News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২০ নভেম্বর ২০১৭, সোমবার      
মূলপাতা
কিছু কথা না বললেই নয় প্রিন্ট কর
আব্দুস সাত্তার, ভার্জিনিয়া   
বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭
 ২য় সংকলনঃ পর্ব -১

ওয়াশিংটন ডি,সিঃ- আজ আমি যাকে নিয়ে লিখছি তাকে উপমহাদেশের সবাই চিনে এবং জানে। তিনি হলেন  মুক্তিযোদ্বা, শব্দসৈনিক, দিনবদলের এক সচেতন লড়াকু সৈনিক এবং গনসংগীত শিল্পী  ফকির আলমগীর। তিনি ১৯৫০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় দিনটিতে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  স্কুল, কলেজ শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই সময় তিনি ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গনশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে আন্দলন করেন এবং ৬৯ এর গনঅভ্যুথানে এক বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। দে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী একজন শব্ধ সৈনিক হিসাবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগদেন। পরে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিত গান পরিবেশনা শুরু করেন। এই সঙ্গীতের পাশাপাশি প্রচলিত ও প্রথাসিদ্ধ গানের বন্দ্যা ভুমিতে দেশজ ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা গানে ন্তুন মাত্রা সংযোজন করেন। সংগীত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্য তাঁকে করে তোলে আরো প্রতিশ্রুতিশীল, গণমুখী ও জনপ্রিয়। ১৯৭৬ সালে গঠন করেন ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী। এই সংগঠনের মাধ্যমে গণসঙ্গীতকে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পোঁছে দেন। অন্যদিকে একজন সাংস্কৃতিক  দূত হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিকে সফলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন,

সঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর একজন সফল কলামিস্ট ও লেখক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থঃ চেনাচীন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান, গণসঙ্গীতের অতীত ও বর্তমান সুধীমহলে সমাদৃত হয়েছে। রেডিও, টেলিভিশন, চলচিত্র ও মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশনায় তিনি এখনও সক্রিয়।

চির সবুজ এই কন্ঠশিল্পী সঙ্গীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য " একুশে পদক" "শেরে বাংলা পদক" "ভাসানী পদক" সিকোয়েন্স এ্যাওয়ার্ড অব অনার" ' তর্কবাগীশ স্বর্ণ পদক" " জসিম উদ্দিন স্বর্ণ পদক" "গণনাট্য পুরস্কার" " ত্রিপুরা সংস্কৃতিক সমন্বয় পুরস্কার সহ দেশে ও দেশের বাহিরে অনেক সন্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

ফকির আলমগীর ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ছাড়াও গণসংঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, সন্মিলিত সংস্কৃতিক জোটের সভাপতি, জনসংযোগ সমিতির সদস্য, বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্য্যালামনাই এসোসিয়েশানের আজীবন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্য্যালামনাই  এসোসিয়েশানের উপদেষ্টা, খিলগাঁও সামাজিক সংস্থার উপদেষ্টা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের উপদেষ্টা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিষদের সদস্য।

 আমি এই সল্প সময়ে যতটুকু জানতে পেরেছি বা সংগ্রহ করতে পেরেছি তাই লিখে দিলাম। আমি জানি এই গুণী শিল্পীর কথা লিখেও শেষ করা যাবে না। শিল্পী প্রতি বছরই আমদের ডাকে আমেরিকা চলে আসেন সঙ্গীত পরিবেশন করার জন্য সেই সুবাদে কোন না কোন অনুষ্ঠানে দেখা হয়ে যায়। গত বছর ২০১৬ তে  দেখা হয় খানিকটা কথা হয়। তখন বলেছিলাম আপনি যদি ফোবানা মায়ামীতে ২০১৭ তে আসেন তাহলে আমার জন্য আপনার গণসংঙ্গীত ও মুত্তিযুদ্ধা বইটি নিয়ে আসবেন। আমার অবাক লাগে তিনি কি করে মনে রেখেছেন! সারাদিন হাজার হাজার লোকের সাথে দেখা কথা পরিচয় তারপরও কিভাবে। ফোবানার প্রথম দিন ফকির আলমগীর ভাইয়ের সাথে দেখা লভিতে। তিনি আমাকে দেখা মাত্রই এই সাত্তার ভাই আপনি এসেছেন বলে কথা শুরু করে দিল। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা বললাম তারপর লভিতে বসে চা আর গল্প। তিনি সারাক্ষন সঙ্গীত আর সঙ্গীত সেই কলেজ খেকে যুদ্ধ এবং বর্তমান সঙ্গীত। আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম তাঁর কথাগুলো। তিনি এমন ভাবে কথাগুলো প্রকাশ করলেন মনে হলো তাঁর প্রতিটি রক্তকনায় জড়িয়ে আছে সঙ্গীত। অনেকক্ষণ কথা বলার পর তিনি বললেন একটু পরে আমি গান গাইব, চলেন হলের দিকে যাই। হাঁটতে হাঁটতে আরও কিছু কথা হলো এরই ফাঁকে তিনি বললেন আপনার জন্য বই এনেছি। আগামীকাল সকালে বই নিয়ে লভিতে থাকব ,আপনি চলে আসবেন।

বইয়ের কথা শুনার পর থেকে হলে বসে ভাবছি কখন সকাল হবে। এদিকে ফকির আলমগির আজ গান গাইতে পারলেন না। তিনি আগামীকাল (২য় দিন) গাইবেন।ফোবানার কর্মকর্তারা আজ সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়েছেন গান করার জন্য। ফকির আলমগীর রুমে চলে গেলেন ঘুমাবার জন্য আর আমি রাত ২টা অবধি সাবিনা ইয়াসমিনের গান শুনলাম। হল থেকে বেরিয়ে দেখি ফোবানা ইলেকশানের জন্য ৪/৫ জন করে কয়েকটি দল ল্ভিং করছে? আমিও একটি দলের সাথে যোগদিলাম তারপর কথা বিনিময় করতে করতে ভোর ৪টা বেজে গেল। সবাই যার যার রুমে চলে গেল।

আমার সকাল আজ ১০টায়। লভিতে এসেই দেখি ফকির আলমগীর বসে আছেন। মনে মনে ভাবলাম হয়ত রেগে আছেন দেরীতে আসার জন্য কিন্তু না তিনি দেখেই বলতে শুরু করলেন আসেন এখানে বসেন। তারপর বইটি বের করে কিছু একটা লিখে বলে দাঁড়ান একটি ছবি তুলে নেই। কয়েকটি ছবি তোলার পর বইটি হাতে দিলেন। আমি সত্যি গর্বিত এমন একজন গুণী মানুষের কাছ থেকে তাঁর নিজের প্রকাশিত গণসঙ্গীত ও মুক্তিযুদ্ধা বই পেয়ে।

আমি অনেক জ্ঞানী,গুনী, বুদ্ধিজীবী ও সাদা মনের মানুষ নিয়ে লিখেছি। আমার দেখায় শিল্পী ফকির আলমগীরও একজন সাদা মনের মানুষ। তিনি যখন কথা বলেন তিনি শুধু মা,মাটি ও মানুষ নিয়েই কথা বলেন। সাদা মনের মানুষগুলো এইভাবেই কথা বলে।

সঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর স্ত্রী ও তিন পুত্র নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করেন। আমি শিল্পীর পরিবারের সবার সুস্থ জীবন কামনা করছি । আর ইতিহাস সৃস্টিকারী এই সঙ্গীত শিল্পীর দীর্ঘায়ু কামনা করছি। 
সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >

পাঠক পছন্দ

লগইন বক্স






পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
সদস্য হতে চাইলে রেজিস্টার করুন

A professional services and  IT training firm.
 
  

 DETAILS 

 

 Details

Details 

Details 

 Click here for details

 

 Details 

  Details

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 অন্যান্য পত্রিকা



 


 

 

বাচিক শিল্পী কাজী আরিফের সাথে একটি অনন্য সন্ধ্যা


আমেরিকাতে এখন গ্রীষ্মের শেষ লগ্ন। হেমন্তের (ফল)এর আগমনীর প্রাক্কালে সেদিনের অপরাহ্নটি ছিল সিগ্ধ শ্যামল। গত ১১ই সেপ্টেম্বরের  এমনি এক সোনালী রোদেলা বিকেলে
ভার্জিনিয়া রাজ্যের  স্টারলিংস্থ সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল দেশ বরণ্য আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের আবৃত্তি সন্ধ্যা।

বিস্তারিত ...
 

২রা এপ্রিল শংকর চক্রবর্তীর মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা


আগামী ২রা এপ্রিল  রবিবার  বিকেল চারটায় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ কমফোর্ট ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে  বরণ্য  নজরুল গীতি, গজল এবং হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গানের গুনী  শিল্পী  শংকর চক্রবর্তীর একক  সংগীতানুষ্ঠান। সঙ্গত আর সংগীতের অসাধারণ ঐকতানে শংকর চক্রবর্তীর এই মনোজ্ঞ সংগীতের আসরটি  বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাবে সাজানো হচ্ছে। দর্শক শ্রোতারা দারুন ভাবে উপভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিস্তারিত ...
 

কি কখন কোথায়


No events

মতামত জরিপ

Why do you visit News-Bangla
 
 
Free Joomla Templates