News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২৭ এপ্রিল ২০১৭, বৃহস্পতিবার      
মূলপাতা
অন ইওর মার্কস, গেট, সেট, গো! প্রিন্ট কর
নাজমা রহমান, মেরিল্যান্ড   
বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০১৭

জেফারসন মেমোরিয়েলের শুভ্র ছায়া থিরথিরিয়ে কাঁপছে টাইডেল বেসিনের নীল জলে। তার পাশ ঘেঁষে ধনুকের মত বাঁকা হয়ে চলে গেছে পথটা। দুই পাশে চেরি ফুলের গাছ। একটা ঝাঁকড়া গোলাপি ফুলভরা গাছের নিচে বসে আছে মেয়েটি। দূর থেকে ওকে দেখে আমি   থমকে দাঁড়ালাম। মেয়েটির পরনে গোলাপি কিমনো। হাতে রঙিন পাখা। কুঁচকুঁচে কালো চুলে উঁচু খোঁপা বাঁধা। আরেক হাতে একটি ছোট্ট আয়না। মুখের সামনে ধরে আছে আয়নাটা। মোমের মূর্তির মত ছবি হয়ে বসে আছে মেয়েটি। ব্যাপার কি?   ব্যাপার আসলে কিছুই না। একদল জাপানী তরুণ তরুণী বেড়াতে এসেছে। হুল্লোড় করে একজন আরেকজনের ছবি তুলছে। আজ ছুটির দিন। দেশী বিদেশী দর্শনার্থীর ভিড়ে গমগম করছে চারিদিক। ব্লুম ওয়াচে আসা প্রতিটি মানুষেরই হাতে ক্যামেরা অথবা ফোন। ক্যামেরার শাটার পড়ছে ক্ষণে ক্ষণে। ক্লিক ক্লিক শব্দ উঠছে ফোনে। সবাই ছবি তুলছে। ফুলের পাশে। গাছের ধারে। জলের পারে। তাল গাছের মত লম্বা ওয়াশিংটন মনুমেন্টকে পিছনে রেখে।

টাইডেল বেসিনের তীর ঘেঁষা তিরিশ মাইল পথের দু’পাশ আলো করে  রেখেছে হাজার হাজার চেরি ফুলের গাছ। চারিদিকে শুধু ফুল আর ফুল। ধবধবে সাদা আর ফিকে গোলাপি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন পেঁজা পেঁজা মেঘে জমেছে জলের ধারে।   

স্প্রিং ইজ ইন দ্যা এয়ার।
প্রথম বসন্তের নাগর-দোলায় দুলছে এখন গোটা আমেরিকা। উষ্ণতার পারদ এই উপরে তো এই নিচে।
কখনো বৃষ্টি কখনো রৌদ্র। আজ যদি সোনালী রোদের কুসুম গরমে ভেসে যায় দিগন্ত তবে কালই শীতল বাতাসের মৃদু ঝাপটায় হালকা সুয়েটার উঠে গায়ে।   
তা উঠুক।  
তবু এরি মাঝে এসে গেছে বসন্ত।  
 
বসন্ত এসেছে বলেই যে সব গাছে ফুল ফুটে গেছে তা কিন্তু নয়। চেরি বা চেরি জাতীয় কিছু গাছ ছাড়া আর কারো এখনো খবর নেই।
সবে প্রান ফুটছে পথের ধারের তৃণ লতা বৃক্ষ গুল্মে। বন বনানী জুড়ে অপার শুন্যতা। পাইন, ফার, ম্যাপল, হিকারি, ওক, বার্চ, উইলো, পপলার, প্লাম, এঞ্জেলিকা, হ্যাজেলনাট, এল্ম, হেমলক আর ম্যালবারি অরন্যে হু হু শুন্যতা।  
পথে নামলে আমি সেই শুন্যতায় চোখ রাখি। মনে মনে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার চরণ আওড়াই –  
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত
সান-বাঁধানো ফুটপাতে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে   
হাসছে।
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।
 
আমাদের এই ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বিশালাকায় গাছগাছালির কেউই অবশ্য পাঁজর ফাটিয়ে হাসছেনা। ওরা সবাই এখনো ঘুমে।  
ঘুমন্ত রাজপুরির ঘুম ভাঙ্গাবে বলেই ছুটে এসেছে এক রাজার কুমার। ঋতুর রাজা বসন্ত।
ঋতুর রাজা বলেই কথা।
সপ্তাহ দুয়েক আগে যেদিন সে প্রথম এলো তখনো চারিদিকে খা খা শুন্যতা। গভীর ঘুমে তলিয়ে ছিল শহর বন্দর গ্রাম।
সে এলো।
তার চরন স্পর্শে ঝলকে উঠল জীবন। দিগন্ত জোড়া রিক্ততার মাঝেও চলকে পড়ল আলোর ঝলক।  
পাণ্ডুর চোখ মেলে প্রকৃতি বলল, সে এসে গেছে।
দিকে দিকে জ্বলে উঠল সবুজ সংকেত।
বসন্ত রাজ উচ্চ স্বরে ডাক দিলো  – অন ইওর মার্কস, গেট সেট, গো!  
ধড়মড়িয়ে উঠে বসল পৃথিবী।   
শুরু হয়ে গেল তার দৌড়। মৃত জগতে জীবন ফিরে পাবার দৌড়।  শীতল থেকে উষ্ণতা।
শান্ত থেকে কোলাহল।
প্রকৃতির কি আশ্চর্য লীলা!
প্রতি প্রভাতেই দুয়ার খুলে আমরা দেখি নিত্য নতুন চমক।            
   
সে আসা মাত্রই,   
এক সকালে জানালায় দাঁড়িয়ে দেখি, বাগানের নেড়া গাছটায় চেরি ফুলের ফিকে গোলাপি ঢল নেমেছে। কি মায়াবী! কি মায়াবী!
ঘর ছেড়ে পথে নামতেই আবারো চমক।   
অরোরা হিলস এর পথে পথে চেরি (অথবা চেরি সমগোত্রীয়) ফুলের উপচে পড়া হাসি। আমি অবাক হয়ে ভাবি কখন এরা এমন সদলবলে ফুটল! চোখে পড়েনিতো আগে!  
 
আচমকা ফুটে ওঠা এই চেরি ফুলের সমারোহ ঘিরেই শুরু হয়ে গেছে মাস ব্যাপি ‘ন্যাশনেল চেরি ব্লসম ফেস্টিভ্যাল’।   
ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো (ডিসি, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া) এলাকার বসন্ত আবাহন।
১৯১২ সালে ৩০০০ চেরি ফুলের চারা গাছ এসেছিল জাপান থেকে। আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। শুভেচ্ছা ও বন্ধুত্বের অঙ্গীকার। ভালোবাসার নিদর্শণ।   
এই সেই গাছ।
প্রায় শত বছরের ইতিহাস।
আজো তারা সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। জলের কল্লোল নিয়ে বয়ে যাওয়া টাইডেল বেসিনের তীর ঘেঁষা তিরিশ মাইল দীর্ঘ পথের পাশটা আলো করে।

প্রতি বছর বসন্ত এলেই সবগুলো গাছ একসাথে সাদা আর গোলাপি ফুলে ফুলে ভরে যায়। ফুলতো নয় যেন আঁকাবাঁকা মেঘের দল।
ফুলের সমুদ্র।  
কত দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে মানুষ। শুধু নিজের চোখে এই আশ্চর্য পুস্প সমাহার দেখবে বলে।
আমেরিকার নানা প্রান্ত আর সারা পৃথিবীর পর্যটকে গমগম করে উঠে  ওয়াশিংটন ডিসির পথঘাট।   
 
এখনি সেই সময়।
‘ন্যাশনেল চেরি ব্লসম ফেস্টিভ্যাল’ এর আনন্দে উদ্বেল আমেরিকার রাজধানী শহর।
বসন্তের ডাক শুনে সবার আগে পাপড়ি মেলেছে চেরি ফুল। শীতের হিমেল শিকল ভেঙ্গে বেরিয়ে এসেছে চেরি ব্লসমের মায়াবী হাসি।
এ এক যাদুকরী সময়!
অপলক তাকিয়ে থাকার লগণ!    
চেরি ফুলের হাসির লহরে লহরে লুটিয়ে পড়ছে বসন্তের সেই মহার্ঘ ক্ষণ, যখন মৃত গাছেরা ফিরে পায় জীবন।
অবাক হয়ে এই অকল্পনীয় দৃশ্য দেখছে পর্যটকেরা।    
আমরা মেট্রো ওয়াশিংটন বাসিরাও দেখছি।
দেখছি    
     দেখছি
          আর দেখছি .....    
পাখিরা ফিরে এসেছে। শীষ দিয়ে গাইছে গান।
আলতো হাতে একের পর এক মাঠ জুড়ে কেউ বিছিয়ে দিচ্ছে সবুজ ঘাসের কোমল গালিচা।
সবুজ পাতার কুঁড়িতে সেজে উঠছে পথের পাশের গাছগুলি। আজ সকালে দেখেছি কাঁচা সবুজের ঢল নেমেছে ছোট মাঝারি আকারের  গাছের গায়ে। কি যে সতেজ  দেখাছে মাত্র ক’দিন আগের জীর্ণ মৃত গাছগুলিকে।    
বনের ভিতর বইছে উতলা বাতাস।
যে কোন দিনই আচমকা পত্রপল্লবে ঢেউ তুলে অপরূপা হয়ে যাবে বন বনানী্র দীঘল বৃক্ষ সারি। সবুজের মাতাল ঢেউয়ে ডুবে যাবে বসুন্ধরা।  
পূর্ণতার সাগরে আকণ্ঠ প্লাবিত হবে প্রকৃতি।
তারপর?   
ঘর-বাড়ি, অফিস আদালত, দোকান-পাট, মাঠঘাট, পথ-প্রান্তর, পাহাড়, অরন্য, নদীর তীর, এখানে ওখানে সবখানে ফুটে উঠবে রঙীন ফুল। লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি।
থরে থরে আলোর থোকার মত ফুটবে ডেফডিল, টিউলিপ, গোলাপ, এস্টার, পিওনিজ, রুবিস্টার, প্যান্সি, লিলি, হাইড্রেনজা, অ্যাজালিয়া, লাইলাক। জানা অজানা হাজার লক্ষ অযুত নিযুত ফুল।
যে দিকে চোখ যাবে শুধু ফুল আর ফুল।
দিগন্ত জোড়া ফুল।
যেন আকাশের সব তারা ঝাঁকে ঝাঁকে লুটিয়ে পড়েছে সবুজ ঘাসের জমিনে।
মাটির পৃথিবী সেদিন কি আর মাটিতে রবে!   
রবেনা, রবেনা, রবেনা,   
আমাদের মুগ্ধ চোখে মায়ার অঞ্জন পরিয়ে সে ডানা মেলে উড়ে যাবে।   কোন এক আনন্দধামে।
রূপে রঙে
হাস্যে লাশ্যে অপরূপা।     
আমরা সবাই ফুলের বনে ঘুরে ঘুরে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ এর অমর কবিতারই প্রতিধ্বনি শুনবো –
I wandered lonely as a cloud
That floats on high o'er vales and hills,
When all at once I saw a crowd,
A host, of golden daffodils;
Beside the lake, beneath the trees,
Fluttering and dancing in the breeze.

 
সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০১৭ )
 

Add comment


Security code
Refresh

পরে >

লগইন বক্স






পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
সদস্য হতে চাইলে রেজিস্টার করুন

A professional services and  IT training firm.
 
  

 DETAILS 

 

 Details

Details 

Details 

 Click here for details

 

 Details 

  Details

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 অন্যান্য পত্রিকা



 


 

 

বাচিক শিল্পী কাজী আরিফের সাথে একটি অনন্য সন্ধ্যা


আমেরিকাতে এখন গ্রীষ্মের শেষ লগ্ন। হেমন্তের (ফল)এর আগমনীর প্রাক্কালে সেদিনের অপরাহ্নটি ছিল সিগ্ধ শ্যামল। গত ১১ই সেপ্টেম্বরের  এমনি এক সোনালী রোদেলা বিকেলে
ভার্জিনিয়া রাজ্যের  স্টারলিংস্থ সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল দেশ বরণ্য আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের আবৃত্তি সন্ধ্যা।

বিস্তারিত ...
 

২রা এপ্রিল শংকর চক্রবর্তীর মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা


আগামী ২রা এপ্রিল  রবিবার  বিকেল চারটায় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ কমফোর্ট ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে  বরণ্য  নজরুল গীতি, গজল এবং হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গানের গুনী  শিল্পী  শংকর চক্রবর্তীর একক  সংগীতানুষ্ঠান। সঙ্গত আর সংগীতের অসাধারণ ঐকতানে শংকর চক্রবর্তীর এই মনোজ্ঞ সংগীতের আসরটি  বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাবে সাজানো হচ্ছে। দর্শক শ্রোতারা দারুন ভাবে উপভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিস্তারিত ...
 

কি কখন কোথায়


No events

মতামত জরিপ

Why do you visit News-Bangla
 
 
Free Joomla Templates