News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow দেশ arrow রাখি উৎসব
রাখি উৎসব প্রিন্ট কর
শুভজিৎ বসাক, কলকাতা   
মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট ২০১৭


"মা,মা এসে দেখো কে এসেছে!"-মিমির ডাকে বাইরে বেরিয়ে এল অনুষ্কা।
অনুষ্কা- (একগাল হেসে) ওমা,প্রিয়ব্রত যে! কখন এলে?

প্রিয়ব্রত- (মিমির মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে) এই তো আসতেই তোমার মেয়ে চেঁচিয়ে উঠল তোতাপাখির মত।
মিমি হাসছে প্রিয়ব্রতের দিকে চেয়ে।শিশু মনের হাসি যেন মন সবসময়ই যত ভার থাকুক না কেন ভাল করবেই।


অনুষ্কা- কি করবে বলো? ওর বা আমাদের তুমি ছাড়া যে কেউ নেই সেটা তো জানোই।নতুন করে কি আর বলব বলো?
প্রিয়ব্রত- তা জানি।
অনুষ্কা- তা আজকের দিনে এখানে পা রাখবে যে স্বপ্নেও ভাবিনি।
প্রিয়ব্রত- (কায়দা করে না শোনার ভঙ্গি করে) কিরে মিমি তোর বাকি বন্ধুরা কোথায়? ডাক ওদের! কত উপহার এনেছি ওদের জন্য নিবি না তোরা?
মিমি- (হাসি মুখে তাকিয়ে) এই তো যাচ্ছি কাকু।এখুনি টুসি,পটলা,সই,বুচি,ঘনা সব্বাইকে ডেকে আনছি।
এই বলে সে ছুটে পালাবে ঠিক তখনই প্রিয়ব্রত চেঁচিয়ে বলল, "ওদের মায়েদেরও ডাকিস সাথে।" ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলে ছুটে গেল ওদের ডাকতে মিমি।
প্রিয়ব্রত- (মিমি চলে যেতেই অনুষ্কার দিকে তাকিয়ে) হ্যাঁ কি যেন বলছিলে? ওহ হ্যাঁ,আজকের দিনে এখানে আসাটা অবাক করেছে তোমায় তাই তো?
অনুষ্কা- (ঘাড় নেড়ে) খুব কি অসংযত কিছু বললাম? আজ যে রাখি পূর্ণিমা।আজকের দিনে আমাদের ভালোর কথা কেউ ভেবে যে এখানে আসবে সেটাই তো অবাক হওয়ার তাই নয় কি?
হাসল প্রিয়ব্রত।
অনুষ্কা- (ভ্রু কুঁচকে) হাসলে যে?
প্রিয়ব্রত- (হেসে বলল) তার মানে বলছো যে সোনাগাছিতে যে মেয়েরা যৌনকর্মী হয়ে কাজ করে তাদের কোনও আনন্দ-অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার রীতি নেই তাই তো? কোন বইয়ে সেটা লেখা আছে বলতে পারো?
অনুষ্কা- বইয়ে সব কি লেখা থাকে ভাই? সোনাগাছি মানে নষ্ট মেয়ে মানুষের জায়গা এটাই সবাই মনে করে।তাই লোকদেখানো কিছু অনুষ্ঠান আমাদের নিয়ে করা হলেও মন থেকে আমাদের জন্য কে করে বা ভাবে বলো তো?
প্রিয়ব্রত একটা পাবলিশার্সে কাজ করে এবং লেখক হিসাবে কিছুটা সুখ্যাতি আছে এবং যারফলে আজকাল ইন্দ্রপুরী অর্থাৎ টলিউডেও বেশ কিছু মানুষের সাথে পরিচয় গড়ে উঠেছে।সে ভীষণ ঠোঁটকাটা প্রকৃতির মানুষ এবং যেটা সত্যি যুক্তি দিয়ে এমনভাবে বলে তার পরে আর কথা হয় না কোনও।
প্রিয়ব্রত- (একটু গম্ভীর হয়ে) ওহ্ তাই না? তোমরা কিছুই নও তাই তো? কেন তোমাদের মাসের পাঁচ-সাতটা দিন কষ্ট করে আর পাঁচটা মেয়ের মত কাটাতে হয় না? তোমার বা তোমাদের সন্তানেরা মা বলে তোমাদের ডাকে না?
অনুষ্কা- (একটুও অবাক না হয়ে) আবার ভাই শুরু করলে তোমার কঠিন কঠিন কথা? আর এই কথার জাল এত প্যাঁচালো যা ভেদ করে বেরোনো যে যায় না তা তুমিও জানো।অবশ্যই আমাদের ঐ কয়েকটা দিন আসে অন্য মেয়েদের মত আর মা ডাকও শুনি সন্তানদের থেকে।
প্রিয়ব্রত- (সহাস্যে) ব্যস হয়ে গেল।সমাজ কি বলবে না বলবে ভেবো না।যখন আনন্দের স্রোত আসবে তাতে ভাসিয়ে দাও নিজেকে।সমাজ তোমায় থুথু দেবে গায়ে প্রকাশ্যে আর মনে রেখো ঐ সমাজের ভদ্র মুখোশগুলো রাত হলে ঐ মুখ দিয়েই চুমু খেয়ে তোমায় জড়িয়ে ধরে।সমাজ দুমুখো সাপের মত।এদের কথা ভাবলে তো তুমি বাঁচতেই পারবে না কখনও।যাই হোক দেখো তোমার মেয়ে কোথায় গেল ওদের ডাকতে।
চোখটা ভিজেছিল অনুষ্কার ফলে আবছা হয়েছিল দৃষ্টি।সেটা মুছে ডাকতে যাবে মিমিদের ঠিক তখনই হৈ-হৈ করে ছুটে এল মিমি ও তার এই অঞ্চলের বন্ধুরা।তাদের মায়েরা কেউ কেউ সকাল থেকেই ব্যস্ত হয়েছিল।তাই বাকি সবাই আসতেই ব্যাগ থেকে রাখি,মিষ্টি,গল্পের বই,খেলনা,জামা সবকিছু বের করে তাদের হাত সে তুলে দিল।সবাই তো বেজায় খুশি।আজকের মত দিনে এমন উপহার সত্যিই অভাবনীয়।অনুষ্কা দূর থেকে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল।এমন সময়ে সতীশ (দালাল) এসে তাকে সার্ভিস দিতে হবে কাস্টোমারকে জানাতে প্রিয়ব্রতের চোখ এড়ালো না সেটা।সে একটু এগিয়ে গিয়ে সতীশকে বলল, "কি হয়েছে সতীশ?"
সতীশ সবটা তাকে বলার পরে প্রিয়ব্রত একটুও না ভেবে বলল, "তোমার কাস্টোমারের রেট কত?"
সতীশ- (অবাক হয়ে) আপনি কেন জানতে চাইছেন লেখকবাবু? আপনি এখানে এসেছেন বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে।যারা আছে তাদের সাথে গল্প করুন না।কে বারণ করেছে?
প্রিয়ব্রত- (গম্ভীর গলায়) তোমাকে যেটা বলছি উত্তর দাও।
লেখকবাবু যে রেগে গিয়েছেন বুঝল সতীশ এবং টাকার পরিমাণ বলতে সে মানিব্যাগ থেকে সেই টাকাসহ আর কিছু টাকা বের করে তার হাতে দিয়ে বলল, "আজ এখানে কাজ হবে না কোনও।সব টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দিয়ে দিচ্ছি।আজ ওদের একটু হাসতে দাও"। সতীশ টাকাটা নিয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে চলে গেলে হাঁ হয়ে তাকিয়ে রইল অনুষ্কা তার দিকে।
অনুষ্কা- তুমি কি মানুষ?
প্রিয়ব্রত হাসল কেবল।অনুষ্কা মিমির কাছে এগিয়ে গিয়ে রাখিটা কেড়ে নিয়ে প্রিয়ব্রতের কাছে এগিয়ে এসে তার হাতে সেটা বেঁধে দিয়ে হাত ধরে কাঁদতে থাকল।মিমি সহ সবাই অবাক হয়ে গেল দৃশ্যটা দেখে।
প্রিয়ব্রত- (কিছুটা অবাক হয়ে আর হেসে) কি হল?
অনুষ্কা- (কাঁদতে কাঁদতেই) আজকালও মানুষ আছে অমানুষের ভিড়ে ভাই তা প্রমাণ করলে তুমি।আজকাল নিজের ভাই তার দিদি বা বোনের কাছে রাখি পড়েও তার আব্রু রক্ষা করতে পারে না।আর তুমি একটা সোনাগাছির মেয়েদের জন্য এত ভাবো?অন্তত রাখির দিনটায় রেহাই দিয়ে বিশ্বাস করো পুরানো দিনের ছোটবেলার কথাগুলো সব মনে পড়ে গেল।বরটা ঘর থেকে তাড়িয়ে দিতে ভাইয়ের ঘরে আশ্রয় না পেয়ে মুখ্য মানুষ হয়ে এখানে এসে পড়ে তোমার মত ভাই পেয়ে নিজেকে আজ ধন্যি মনে হচ্ছে।এমন মানুষ থেকো তুমি।নিঃস্বার্থে কাজ করার মানুষ আরও জন্ম নিক সমাজের বুকে।
প্রিয়ব্রতের গলাটা এবার ভারি হয়ে এল।নিজেকে সামলে অনুষ্কার দিকে চেয়ে একটু হেসে মিশে গেল মিমিদের হাসির স্রোতে।যে মেয়েরা পেটের দায়ে আসে এই কজে তারাও যে আনন্দে মাততে চায় সুযোগ পেলে সেটাই কেবল করে দিল প্রিয়ব্রত।রাখির মানটা সমাজের তরফ থেকে একদিন হলেও রাখল সে সমাজেরই একাংশের কাছে।
সর্বশেষ আপডেট ( মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট ২০১৭ )
 

Add comment


Security code
Refresh

পরে >
Free Joomla Templates