News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার      
মূলপাতা
আলমারির তাকে বহতা জীবন প্রিন্ট কর
নাজমা রহমান, মেরিল্যান্ড থেকে   
সোমবার, ১৯ জুন ২০১৭

দুপুরের তেজী রোদ সরে গেছে। বিকেলটা যেন টসটসে পাকা আম। কথা নেই বার্তা নেই এরি মাঝে হুড়মুড়িয়ে নেমে এলো বৃষ্টি। লালমটিয়ার তিনতালা ফ্ল্যাটের জানলা দিয়ে হু হু হা হা করে বৃষ্টি মাখা হাওয়া ঢুকছে। নীল সাদা নেটের পর্দাগুলো ছটফটিয়ে উড়ছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি উড়ে গেল ঘরটা! মকুম দ্রুত হাতে কাঁচগুলো টেনে দিতে দিতে আমার দিকে তাকাল – আপা, এইবার আলমারিটা দেখেন।  

আমি আলমারির সামনে যেয়ে দাঁড়ালাম। পুরনো দিনের সেগুন কাঠের ভারি আলমারি। পাল্লা দুটি হা করে খোলা।  ভিতরে তাকাতেই তিরতির করে উঠল বুক। হাত বাড়ালাম।   বাড়িয়ে ভিতরের জিনিসগুলো স্পর্শ করলাম। আলমারিটার মালিক অনুপস্থিত। তাকের মাঝে থরে থরে সাজানো সেই মানুষটির নিজ হাতে গড়া ইতিহাস। দিন, মাস, বছর, যুগ - যুগের পর যুগ ধরে বেড়ে উঠা শখ। তিল তিল করে ভালবেসে জমানো সম্পদ।   
 
একদিন এর প্রতিটি জিনিসই মহার্ঘ ছিল এর মালিকের কাছে। ছিল পরম তাঁর সাধের। কতনা প্রয়োজনের। আচমকা এক নিমেষেই  ফুরিয়ে গেছে সব প্রয়োজন।  অথচ এরাতো একদিন দু’দিন নয়, কয়েক দশকের সঞ্চয়। সজতনে সাজানো সম্ভার। স্তরে স্তরে জমে উঠা দীর্ঘকালের পুঞ্জীভূত ভালবাসা।  
তবু কি অবলীলায় এই সব কিছু পিছনে ফেলে চলে গেলেন মা। এসবের কিছুরই তাঁর আর প্রয়োজন নেই।
 
প্রয়োজন ফুরানো জিনিসগুলির দিকে তাকিয়ে আছি আমি এখন। তাকিয়ে আছি কারন এদের সাথে দীর্ঘকাল গভীর সখ্যতা ছিল আমার মায়ের।  
আলমারিটার বাঁ পাশে অনেক গুলি হ্যাঙ্গার। সেখানে থরে থরে ঝুলছে রকমারি শাড়ি। ডান দিকে পর পর তিনটা তাক জুড়ে ভাজে ভাজে সাজানো শাড়ীর স্তূপ।
শাড়ীগুলো দেখলেই অনুমান করা যায় এগুলোর মালিকের বয়স হয়েছে। তিনি রঙিন নকশাদার জীবনটা যথেষ্ট পিছনে ফেলে এসেছেন। এখন  তাঁর শাড়ীর জমিনে বকের পালকের শুভ্রতা নয়ত পেলব মাখনের  ছোঁয়া।   
তবে একেবারে বর্ণহীন নয়। শেষ বেলার প্রশান্তিরও আশ্চর্য সুন্দর রঙ আছে। তাই শাড়ীর পাড়গুলি আকাশের মত নীল অথবা দিগন্ত জোড়া মাঠের মত সবুজ।
এই শাড়ীগুলো কয়েক বছর আগেও শখ করে পরতেন আম্মা। কোনটা তুলে রাখতেন পরে পরবেন ভেবে। রাখতে রাখতে অনেক গুলোই আর পরা হয়নি তাঁর। কে জানত সময় এভাবে চোখের আড়ালে পালিয়ে বেড়ায়।
 
শাড়ি গুলো আমি এখন ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছি।
এর মাঝে কোন কোন শাড়ীর বিশেষত্ব অন্য গুলির চেয়ে বেশী। যেমন, এই নীল পাড় মাখন রঙা শাড়িটা আম্মা খুব শখ করে পরতেন। কোন এক ঈদে কুমকুম কিনে দিয়েছিল।
সাধ করে তুলে রাখতেন বাইরে গেলে পরবেন বলে স্বাতীর দেয়া ভালো লাগার সবুজ পাড় গরদের শাড়ি।
শুমির দেয়া তুলতুলে বাদামী সুয়েটারটা ঠাণ্ডা লাগলেই গায়ে দিতেন।
আর আমার কেনা ওই আসমানি রঙা সূতার কাজ করা কাশফুলের মত সাদা শাড়িটা পরলে মাকে কি যে ভালো দেখাতো।  
 
শুধু কি শাড়ি! আরো কত কি আছে আম্মার এই যাদুর বাক্সে। সেই কবে স্টুডেন্ট লাইফে শামীম কোলকাতা থেকে নিয়ে এসেছিল একটা সোনালী রিম দেয়া বাদামী কফি মগ, জাহাঙ্গীর কোনকালে লন্ডন থেকে এনেছিল পারফিউম, জুরিখ থেকে নিয়ে আসা নীনার নরম শাল, শর্মীর আনা পাথর বসানো ব্রুচ, পলির দেয়া সাদার উপর ছোট ছোট গোলাপি ফুলের ছিটা দেয়া বেডকাভার। আরো কত কি।   
 
মেজমামা লন্ডন থেকে কোন এককালে এনে দিয়েছিলেন বাহারি একটা    পাউডার কেস ও পাউডার। ব্যাবহার না করেই আম্মা সেটা তখনি তুলে রেখেছিলেন আলমারিতে। আমি অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিলাম – এটাতো ব্যাবহার করার জন্য মামা দিয়েছেন তোমাকে। আলমারিতে রেখেছ কেন?
আম্মার সহজ উত্তর, ব্যাবহার করলেইত শেষ হয়ে যাবে। ওটা আবুল আর সাঈদার স্মৃতি। থাকুক।    
 
আরো পুরনো স্মৃতিও আছে। অলঙ্কারের বাক্সের পাশে আরেকটা ছোট মখমলের নীল বাক্স। তাতে বহুকাল আগে বার্মা থেকে আব্বার নিয়ে আসা মহা মূল্যবান কিছু পাথর।
মাঝে মাঝে পাথরগুলো খুলে আম্মা দেখতেন।
এইগুলি দিয়ে নেকলেস আর কানের দুলের একটা সেট বানাতে হবে। মনের মত ডিজাইন খুঁজে পাচ্ছেন না। খুঁজতে খুঁজতে বেলা বয়ে গেল। নেকলেস দুল পরার বয়স পেরিয়ে আরো দূরে পৌঁছে গেলেন আম্মা। বুঝতেও পারলেননা সময় নামের পাগলা ঘোড়াটা কারো জন্য অপেক্ষা করেনা।
 
শুধু কি এই!  
না। আরো স্মৃতি আছে যাদুর বাক্সে।
একেবারে নিচের লম্বা তাক জুড়ে আম্মার লেখা লেখির ভাণ্ডার।
প্রকাশিত আর অপ্রকাশিত প্রবন্ধ আর কবিতার স্তুপ। বিভিন্ন যায়গায় নানা উপলক্ষে আম্মার দেয়া বক্তৃতার কপি।  
আম্মার দেয়া বিশাল একটা উপন্যাস। যেটা ছাপানোর খুব শখ ছিল আম্মার।

কতবার যে এই কাজটা করে দিতে চেয়েছি আমি। খুঁজে খুঁজে নানান সময় নানান প্রেসে গিয়েছি। কতটা বই ছাপাব, কি ভাবে ছাপাব, কাভার পেইজটা কেমন হবে ইত্যাদি সব বন্দোবস্ত সেরে এসে পাণ্ডুলিপি চাইলেই আম্মা বলতেন – দাড়াও, আরেকটু ঠিকঠাক করতে হবে এটা। সময় করে বসব আমি। পুরোটা আবার গুছিয়ে লিখে দিব।
গুছিয়ে লিখার সময় বয়ে যায়।     
তাই দেখে আমি তাড়া দিতাম - আহা! আমাকে একবার দিয়েই দেখনা। আমি তোমার লেখাগুলো গুছিয়ে কম্পিউটার প্রিন্ট করে দিব।  
আম্মা কিছুটা বিরক্ত হতেন, – কি যে বল। একজনের লেখা কি আরেকজন গুছিয়ে দিতে পারে! তুমি ঠিক করলেত ওটা তোমার লেখা হয়ে গেল। আমার থাকল কই! আমার লেখা আমাকেই ঠিক করতে হবে।   
 
উপন্যাসটা আর ঠিক করা হয়নি আম্মার। বহতা নদীর মত বয়ে গেছে জীবন। পল পল করে গড়িয়ে গেছে সময়। শরীর জুড়ে নেমেছে  অবসাদ।   এখন আমি সেই লালচে পৃষ্ঠাগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছি। আজ আর কেউ সরবে হা হা করে উঠছেনা – আহ! ওগুলো ধরছ কেন। রাখো! রাখো! এলোমেলো হয়ে যাবেতো সব!  
 
আম্মার বিশাল কাগজের স্তুপ সরিয়ে গুপ্ত ধনের মত বের করে  আনলাম জীর্ণ মলাটের ফটো এলবাম। সাদা ফিনফিনে স্বচ্ছ পাতার নিচে কালো ভারী পৃষ্ঠা। তাতে আম্মা আব্বার পুরনো ছবি সাঁটা। আমাদের চার ভাইবোনের ছোটবেলার ফটোও। ছবির চার কোনা সোনালী রঙের কর্নার দিয়ে আটকানো। কিছু কর্নার পুরনো হতে হতে খসে পড়ে গেছে। পাতাগুলোও নড়বড়ে।
সেই নড়বড়ে পাতার ভিতর পরম যত্নে একটা আর্ট পেপার ভাঁজ করে রাখা - আব্বার হাতে আঁকা আম্মার তরুণী বয়সের পেন্সিল স্কেচ।
      
আরেকটা তাকে স্তূপীকৃত এলবাম, খাম, নিউজ পেপার কাটিং ও গুটিয়ে  রাখা কাগজ। আম্মার সমাজ সেবা মূলক কর্ম কাণ্ডের ছবি আর সংবাদ। জীবনের এই অধ্যায়টা আম্মার খুবই বড় এবং বর্ণীল। এই কাজে আব্বার সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল আম্মার ভরসা।   
এর সুরু আমাদের শৈশব কালে।  
আম্মা তখন ‘আপওয়া’র (অল পাকিস্তান উইম্যান আসসিয়েসন)সক্রিয় সদস্য। নানান সময়ে কার্যকরী পরিষদ সদস্য হিসাবে ছিলেন - - পূর্ব পাকিস্তান মহিলা সংসদ,   - লেডিজ সেভিংস ক্লাব, একতা সমবায় সমিতি,  - পাঠাগার,   - বনফুল জনল্যানমূলক প্রতিষ্ঠান,   - লালমাটিয়া বহুমুখি সমবায় সমিতি,   - পাঠচক্র।  প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী ছিলেন -
- নিউকলোনী মহিলা মহফিল (রেজিস্টার্ড সমিতি)  উনাইটেড হ্যান্ডিক্রাফটস, - শিশু কিশোর শিক্ষা কেন্দ্র,  ও - দুস্থ মহিলা সেলাই শিক্ষা কেন্দ্রের।   
 
অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভানেত্রী ছিলেন  - মহিলা ইসলামী পাঠাগার, চট্টগ্রাম।  ওয়ার্ল্ড ভীষণ অব বাংলাদেশ এর আসাদগেট, লালমাটিয়া, ধানমণ্ডি এলাকার প্রতিনিধি। পূর্ব পাকিস্তান গার্লস গাইড এ্যাসোসিয়েশন ও পরে বাংলাদেশ গার্লস  গাইড এ্যাসোসিয়েশন এর সদস্য ছিলেন। সেখান থেকে একে একে গাইড, গাইডার, রেঞ্জার, কমিশনার ট্রেনিং ও সনদ পেয়েছেন।  সাংগঠনিক তৎপরতা ও কর্মকুশলতার জন্য ওয়ার্ল্ড ভীষণ ও বাংলাদেশ গার্লস গাইড এসোসিয়েশনের সনদ ও পুরস্কার প্রাপ্ত।
    
আমরা ছোটবেলায় থেকেই দেখেছি,  দেশের যেখানে যখন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে আম্মার সংগঠন গুলি দিবা রাত্রি কাজ করেছে। বাসার কাজের মানুষ আর পাড়ার ছেলেদের কাজে লাগাতেন আম্মা। আম্মার হাতে লেখা অনুরোধপত্র নিয়ে বাড়ি বাড়ি ছুটত তারা। সেই হাতের লিখায় কি যেন যাদু ছিল। শুরু হয়ে যেত গোটা মোহাম্মদপুর, নিউকলোনি ও লালমাটিয়ার বাসায় বাসায় আটার রুটি বেলা ও পুরনো কাপড় খুঁজে বের করে জড় করার পালা।  বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেই বিশাল সম্ভার সংগ্রহ করে পাড়ার তরুণ ভলান্টিয়ার ছেলেরা পৌঁছে দিত যথাস্থানে।      
 
             
 
আজ এতকাল পরে সেইসব ত্রাণ কাজের ছবি ও খবর সহ নিউজ পেপার কাটিংগুলি হাতে নিয়েছি আমি।   এতক্ষণ ধরে অনেক কিছুই দেখলাম, তবু অনেক রয়ে গেল বাকি। গুচ্ছ  গুচ্ছ কাগজ সরিয়ে রাখলাম একপাশে। আজ আর নয়। অন্য কোনদিন। অন্য কোন সময়। তাছারা সব দেখা সম্ভবও নয়।   একজন মানুষের জীবনের কতটুকুইবা আরেকজন দেখতে পায়!
 
এই স্তূপ সরিয়ে অন্য স্তুপের দিকে হাত বাড়াই। চোখে পড়ে একটা নোট বুক। আজাদ পত্রিকার নীচে বসে উঁকি দিচ্ছে আমার দিকে। আব্বা যখন অসুস্থ হয়ে বিছানা নিলেন তখন শুয়ে বসে এই নোট বুকে আরবি আয়াত দোয়া দরুদ ইত্তাদি লিখতেন।
 
      
 
নোট বুকের সাথেই পুরনো একটা ডায়রি। আম্মার ডায়রি লেখার অভ্যাস ছিল। মুক্তোর মত অক্ষরে মাঝে মাঝেই গুছিয়ে কাব্যিক ভাষায় লিখতেন । ডায়রির কিছু কিছু পাতা এখানে তুলে দেওয়ার লোভ সামলে নিচ্ছি।  সেই যেখানে, - পুতুল নামের এক ফুটফুটে বালিকার শিলং শহরের পাইন বন আর নাশপাতি গাছের ছায়ায় বেড়ে ওঠার গল্প আছে ... লাবান স্কুলের খেলার মাঠে বাতাসের আগে দৌড়াবার গল্প আছে ... আছে সেই  মেয়েটির সোনার সূতোয় বোনা (আম্মা বলতেন, তাঁর শাড়িটি নাকি আগুলে পোড়ালে সোনা বের হবে) মিহি বেনারসি শাড়ির আঁচল মাথায় তুলে এক গা গহনা পরে আসামের রাজধানী শিলং ছেড়ে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পৌঁছানোর গল্প ...  আম্মার বিয়ের ছয় বছর পরে আমার জন্মাবার গল্প ...
তারপর!
তারপর,    
দিন, মাস বছরের পরিক্রমায় পুতুল সবার কাছে হয়ে গেলেন মিসেস লুৎফুন্নেসা আলী সেই গল্প আমরা জানি।   
 
সমাজ সেবার কাজগুলো কিন্তু আম্মা করতেন তার একান্ত অবসরে।  পরিবারের সবটুকু প্রয়োজন সম্পূর্ণ ভাবে মিটিয়ে দিয়ে। পরিবার ও আত্মীয় স্বজন সবাইকে হৃদয় উজাড় করে সময় ও মনোযোগ দিয়ে নিজের একান্ত অবসরে নিবেদিত হয়েছেন মানুষের কল্যাণে। ঘর, দুয়ার, সন্তান, রান্নাবান্না সামলে কখনো বসতেন এমব্রয়ডারি নিয়ে,  কখনো উলের সুয়েটার মাফলার, কখনোবা ক্রুশের লেইস – সংসারের প্রয়োজনীয় সবই তৈরি হত ঘরে। আম্মার হাতের বানানো জামা কাপড় পরেই কেটেছে আমাদের বর্ণীল শৈশব, কৈশোর।
 
একটা ঘটনা মনে পড়ে। আমি তখন ক্লাস টেনে পড়ি। সেইসময় চলছে টেডি যুগ। সেলিনা, হেলেন, খুকী, পারভিন সবাই পরে আসতে শুরু করল আঁটসাঁট টেডি  কামিজ। ওটাই চলতি ফ্যাশন। আম্মাতো টেডি পরতে দিবেন না।  এখন উপায়! ততদিনে আমিও একটু আধটু সেলাই শিখেছি। আম্মার সিঙ্গার মেশিনে বসে আমি নিজেই একসেট সেলওয়ার কামিজ বানালাম। আসলে আম্মা বানালেন সেলোয়ারটা আর আমি বানালাম কামিজ। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখি। কি সুন্দর আঁটসাঁট কামিজ! আম্মাও দেখলেন। কিছুই বললেন না।  

পরদিন পরব বলে বের করেছি। একি! নতুন কামিজটা কাঁচি দিয়ে ঠিক মাঝখানে দুই ফালা। ধবক করে কেঁপে উঠল বুক। টেডি কামিজ বানাবার অপরাধ বোধে ভয়ে লজ্জায় ম্রিয়মাণ আমি। আর ওই পথে যাইনি। এর ফলাফলটা অবশ্য শুখের হল। আমাদের ক্লাসে ছিল আরেকজন নাজমা। ডাকার শুবিধার জন্য বান্ধবীরা ওর নাম দিল টেডি নাজমা। আর আমি শুধু নাজমা।
 
স্মৃতির কথা থাক। আম্মার ডায়রিতে ফিরে আসছি। ডায়রি পড়তে পড়তে একটা মজার জিনিস পেলাম। ডায়রির ভিতরেই সজতনে ভাঁজ করে রাখা।   আমাদের দেশে বিয়ের অনুষ্ঠানে এক সময় এই জিনিসটার খুব চল ছিল। কবিতার ছন্দে লেখা এটাকে বলা হত ‘প্রীতি উপহার’। বড় বোনের বিয়েতে ছোট ভাইবোন ও ভাইবোন সম্পর্কের সব কাজিনদের তরফ থেকে বরকে উদ্দেশ্য করে এটা লেখা হত। এবং বিয়ের আসরে অতিথীদের মাঝে বিলি করা হত।  আরো অনেক কিছুর মতই বিবাহ অনুষ্ঠানের এই আনন্দময় রেওয়াজটা উঠে গেছে।   

 
এতক্ষণে অনেক কিছুই দেখা হোল। আরো অনেক রইল বাকি। আমি আলতো হাতে আলমারির পাল্লা দুটো বন্ধ করে দিলাম। দিতে দিতে মনে হল, আসলে আলমারি জিনিসটা জড় পদার্থ হলেও তাঁর ধারণ শক্তি বিশাল। এর ভিতর লুকিয়ে থাকে একটা জীবনের গল্প। তার চাওয়া পাওয়ার ছবি। স্বপ্ন আর সাধ আহ্লাদ। পূর্ণ এবং অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার বলা না বলা কথকতা।
মানুষটা কে! সেই উত্তর।

সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >

লগইন বক্স






পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
সদস্য হতে চাইলে রেজিস্টার করুন

A professional services and  IT training firm.
 
  

 DETAILS 

 

 Details

Details 

Details 

 Click here for details

 

 Details 

  Details

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 অন্যান্য পত্রিকা



 


 

 

বাচিক শিল্পী কাজী আরিফের সাথে একটি অনন্য সন্ধ্যা


আমেরিকাতে এখন গ্রীষ্মের শেষ লগ্ন। হেমন্তের (ফল)এর আগমনীর প্রাক্কালে সেদিনের অপরাহ্নটি ছিল সিগ্ধ শ্যামল। গত ১১ই সেপ্টেম্বরের  এমনি এক সোনালী রোদেলা বিকেলে
ভার্জিনিয়া রাজ্যের  স্টারলিংস্থ সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল দেশ বরণ্য আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের আবৃত্তি সন্ধ্যা।

বিস্তারিত ...
 

২রা এপ্রিল শংকর চক্রবর্তীর মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা


আগামী ২রা এপ্রিল  রবিবার  বিকেল চারটায় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ কমফোর্ট ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে  বরণ্য  নজরুল গীতি, গজল এবং হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গানের গুনী  শিল্পী  শংকর চক্রবর্তীর একক  সংগীতানুষ্ঠান। সঙ্গত আর সংগীতের অসাধারণ ঐকতানে শংকর চক্রবর্তীর এই মনোজ্ঞ সংগীতের আসরটি  বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাবে সাজানো হচ্ছে। দর্শক শ্রোতারা দারুন ভাবে উপভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিস্তারিত ...
 

কি কখন কোথায়


No events

মতামত জরিপ

Why do you visit News-Bangla
 
 
Free Joomla Templates