News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার      
মূলপাতা
আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠান প্রিন্ট কর
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
সোমবার, ০১ মে ২০১৭

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত একাধিক পত্রিকার সম্পাদক ও মিডিয়া কর্মীরা বলেছেন-নিউইয়র্কে বাংলা সংবাদ পত্র এখনও শিল্পে পরিণত হয়নি। অভিবাসী সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির গোড়াপত্তনে সংবাদপত্রগুলো মূখ্য ভূমিকা রাখলেও এখানে সংবাদ পত্রগুলো নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। সংবাদপত্রগুলোকে সহযোগিতা জন্য কমিউনিটির ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের সহযোগিতার আহবান জানান বক্তারা। তারা আরো বলেন-কমিউনিটি সাংবাকিতাই টিকে থাকবে। দিনে দিনে সাধারণ পাঠক কমিউনিটি সাংবাকিতার প্রতি সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ৬০ মিলিয়ন লোক কমিউনিটি সংবাদপত্র নিয়মিত পাঠ করছেন। মিডিয়াকর্মীরা বলেন-নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটি বাড়ছে। এই কমিউনিটিতে সাংবাকিতার দায়িত্বশীলতাও বাড়ছে।

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে ‘কমিউনিটি সাংবাদিকতা ও দায়িত্বাবোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেন। গত ৩০ এপ্রিল রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বেলোজিনা পার্টি হলে প্রেসক্লাবের অভিষেক, আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। আলোচনা সভায় অতিথি হিসাবে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ১০টি সাপ্তাহিকের সম্পাদক বক্তব্য রাখেন, যা অতীতে দেখা যায়নি। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি দর্পণ কবীর এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান রচি। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সামুন্নাহার নিম্মি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাব বক্তব্য রাখেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার সম্পাদক মনজুর আহমদ, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডাঃ ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক দেশবাংলা ও বাংলা টাইমেস সম্পাদক ডাঃ চৌধুরী সারোয়ার হাসান, সাপ্তাহিক বর্ণমালা পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও আজকাল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এবং এটর্নী মঈন চৌধুরী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সেক্রেটারী (প্রেস) নূরে এলাহী মিনা, ঠিকানা পত্রিকা’র নির্বাহী সম্পাদক জাভেদ খসরু, খানস টিউটোরিয়ালের চেয়ারপার্সন নাঈমা খান ও জনকণ্ঠের সম্পাদক শাসসুল আমল।
অনুষ্ঠানে নাজমুল আহসান বলেন,সংবাদ প্রকাশে আমি কতোটুকু ফেয়ার সেটাই আমার কাছে বড় বিষয় বলে মনে করি। কমিউনিটির প্রতি দায়িত্ববোদের কারণে এখনো আমি সাংবাদিকতায় আছি। তিনি আরো বলেন-এখানে প্রেসক্লাবে বিভাজনের সঙ্গে সাংবাদিকতার বিভাজনের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন-সাংবাদিকদের বিবেকবান হওয়াটা জরুরি।
মনজুর আহমদ বলেন, কমিউনিটির প্রয়োজনেই এখানে পত্রিকা প্রকাশ হয় এবং তা চলে। এখানেও বিজ্ঞাপনদাতাদের চাপ রয়েছে। প্রবাসে পত্রিকাগুলো পাঠক তৈরি করেছে। তিনি বলেন-আমাদের মনে রাখতে হবে, কমিউনিটিতে বাংলা সংবাদপত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পত্রিকার মালিকদের সাংবাদিক দিয়ে বিজ্ঞাপনের কাজ না করার অনুরোধ জানান তাঁর বক্তব্যে।
ডাঃ ওয়াজেদ এ খান বলেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সব কিছুতেই বিভক্তি। এর ভালো এবং খারাপ দুইটি দিকই আছে। তিনি দেশের বহুজাতিক কোম্পানীগুলোকে এখানকার সংবাদপত্রগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করার আহবান জানান।
ডাঃ চৌধুরী সারোয়ার হাসান বলেন, নিউইয়র্কে ফ্রি পত্রিকা আমি শুরু করেছিলাম। এখানকার বিজ্ঞাপনদাতারা বিল পরিশোধ করতে গড়িমসি করে। এই মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।
মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা কমিউনিটিকে অনেক সেবা দেই, কিন্তু কমিউনিটি আমাদের কিছু দিতে পারে না। এখানকার অনেক বিত্তশালী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী আছেন, তারা সংবাদত্রে বিজ্ঞাপন দেন না। তাদের মানসিকতা বদলালে এখানে কমিউনিটি সাংবাদিকতা সৃজনশীল হবে। তিনি সাংবাদিকদের বিভক্তি প্রসঙ্গে বলেন -সাংবাদিকদের মধ্যে কোনা বিভাজন নেই। আজকরে মঞ্চ-ই এর প্রমাণ।
রতন তালুকদার বলেন, মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এখানে কোনো বাধা নেই, যেমন বাংলাদেশে আছে। কিন্তু এখানে আমাদের আমাদের কণ্ঠ চেপে ধরেন এখানকার বিজ্ঞাপনদাতারা। তিনি আরো বলেন-এখানে পাঠক ১ ডলার খরচ করে পত্রিকা কিনতে চান না। তা না হলে এখানে পত্রিকাগুলো ফ্রি হতো না।
আবু তাহের বলেন, প্রবাসে ঘর ঝাড়– দেওয়া থেকে শুরু করে লেখালেখি এবং বিলি সমস্ত কাজ করতে হয় একজন সাংবাদিককে। সাংবাদিকরা অনেক কষ্ট-ত্যাগ স্বীকার করে এখানে এই পেশায় রয়েছেন। তিনি আরো বলেন-অনেকে হাজার হাজার ডলার খরচ করেন অনুষ্ঠান করতে। কিন্তু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে চান না। এ কারণে বাংলা সংবদপত্র ধুঁকে চলছে।
জাকারিয়া মাসুদ জিকো বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে থ্যাংকসলেস জব। সাংবাদিকরা কেউ ধন্যবাদ দেয় না। সবাই সমালোচনা করেন। তিনি আরো বলেন-এখানকার মিডিয়া পুরোপুরি নিরাপদ, তা নয়। এখানে কিছু লিখলে দেশেও এর জবাব দিতে হতে পারে। তাই চাইলেই আমরা যা ইচ্ছা তা সরকারের সমালোচনা করতে পারি না।
মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, আমি বিভাজন চাই না। আমাদের মধ্যে বিভাজন হলেও আমরা ভলো কাজে সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করি। শেষ কথা হলো সবাই কমিউনিটিজ জন্য কাজ করছি।
এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, প্রবাসে যারা সংবাদিকতা করেন তাদের স্যালুট জানাই। তারা নিজে পরিশ্রম করে আমাদের সংবাদ পরিবেশন করেন। তাদের কষ্টের কথা আমরা অনেকে বিবেচনা করি না। অথচ তারা সমাজ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশের বহুজাতিক কোম্পানীগুলোকে এখানকার সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেয়ার অনুরোধ জানান।
ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার ইসলাম বলেন, নিউইয়র্কে সাংবাদিকতার যে সংজ্ঞা দেয়া হয় তা মূল সাংবাদিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এখানে একা সম্পাদককেই সমস্ত কাজ করতে হয়। এ জন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের কমিউনিটির প্রচার ও প্রসারের জন্য যে কাজ করছেন তা অনবদ্য।
নাঈম খান বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকলে আমাদের ভালো লাগবে।
মঈনুদ্দিন নাসের বলেন, কমিউনিটি সংবাদপত্র ছাড়া অন্যান্য মিডিয়া টিকবে বলে আমি মনে করি না। অগ্রবর্তী ধারার সাথে সম্পৃক্ততার জন্য সাধারণ মানুষ একমাত্র কমিউনিটি সংবাদপত্রের উপর নির্ভশীল। তাই তাদের দায়িত¦বোধ আরো বাড়ানোর অনরোধ জানাই।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন কৃষ্ণা তিথি, শাহ মাহবুব ও বিউটি দাস। নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, সুধীজন, পেশাজীবী ও সংস্কৃতি কর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘বাতিঘর’ নামে একটি দৃষ্টিনন্দন ম্যাগাজিন বের করা হয়।
সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০১ মে ২০১৭ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >

লগইন বক্স






পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
সদস্য হতে চাইলে রেজিস্টার করুন

A professional services and  IT training firm.
 
  

 DETAILS 

 

 Details

Details 

Details 

 Click here for details

 

 Details 

  Details

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 অন্যান্য পত্রিকা



 


 

 

বাচিক শিল্পী কাজী আরিফের সাথে একটি অনন্য সন্ধ্যা


আমেরিকাতে এখন গ্রীষ্মের শেষ লগ্ন। হেমন্তের (ফল)এর আগমনীর প্রাক্কালে সেদিনের অপরাহ্নটি ছিল সিগ্ধ শ্যামল। গত ১১ই সেপ্টেম্বরের  এমনি এক সোনালী রোদেলা বিকেলে
ভার্জিনিয়া রাজ্যের  স্টারলিংস্থ সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল দেশ বরণ্য আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের আবৃত্তি সন্ধ্যা।

বিস্তারিত ...
 

২রা এপ্রিল শংকর চক্রবর্তীর মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা


আগামী ২রা এপ্রিল  রবিবার  বিকেল চারটায় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ কমফোর্ট ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে  বরণ্য  নজরুল গীতি, গজল এবং হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গানের গুনী  শিল্পী  শংকর চক্রবর্তীর একক  সংগীতানুষ্ঠান। সঙ্গত আর সংগীতের অসাধারণ ঐকতানে শংকর চক্রবর্তীর এই মনোজ্ঞ সংগীতের আসরটি  বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাবে সাজানো হচ্ছে। দর্শক শ্রোতারা দারুন ভাবে উপভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিস্তারিত ...
 

কি কখন কোথায়


No events

মতামত জরিপ

Why do you visit News-Bangla
 
 
Free Joomla Templates