News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

১৬ জানুয়ারী ২০১৮, মঙ্গলবার      
মূলপাতা
শুভ হোক ২০১৮ সাল ও ইংরেজি বর্ষবরণ ইতিহাস প্রিন্ট কর
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭
 
পৃথিবীব্যাপী যতগুলো উৎসব পালন করা হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে পুরানো উৎসব হলো এই ইংরেজি বর্ষবরণ উৎসব। এই উৎসবের সূচনা হয় আজ থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে। সে সময় মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব চালু হয়েছিল। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, তাকে বলা হয় মেসোপটেমীয় সভ্যতা। বর্তমানের ইরাককে প্রাচীনকালে বলা হতো মেসোপটেমিয়া। ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পর জাঁকজমক করে নববর্ষ পালন করা শুরু করে রোমানরা। রোমের উপাখ্যান খ্যাত প্রথম সম্রাট রোমুলাসই ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। অবশ্য এই ক্যালেন্ডারও রোমানরা চাঁদ দেখেই বানিয়েছিলেন। আর সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ওদের নববর্ষ ছিল ১লা মার্চ। আসলে ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা আরো দেখতে পাই ইংরেজি বর্ষ নয়, আসলে খ্রিষ্টাব্দ। অর্থ হয় খ্রিষ্টের অব্দ। যীশু খ্রিষ্টের জন্মের সাথে এই ক্যালেন্ডারটির একটা যোগ আছে। যেমন লেখা হয় 2016 A.D.। এই A.D. হলো Anno Domini - দুটি মধ্যযুগীয় ল্যাটিন শব্দ, এর অর্থ আমাদের প্রভুর যুগে (Medieval Latin, which means in the year of the Lord)। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রভু যীশু। তাই তাদের মতে যীশুর জন্মের সাথে সাথেই শুরু হয়েছে তাদের প্রভুর যুগ। অর্থাৎ যীশু খ্রিষ্টের জন্মের পর থেকে সালের আগমন।

১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরী জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণের পরামর্শ নিয়ে ক্যালেন্ডারটির সংস্কার করেন। তারই নাম অনুসারে ক্যালেন্ডারটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আর এটি বের করার পর এর সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে সকল জাতিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে। ফলে আগে যারা নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব পালন করতো, তারাও এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারির ১ তারিখই নববর্ষ হিসেবে পালন করে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল ১লা জানুয়ারির বর্ষবরণ উৎসব। একই দিনে নতুন বছরকে স্বাগত জানালেও বিভিন্ন দেশে নববর্ষ পালনের রীতিনীতিও ভিন্ন ভিন্ন। কিছু কিছু মিল থাকলেও নববর্ষের অনুষ্ঠানের সঙ্গে যোগ হয় দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

গ্রেট ব্রিটেনে এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হয় ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। আর এই ক্যালেন্ডার আমাদের দেশে নিয়ে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। আমরাও পহেলা বৈশাখের পাশাপাশি প্রতিবছর ১লা জানুয়ারিতেও বর্ষবরণ করি। এদিনও আমরা সারারাত আনন্দে মেতে উঠি। মেতে উঠি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য-তায়। যেহেতু, প্রাচীন রোমানদের হাতেই এই ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি আর তাই ইংরেজি বছরের ১২টি মাসের বেশীর ভাগই নামকরণ করা হয়েছে রোমান দেবতা বা সম্রাটের নামানুসারে, যেমনঃ

জানুয়ারি-রোমান দেবতা জানো’স এর নামানুসারে
ফেব্রুয়ারি-ল্যাটিন শব্দ ফেব্রুয়া থেকে নেয়া হয়েছে যার অর্থ পবিত্র
মার্চ-রোমানদের যুদ্ধ দেবতা মার্সের নামানুসারে
এপ্রিল-ল্যাটিন শব্দ এপ্রিলিস নামানুসারে যার অর্থ খোলা
মে-বসন্তের দেবী মায়া’স নামানুসারে
জুন-বিবাহ এবং নারী কল্যাণের দেবী জুনো’র নামানুসারে
জুলাই- রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার-এর নামানুসারে
আগষ্ট-জুলিয়াস সিজারের পুত্র অগাস্টাস সিজারের নামানুসারে
সেপ্টেম্বর-ল্যাটিন সপ্তম সংখ্যা সেপ্টেম এর নামানুসারে
অক্টোবর- ল্যাটিন অষ্টম সংখ্যা অক্টো এর নামানুসারে
নভেম্বর- ল্যাটিন নবম সংখ্যা নভেম এর নামানুসারে
ডিসেম্বর- ল্যাটিন দশম সংখ্যা ডিসেম এর নামানুসারে

আমাদের দেশে এই ক্যালেন্ডারটির আমদানি ও প্রচলন ঘটায় ইংরেজরা, তাই হয়তো অনেকে ওটাকে ইংরেজি বর্ষ বলে মনে করে এবং এখন সবাই মনে করছে। বর্তমান বাংলাদেশে আমরা তিনটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি - খ্রিষ্টাব্দ, হিজরি ও ফসলী সন, যার একটিও বাঙ্গালীদের প্রবর্তিত নয়। খ্রিষ্টাব্দ-এর কথা বললাম। হিজরি সন সম্পর্কে সবাই জানেন। ফসলি সন - যেটাকে আমরা বাংলা সন বলে মেনে নিয়েছি, সেটার প্রশাসনিক প্রচলন করেছিলেন অবাঙ্গালী মোঘল সম্রাট আকবর ও তৈরি করেছিলেন অবাঙ্গালী জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমীর ফতেহ-উল্লাহ খান সিরাজি।

যাহোক, অবাঙ্গালী হলেও এই তিনটি ক্যালেন্ডারই এখন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। খ্রিষ্টাব্দ-এর সাথে আমাদের কর্ম-যোগ, হিজরি ক্যালেন্ডারর সাথে আমাদের আধ্যাত্মিকতার যোগ, আর ফসলি সনের সাথে আমাদের কৃষিকাজ ও হৃদয়ের যোগ।

অনেক হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা,পাওয়া-না পাওয়ার মাঝে অসংখ্য অমানবিক ও পাশবিক ঘটনার সাথে কেটে গেলো আরও একটি বছর। তাই সময়ের নিয়মানুযায়ী বলতে হয় বিদায় ২০১৭। একটি সালের পরিক্রমায় হয়তো সকল কিছুই একবারে বদলে দিতে পারবো না। আসুন সকলে সম্মিলিত-ভাবে সচেষ্ট হই এবং প্রার্থনা করি...সমাপ্ত হোক সকল অমানবিক কর্মতৎপরতা। মানবতা স্থান নিক সকলের উপড়ে।

আশা করছি এই ২০১৮ সালে আমরা নিজেদের দৃষ্টি-ভঙ্গিকে পুনর্বিচার করে দেখতে পারবো। সব শঠতা, নোংরামি, হতাশা, জঠতাকে পেছনে ফেলে নতুন প্রাণ-শক্তিতে নিজেদের জীবিকা নির্বাহের উন্নয়ন, পারিবারিক সমৃদ্ধি, বিশেষতঃ জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়ে আবিষ্কার করতে পারবো সুন্দর আগামীর ঠিকানা।

শান্তি ও ভালবাসার পবিত্র সবুজ সজীব শব্দাবলীতে মুখরিত হয়ে উঠুক চারিদিক। ভালবাসা প্রসারিত হোক ঠোঁটের কোনায় আর স্থান নিক হৃদয়ের গভীরে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সকলের আগ্রহ বৃদ্ধি পাক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিয়ে যেতে হবে একটি সঠিক দিক নির্দেশনা যেন কোন অপশক্তি তদের গতিরোধ করতে না পারে। এর দায়ভার কিছুটা হলেও আমাদের উপর বর্তায়। আর যারা লেখালেখির সাথে জড়িত তদেরকে অবশ্যই সত্য ন্যায় ও আদর্শকে মাথায় রেখে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পরিশেষে- বছরের শুরুতে সবাই যেন মনে রাখি আমরা আমাদের স্বত্বাকে কোনভাবেই যেন বিসর্জিত না দেই। আনন্দ আর উল্লাসে সীমা অতিক্রম করে উগ্রতায় যেন মেতে না উঠি । যা বিপদ ডেকে আনবে, নিজেকে করবে হেয় এমন কিছুই যেন আমরা না করি। আমরা আমাদের অনৈতিক আচরণ ও পশুত্বকে যেন বিদায়ী বছরের সাথেই জলাঞ্জলি দিয়ে দেশকে ভালোবাসি, দেশের মানুষকে ভালোবাসি। এই হোক নতুন বছরে আমাদের সবার প্রতিজ্ঞা।

সবাইকে নতুন খ্রিষ্টাব্দের শুভেচ্ছা। শুভ হোক ২০১৮ সাল।
সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ )
 

Add comment


Security code
Refresh

পরে >

লগইন বক্স






পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
সদস্য হতে চাইলে রেজিস্টার করুন

A professional services and  IT training firm.
 
  

 DETAILS 

 

 Details

Details 

Details 

 Click here for details

 

 Details 

  Details

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 অন্যান্য পত্রিকা



 


 

 

বাচিক শিল্পী কাজী আরিফের সাথে একটি অনন্য সন্ধ্যা


আমেরিকাতে এখন গ্রীষ্মের শেষ লগ্ন। হেমন্তের (ফল)এর আগমনীর প্রাক্কালে সেদিনের অপরাহ্নটি ছিল সিগ্ধ শ্যামল। গত ১১ই সেপ্টেম্বরের  এমনি এক সোনালী রোদেলা বিকেলে
ভার্জিনিয়া রাজ্যের  স্টারলিংস্থ সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল দেশ বরণ্য আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের আবৃত্তি সন্ধ্যা।

বিস্তারিত ...
 

২রা এপ্রিল শংকর চক্রবর্তীর মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা


আগামী ২রা এপ্রিল  রবিবার  বিকেল চারটায় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ কমফোর্ট ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে  বরণ্য  নজরুল গীতি, গজল এবং হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গানের গুনী  শিল্পী  শংকর চক্রবর্তীর একক  সংগীতানুষ্ঠান। সঙ্গত আর সংগীতের অসাধারণ ঐকতানে শংকর চক্রবর্তীর এই মনোজ্ঞ সংগীতের আসরটি  বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাবে সাজানো হচ্ছে। দর্শক শ্রোতারা দারুন ভাবে উপভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিস্তারিত ...
 

কি কখন কোথায়


No events

মতামত জরিপ

Why do you visit News-Bangla
 
 
Free Joomla Templates