।
অদিতি সাদিয়া রহমান তার স্মৃতিচারণে বলেন ----"১৯৯২, ৪ ঠা জানুয়ারী , রাত ২ টা। হঠাৎ টেলিফোন বেজে উঠল আমাদের উপর তলায় মামার  বাড়িতে। সংবাদ এল আমদের আব্বু শহিদুর রাহমান আর নেই। সেই থেকে আমি, আমার ভাইয়া ও আম্মা প্রতিনিয়ত বয়ে নিয়ে বাড়াচ্ছি তাঁর সাথে অসংখ্য ছোটো ছোটো স্মৃতি ।

 ৪ ঠা জানুয়ারী, ২০১৮। ২৫ বছর পর ও ঐ দিনটির দিকে তাকালে এক ভয়ানক টনটনে ব্যাথা  অনুভব করি। মুহূর্তে ছুটে চলে যেতে ইচ্ছা করে অনেক ছোটো বেলায়, যখন পলটনের বাড়িতে ছাদে বসে অপেক্ষা করতাম আব্বুর ফিরতে দেরী হলে, কিংবা আব্বু যখন কলকাতায় গেল  পি. এইচ. ডি. কড়তে, তখন  আব্বুর কাপড় জড়িয়ে ধরে কান্না লুকানর চেষ্টার দিনগুলোতেই। তখনকার কান্না গুলো থেমে যেত আব্বুর কোলে গল্প শুণত্বে শুনতে । কিন্তু এখন…?  এখন ক্যামন যেন শুধু হাতড়ে বেড়াই কি বললে বা কি ভাবলে সেই গল্প সোনার সুখস্মৃতি অনুভব করব।

এই দিনটিতে শুধু আব্বুর জন্য দোয়া পড়েই তৃপ্ত হই না আমরা। আমরা আমদের পিতা কে খুঁজে বেড়াই তাঁর সৃষ্টির মধ্যে, খুঁজে বেড়াই তাঁর সম্পর্কে আলোচনার মধ্যে। আশ্চর্য জনক হলেও ২৫ বছর ধরে আব্বুর বন্ধুরা, ছাত্ররা যখনই এই দিনটির কথা শোনেন চেষ্টা করেন একত্রিত হয়ে তাঁদের অনুভুতি প্রকাশ করতে।
 
শহীদুর রহমানের জীবনীঃ
শহিদুর রহমান ছাত্র জীবনে ছিলেন পর্যায়ক্রমে দৈনিক বাংলার ও দৈনিক পাকিস্তান এর সাংবাদিক। পরবর্তীতে বাংলায় এম এ  পাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক। ৮১’ দিকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের  উপর পি এইচ ডি এর জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এ অধ্যায়ন ও  সর্বশেষে  কে  সি  কলেজ এ অধ্যাপনা ।

শিক্ষক ও লেখক শহিদুর রহমান ছাত্রদের মধ্যে সাহিত্য বোধ জাগিয়ে তোলার প্রতি ছিলেন ভীষণ আন্তরিক। ষাটের দশকের লেখক শহিদুর রহমান এর বহু কবিতা ও গল্প তখনকার সময়ের লেখকদের প্রথম সংগঠন ‘ স্বাক্ষর’ কবিতা পত্রে ও ‘‘সমকাল' পত্রিকায় নিয়মিতছাপা হতো।তাঁর “ বিড়াল’ গল্পটি সেই সময় এ সাড়া জাগিয়েছিল লেখক সমাজে।
`
পরবর্তীতে কি কারণে লেখা ও প্রচার দুই এর প্রতিই উদাসীনতা তাঁর লেখক বন্ধুদের ব্যাথিত করেছিল। তাঁর একটি গল্পের বই “বিড়াল" প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর স্ত্রীর পিড়াপিড়িতে এবং  একটি  মাত্র কবিতার বই “শিল্পের ফলকে যন্ত্রণা“ প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেমেদের উদ্যোগে। যা কিনা তাঁর উদাসিনীতার চরম বহিঃপ্রকাশ।

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর উদ্দেশে একটি স্বারকগ্রন্থ মুদ্রিত হয় যাতে সুখ্যাত কবি, লেখক, ও  অধ্যাপক গণ তাদের লেখার মাধ্যমে শহীদুর  রহমান এর প্রটি তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। লেখকদের অনেকের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক  মুনিরুজজামান , সাহিত্যিক শওকত আলী, গল্পকার আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, ইভিনেতা আরিফুর রহমান, সাহিত্যিক রাশিদ হায়দার, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি রফিক আজাদ, কবি শামসুর রাহমান প্রমুখ। তাঁদের লেখার পড়ে নতুন করে শহিদুর রহমান কে জানা  যায়।
সর্বশেষ আপডেট ( মঙ্গলবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates