News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২৩ অগাস্ট ২০১৭, বুধবার      
মূলপাতা
দেশ বিক্রি করার প্রচারণার নেপথ্য উপাখ্যান প্রিন্ট কর
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী   
বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৭
স্লোগানটির বয়স ষাট-সত্তর বছর পেরিয়ে গেছে। এটাকে এখন ফসিল বলা চলে। একুশ শতকে এই ধরনের বস্তাপচা স্লোগানের টিকে থাকার কথা নয়, জনমনে কোন আবেদন থাকারও কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশে একটি মহলে সেøাগানটি চমৎকারভাবে বেঁচে আছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে। যে মহলটি স্বাধীনতার আগে স্লোগানটি ব্যবহার করতেন তারা পরিচিত ছিলেন সাম্প্রদায়িক মুসলিম লীগ নামে। সাপ যেমন একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর খোলস পাল্টায়; বাংলার স্বাধীনতার পর মুসলিম লীগও তেমনি খোলস পাল্টেছে। এর নাম এখন বিএনপি। ভারতে এককালের হিন্দুত্ববাদী দল হিন্দু মহাসভা যেমন নাম ও খোলস পাল্টে হয়েছে বিজেপি। বাংলাদেশে তেমনি মুসলিম লীগপন্থীরা নাম ও খোলস পাল্টে হয়েছে বিএনপি। মুসলিম লীগের একই চরিত্র এবং একই বুলি বিএনপিরও।
তৎকালীন বাংলাদেশ বা পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার রাজনৈতিক নেতা এবং দলগুলোকে মুসলিম লীগ নেতারা নাম দিয়েছিলেন ভারতের চর। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যার নেতৃত্বে ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম লীগ সাধারণ নির্বাচনে জয়ী না হলে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হতো না, তাকে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, "He (Suhrawardy)is a Mad Dog Let Loose By India" (সোহরাওয়ার্দী ভারতের লেলিয়ে দেয়া পাগলা কুকুর)।
মওলানা ভাসানী, যার অক্লান্ত পরিশ্রমে সিলেটের গণভোটে অসম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সিলেট পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়, সেই ভাসানীকে মুসলিম লীগ শাসকরা আখ্যা দিয়েছিলেন ‘ভারতের তাঁবেদার মওলানা’ ১৯৫৫ সালে মওলানা বিদেশে থাকাকালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গবর্নর মেজর জেনারেল ইসকান্দার মির্জা হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, দেশে ফিরলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে। বৃদ্ধ বয়সে এবং অসুস্থ শরীরেও তাকে মুসলিম লীগের শাসকদের দ্বারা নির্যাতিত হতে হয়েছে এবং জেলে দীর্ঘদিন কাটাতে হয়েছে।
মুসলিম লীগ ও তার সরকারের হাতে শেরে বাংলা ফজলুল হককে পর্যন্ত নির্যাতিত হতে হয়েছে। এই শেরে বাংলাই ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাকেই বলা হলো ভারত ও হিন্দুর দালাল। বলা হলো তিনি ট্রেইটর বা বিশ্বাসঘাতক। ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে হক-ভাসানীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট বিশাল বিজয় লাভ করে এবং যে সেøাগানটি নিয়ে আমাদের এই আলোচনার সূত্রপাত সেই সেøাগানটি তার বিরুদ্ধেও উচ্চারিত হয়। মুসলিম লীগাররাই এই সেøাগানটি তোলে। সেøাগানটি হলো, হক সাহেব পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হলে ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দেবেন।
এই অভিযোগের জবাবে শেরে বাংলা একটি দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেওয়ার আগে তিনি করাচীতে (করাচী তখন পাকিস্তানের রাজধানী) গিয়েছিলেন তখনকার গণপরিষদের সদস্য হিসেবে তার অধিবেশনে যোগ দিতে। সেখানেও মুসলিম লীগ দলীয় সদস্যরা অভিযোগ তুললেন, ‘হক সাহেব পূর্ব পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় বসলে ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দেবেন, এই মিথ্যা অভিযোগটি শুনতে শুনতে বৃদ্ধ জননায়ক এতটাই বিরক্ত হয়েছিলেন যে, তিনি গণপরিষদের ওই বৈঠকেই আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে মুসলিম লীগ দলীয় সদস্যদের দিকে চেয়ে খাস বরিশালের গ্রাম্য ভাষায় বলেছিলেন, ‘চোরার পুত চোরারা, দেশটারে লুইট্যা পুইট্যা খাইয়া আর কিছু রাখছোস যে বেইচ্যা দুইটা পয়সা পাইমু?’ অর্থাৎ দেশটারে লুটেপুটে খেয়ে কিছু আর রেখেছ যে, বিক্রি করে দুটা পয়সা পাব। এই কড়া জবারের মুখে মুসলিম লীগ দলীয় বাঙালী সদস্যরা নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন।
পুরনো দিনের এসব কথা মনে পড়লে, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে ভারতের সঙ্গে কয়েকটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর শেষে দেশে ফেরার সময় আবার সেই পুরনো ও বাসি হয়ে যাওয়া দেশ বিক্রির সেøাগানটির উচ্চারণ শোনে। অতীতের এই সেøাগানটির এখন নবজাগরণ ঘটেছে বাংলাদেশে মুসলিম লীগের উত্তরসূরি বিএনপির নেতানেত্রীদের কণ্ঠে। বাংলাদেশের মানুষের এমন একজন নেতা নেই, যাদের এই মুসলিম লীগ দল ও তাদের সাম্প্রদায়িক সহমতাবলম্বীরা ভারতের ও হিন্দুদের দালাল আখ্যা দেয়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেনি। হক সাহেব থেকে ভাসানী পর্যন্ত কোন জননেতা মুসলিম লীগ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর এই কদর্য আক্রমণ থেকে রক্ষা পাননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তো একই অভিযোগে আগরতলা মামলায় ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই পুরনো, পচা সেøাগান এখন তোলা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। বেগম খালেদা জিয়া এবং তার সঙ্গে তার দলের নেতা ও পাতি নেতারা পর্যন্ত বলতে শুরু করেছেন, দিল্লি চুক্তি দ্বারা শেখ হাসিনা ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়ে এসেছে। কোন তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই। বিএনপি নেতাদের হাতে তা নেইও। তাই পচা ও বাসি সেøাগানের রাজনীতি আবার তাদের করতে হচ্ছে। কোন সুস্থ ও সঠিক কর্মসূচী তাদের হাতে না থাকায় এই পচা সেøাগানের রাজনীতি তাদের একমাত্র সম্বল।
দেশ বিক্রি করার সেøাগান বেগম খালেদা জিয়া কতবার দিলেন তার একটা পরিসংখ্যান তৈরি করলে দেখা যাবে, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকে দেশের যত জটিল সমস্যার মীমাংসা করেছেন, তার প্রত্যেকটিতে বেগম জিয়া দেশ বিক্রি করে দেওয়ার সেøাগানটি তুলেছেন। ফারাক্কা বাঁধ সমস্যায় বিএনপি ও এরশাদের জাতীয় পার্টি মিলে তাদের একুশ বছরের রাজত্বকালে ভারতের কাছ থেকে গঙ্গার এক ফোঁটা পানি আদায় করতে পারেননি। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ত্রিশ বছর মেয়াদী চুক্তি করে ত্রিশ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার ব্যবস্থা করতেই খালেদা জিয়া চিৎকার শুরু করেছিলেন, ‘এই চুক্তি ভারতের কাছে দাসখৎ বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়নি।’
ত্রিশ বছর ধরে জিয়াউর রহমানের দ্বারা সৃষ্ট পার্বত্য অঞ্চলের যুদ্ধ বাংলাদেশের যেমন রক্তক্ষয় তেমনি অর্থক্ষয় ঘটাচ্ছিল। তার অবসান ঘটিয়ে হাসিনা সরকার শান্তি চুক্তি করতেই বিএনপি-নেত্রী চিৎকার জুড়েছিলেন, ‘বাংলাদেশের এক-দশমাংশ ভারতের কাছে বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পার্বত্য এলাকায় যেতে ভিসা নিয়ে যেতে হবে।’ বাস্তবে এই পানি চুক্তি ও শান্তি চুক্তি দুটি চুক্তিরই সুফল ভোগ করছে বাংলাদেশের মানুষ। তারপর স্থলসীমান্ত চুক্তি, ছিট মহল চুক্তি, সমুদ্র সীমানা নিয়ে মামলায় জয়, প্রভৃতি বাংলাদেশকে সমস্যা মুক্ত করার ব্যাপারে হাসিনা সরকারের এক ঐতিহাসিক সাফল্য।
অতীতে কংগ্রেস সরকারের আমলে এবং বর্তমানে বিজেপি সরকারের আমলে সম্পাদিত চুক্তিগুলোর সুফল ও বাংলাদেশ ভবিষ্যতে দীর্ঘকাল ধরে ভোগ করবে। তখনও বিএনপির নেতানেত্রীরা হয়ত বলবেন, ‘ছেলে চাকরি পেয়েছে বটে, তবে বেতন পাবে না,’ খালেদা জিয়া বার বার চিৎকার করেন, শেখ হাসিনা ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন। বাস্তবে শেখ হাসিনা দু’দেশের মধ্যে সমমর্যাদার ভিত্তিতে যে চুক্তিগুলো করেছেন, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এই চুক্তি দ্বারা দু’দেশই বিপুলভাবে উপকৃত হবে। তিস্তা চুক্তি এবার হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে অবশ্যই হবে। গঙ্গার পানির হিস্যা হাসিনা সরকার আদায় করতে পেরেছেন। তিস্তার পানির হিস্যাও তারাই আদায় করতে পারবেন।
ভারতের কাছ থেকে দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের সাফল্যটা কি? ছিটমহল চুক্তি তো স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারের আমলে। খালেদা সরকার তো দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে বা চাপ সৃষ্টির দ্বারা সেই চুক্তি বাস্তবায়নে দিল্লীকে রাজি করতে পারলেন না কেন? বঙ্গবন্ধুর সরকারের আমলে সম্পাদিত চুক্তি দীর্ঘকাল পর বাস্তবায়িত হলো তার কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের আমলে। বিএনপি সরকার কেন ভুল সীমান্ত নির্ধারণের চুক্তি করতে পারেনি? পার্বত্য শান্তি চুক্তির ব্যবস্থা করতে পারেনি? বরং পাকিস্তানের স্বার্থে ও নির্দেশে যুদ্ধ জিইয়ে রেখেছিল?
দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা-সমাধানের চুক্তি দ্বারা দুটি দেশই সমানভাবে লাভবান না হতে পারে। কিন্তু তাতে দেশ বিক্রি হয়ে যায় না। তবে বিক্রির কথা যদি ওঠে, তাহলে বিএনপি সরকারই কি পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশকে দীর্ঘকাল ইজারা দিয়ে রাখেনি? পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সবচেয়ে বড় ঘাঁটি তৈরি করেছিল বাংলাদেশের মাটিতে। এই ঘাঁটি থেকে ভারতের পার্বত্য এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ট্রেনিং, অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দ্বারা বাংলাদেশের কাঁধে বন্দুক রেখে কি পাকিস্তানকে প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে দেয়া হয়নি?
পাকিস্তানের সঙ্গে বিএনপি সরকারের দহরম মহরম ছিল প্রকাশ্যে। বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানে আমন্ত্রণ জানিয়ে ইসলামাবাদে নিয়ে এমন বিশাল অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল, যা কোন দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও জানানো হয়নি। পাকিস্তানের সঙ্গে এত ‘বৈষ্ণব প্রেমের’ পরও তাদের কাছ থেকে আমাদের বিশাল পাওনা এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগের যৌথ এসেটের ভাগ কেন আদায় করতে পারলেন না বেগম জিয়া! বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মাহুতি দিয়েছে ২০ হাজার ভারতীয় সৈন্য। আর পাকিস্তানীরা বাংলাদেশে হত্যা করেছে ৩০ লাখ নর-নারী। খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে তার প্রাণপ্রতীম পাকিস্তানী জেনারেলদের কাছ থেকে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা দূরের কথা, একটা ‘সরি’ শব্দ পর্যন্ত আদায় করতে পারেননি। কিন্তু তিনি এক পাকিস্তানী সেনা-কর্মকর্তার মৃত্যুতে (বাংলাদেশে গণহত্যার নায়ক) নিজে শোকচিহ্ন ধারণ করে পাকিস্তানে শোকবার্তা পাঠিয়েছিলেন। উপরে থুথু ছুড়ে মারলে তা যে নিজের চোখে-মুখে পড়ে তা কি বেগম জিয়া জানেন না?
ভারতের সঙ্গে দাস চুক্তি করলে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিল্লীতে যে অভূতপূর্ব সংবর্ধনা পেয়েছেন, তা পেতেন না। রাষ্ট্রপতি ভবনেই তাকে থাকতে দেয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং বিমানবন্দরে ছুটেছিলেন শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাতে। বাংলাদেশ ছোট দেশ। কিন্তু বড় দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের নেত্রীকে সমমর্যাদার ভিত্তিতে গ্রহণ করেছে ভারত। আর এক্ষেত্রে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাইয়ের কাছে নিজের সম্মান খুইয়ে দেখা করতে ছুটে গিয়ে কি নজির রেখে গেছেন?
লন্ডনে তখন কমনওয়েল সম্মেলন উপলক্ষে মোরারজী দেশাই এবং জিয়াউর রহমানও যান। ভারতের স্বীকৃতি ও সহযোগিতা লাভের জন্য জিয়াউর রহমান দেশাইয়ের সাক্ষাতপ্রার্থী হন। জিয়াউর রহমান তার দেশের প্রেসিডেন্ট এবং মোরারজী দেশাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী। প্রোটোকল অনুযায়ী এক দেশের প্রধানমন্ত্রী যাবেন অন্য দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে। এক্ষেত্রে ঘটল উল্টো। মোরারজী দেশাই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সাক্ষাতদানে সময় দিতে না পারায় জিয়াউর রহমানকেই দেখা গেল দেশাইয়ের হোটেলে ছুটে গিয়ে ভিজিটার্স রুমে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করতে।
এই ব্যাপারে লন্ডনের এক দৈনিকের রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়েছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আকুল আগ্রহে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শুধু প্রোটোকল ভাঙেননি; মুজিব হত্যার পর তার সরকারকে ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রকাশ্যে নতজানু নীতি গ্রহণের দ্বিধা করেননি। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের আরেক সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল এরশাদও ভারতের আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার আকুল আগ্রহে বিনা আমন্ত্রণে দিল্লী ছুটে গিয়েছিলেন। দেশের মর্যাদা রক্ষা করেননি।
এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো শির উঁচু করে দিল্লী গেছেন এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত সম্মান ও মর্যাদা পেয়েছেন। ১৯৭২ সালেও বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানাতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দিল্লীর বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন। আর জিয়াউর রহমান ও এরশাদ এই দুই ফৌজি প্রেসিডেন্ট দিল্লী গেলে ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে এসেছিলেন কি? এমনকি সে দেশের প্রেসিডেন্ট? আর নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঢাকায় এলে খালেদা জিয়াকে তো তদ্বির করে দেখা করতে হয়েছিল।
হাসিনা নিজের যোগ্যতাতেই বিদেশে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করছেন। মিথ্যা প্রচারণা দ্বারা বিএনপি দেশের এই সম্মানকে খাটো করতে পারবেন।
সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৭ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >

লগইন বক্স






পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
সদস্য হতে চাইলে রেজিস্টার করুন

A professional services and  IT training firm.
 
  

 DETAILS 

 

 Details

Details 

Details 

 Click here for details

 

 Details 

  Details

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 অন্যান্য পত্রিকা



 


 

 

বাচিক শিল্পী কাজী আরিফের সাথে একটি অনন্য সন্ধ্যা


আমেরিকাতে এখন গ্রীষ্মের শেষ লগ্ন। হেমন্তের (ফল)এর আগমনীর প্রাক্কালে সেদিনের অপরাহ্নটি ছিল সিগ্ধ শ্যামল। গত ১১ই সেপ্টেম্বরের  এমনি এক সোনালী রোদেলা বিকেলে
ভার্জিনিয়া রাজ্যের  স্টারলিংস্থ সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল দেশ বরণ্য আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের আবৃত্তি সন্ধ্যা।

বিস্তারিত ...
 

২রা এপ্রিল শংকর চক্রবর্তীর মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা


আগামী ২রা এপ্রিল  রবিবার  বিকেল চারটায় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ কমফোর্ট ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে  বরণ্য  নজরুল গীতি, গজল এবং হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গানের গুনী  শিল্পী  শংকর চক্রবর্তীর একক  সংগীতানুষ্ঠান। সঙ্গত আর সংগীতের অসাধারণ ঐকতানে শংকর চক্রবর্তীর এই মনোজ্ঞ সংগীতের আসরটি  বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাবে সাজানো হচ্ছে। দর্শক শ্রোতারা দারুন ভাবে উপভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিস্তারিত ...
 

কি কখন কোথায়


No events

মতামত জরিপ

Why do you visit News-Bangla
 
 
Free Joomla Templates