News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

১৭ অক্টোবর ২০১৭, মঙ্গলবার      
মূলপাতা
সরল উক্তি সহজ মত... প্রিন্ট কর
স্বপন কুমার সাহা   
বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০১৭

গণমানুষের জন্যই গণতন্ত্র
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রাচীন গ্রীসে গণতান্ত্রিক ধারণার সূচনা হলেও আঠারো শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বে আধুনিক গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে গণতন্ত্র। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্রই এর বিকাশ ঘটেছে। গণতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষ তথা জনগণ তার নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যথার্থ অর্থে জনগণের মধ্যে থেকে এবং জনগণের দ্বারা জনগণের জন্য সরকারই হচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকার।  গণতন্ত্র হলো জনগণ পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। অর্থাৎ গণতন্ত্র হলো সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণই নির্ধারণ করে কারা ক্ষমতায় থাকবে। এক কথায় জনগণই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তিমূল। এখানে ‘গণ’ তথা জনগণই হলো পুরো শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকর্ষণের অনেক কারণ আছে। গণতন্ত্র শাসন কাঠামোতে জনমানুষের স্থান আছে এবং তাদের প্রতিনিধিত্বের বক্তব্য আছে। শাসিতের কাছে শাসক শ্রেণি দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল ও দায়বদ্ধ থাকে। তাতে আইনের শাসন, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি থাকে। গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় জবাবদিহিতার গুরুত্ব অপরিসীম। জবাবদিহিতাবিহীন সমাজে স্বৈরাচারী মনোভাব, অনৈতিকতা, একচ্ছত্র প্রভুত্ববাদী, দুর্নীতির শিকড় গেড়ে বসে। আমলারা লাগামহীন ক্ষমতার চর্চা করেন। তাই জবাবদিহিতা মজবুত হলে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ঘটে, সুশাসন নিশ্চিত হয়। জনগণই যে সব ক্ষমতার উৎস এ ধারণাটি বাস্তব বলে বিবেচিত হয়। সরকার তথা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের মৌলিক চাহিদাবলি মেটানোতে সরকার সচেষ্ট থাকে। দুর্নীতি, অরাজকতা, অস্বচ্ছতা, অনৈতিকতা স্থান পায় না। জনগণের অর্থ সঠিক ও কল্যাণমূলক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। জনগণ সবসময়ই জানতে পারে সরকার কখন কী করছে। অর্থাৎ সরকার ইচ্ছা করলেই স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারে না।
গণতন্ত্রের সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বজনবিদিত সংজ্ঞা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন। তার বিখ্যাত উক্তি ‘ডেমোক্র্যাসি ইজ ফর দ্য পিপল, অব দ্য পিপল অ্যান্ড বাই দ্য পিপল’। যা গণতান্ত্রিক ধারণার সর্বোৎকৃষ্ট অনুভূতি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আব্রাহাম লিঙ্কনের এ সংজ্ঞা অনুযায়ী, গণতন্ত্র হলো সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণই হলো রাষ্ট্রক্ষমতার মূল ভিত।
আব্রাহাম লিংকনের সংজ্ঞায় আরও বোঝা যায়- জনগণের জন্য যা কল্যাণ তাই হলো গণতন্ত্র। এক্ষেত্রে আমরা জনগণের অধিকারকেই মনে করি। আর জনগণের অধিকার বলতে- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য- এই পাঁচটি মৌলিক চাহিদাই হলো প্রধান।
জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতায় যাওয়ার মেন্ডেট পেতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। আর নির্বাচনে জয় পাওয়ার জন্য জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। আর ক্ষমতায় যাওয়ার পর যখন তারা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বদলে ভিন্ন আচরণ করে তখন মানুষের মধ্যে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়। তখন গণতন্ত্রের ভিন্ন অর্থও প্রকাশিত হয়। এ কারণে গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
বাংলাদেশের জনগণের কাছেও গণতন্ত্রের আবেদন অত্যন্ত আকর্ষণীয়। গণতান্ত্রিক আদর্শ দ্বারা বাঙালি বরাবর উদ্বুদ্ধ হয়েছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সৈনিক রূপে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অনেক ত্যাগ স্বীকারও করেছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে।
আমরা লক্ষ্য করেছি, ব্রিটিশ শাসন থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নানাভাবে পূর্বপাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা চালায়। ওই শাসকগোষ্ঠী সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভাষা বাংলার ওপর স্বল্পসংখ্যক জনগোষ্ঠীর উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করে। যা ৫২’র ফেব্রুয়ারিতে বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রতিহত করে। এরপর বিভিন্ন সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্বপাকিস্তানের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন হয়েছিল। ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালে আইয়ুবরিরোধী গণঅভ্যুত্থান ছিল সাড়া জাগানো আন্দোলন। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈর সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন হয়। এরপর ক্ষমতা গ্রহণ করেন আরেক সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান। জনগণের দাবির মুখে ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে বাধ্য হয়। এই নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের (বাংলাদেশ) সব আসনে (দুটি বাদে) বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। যদিও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন হওয়ার পথ রুদ্ধ করে। আর এসব অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে এই বাংলার মানুষ অগ্নিমন্ত্রে সোচ্চার হয়ে ওঠে। গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল হয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামী ভূমিকা পালন করতে থাকে।
 ধীরে ধীরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। যে চেতনার মূলমন্ত্র জাগ্রত করেছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি ১৯৭১-এর ৭ মার্চে ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম... বজ্র কণ্ঠে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তার সেই অমর ঘোষণায় উজ্জীবিত হয় বীর বাঙালি।  স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় উত্তাল তখন বাংলাদেশ। পাকবাহিনী ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অস্ত্র চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে। এমনি পারিস্থিতিতে ২৫ মার্চ মধ্যরাতের আগে ইপিআরে টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। আর ওই কালরাতেই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার জীবনও বিপন্ন হতে পারত। তবে গণমানুষের নিয়মতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে সরে আসেননি তিনি। দীর্ঘ ৯ মাস বাংলার রক্তাক্ত পথে লাখ লাখ প্রাণ বিসর্জন ও অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আমাদের প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।
তাই গণতন্ত্র নিয়ে এ দেশের গণমানুষের অনেক স্বপ্ন। যে স্বপ্নের বীজ বুনেছেন বঙ্গুবন্ধু। বঙ্গবšু¬র কর্মময় জীবনীতে দেখা যায় তিনি সর্বদাই বাঙালি জাতি এবং বিশ্বের নির্যাতিত-শোষিত-মেহনতী মানুষের মুক্তির কথা ভাবতেন। যা প্রতিফলিত হতে দেখা গেছে, তার প্রতিটি কর্মে ও চিন্তায়। ১৯৭৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জোট নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত- শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।’
এখানে ‘শোষিত’ কথাটির মানে দাঁড়ায় অধিকার বঞ্চিত মানুষ। আর শোষিতের পক্ষে থাকা মানে বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। যে মূলমন্ত্রে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন বাঙালির জনক বঙ্গবন্ধু।  তিনি তার সব বক্তৃতায় সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা, মৌলিক অধিকার ও ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার কথা বারবার বলেছেন।
বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত জাতি গঠন, বাংলার গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানো ও সোনার বাংলা গড়াই ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের একমাত্র ব্রত। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য- এই মৌলিক অধিকারগুলো পূরণের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে, বেকারত্ব দূর হবে- সেই ভাবনাই ছিল প্রতিনিয়ত তার মনে ও কর্মে। আর এটাই হল গণতন্ত্র, এটাই হল স্বাধীনতা আর এটাই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যমণ্ডিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার করার জন্যই সারাজীবন ত্যাগতিতিক্ষা, জেলজুলম, অত্যাচার সহ্য করেছেন বঙ্গবন্ধু। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করেই গণতন্ত্রকে লালন করতে পারলেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিক্রম করেছে। এ দীর্ঘ সময়ে গণতন্ত্রের পথে আমরা কতটা এগিয়েছি, তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে গিয়ে বারবার হোঁচটও খেয়েছে দেশ। এরমধ্যে একাধিকবার সামরিক সরকারের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, আবার কখনও বা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি গণতন্ত্রের নামে রাজাকারদের হাতে তুলে দিয়েছে রাষ্ট্রক্ষমতা।
রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ার কাজ করে যাচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু সরকার। কিন্তু দেশবিরোধী ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াশীল চক্র ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যায়। ধ্বংস করে এ দেশের গণতান্ত্রিক নেতা তথা গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষাকে।
দেশে দীর্ঘ সময় চলে সামরিক শাসন। আশির দশকে দুই নেত্রী একসঙ্গে এরশাদের পতনের জন্য আন্দোলন করেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার জন্য দুই দল একত্রিত হয়ে ১৯৯১ সালে সংবিধানও সংশোধন করেন। তারপর কী হলো? ১৯৯১ এর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে ১৯৯৬ সালে দলটি  পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে শুরু করল টালবাহানা। এমনকি ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে তারা একটি সরকারও গঠন করেছিল, যার মেয়াদ ছিল কয়েক সপ্তাহ। প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের ওপর সেটা ছিল অন্যতম বড় চপেটাঘাত। এমনকি ওই নির্বাচনে তারা বঙ্গবন্ধুর খুনি চক্রের সদস্যদের নির্বাচন করার বৈধতা দিয়ে পবিত্র জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
তবে ৯৬ তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ ২০০১ সালে সুষ্ঠুভাবেই ক্ষমতা হস্তান্তর করে। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি একইভাবে ২০০৬ সালেও ক্ষমতা হস্তান্তরে ফের গড়িমসি শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে ক্ষমতা দখল করে তত্ত্বাবধায়ক নামধারী ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সেনা সমর্থিত সরকার। এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তিন চুতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত এ সরকার দেশে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করে। একই সঙ্গে প্রকৃত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করার পর ২০১৪ সালে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। অথচ সেই নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দবিতে অংশগ্রহণ না করে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার নামে দেশে জ্বালও-পোড়ায়ের যে ধংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই চলতে পারে না। দেশের জনগণকে জিম্মি করে তাদের ওই ধরনের আন্দোলন গণতন্ত্রের কোনো সংজ্ঞায়ও পড়ে না। যেটা ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যা দেশে-বিদেশে গণতন্ত্রমনা বিবেকবান মানুষর কাছে নিন্দিত হয়েছে।  
আমাদের স্মরণ আছে, তখনকার বিএনপির আন্দোলন তথা জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতে দেশের বহু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে শতাধিক মানুষ। লাগাতার হরতাল অবরোধে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিল। যথাসময়ে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে না পারায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হারিয়েছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার হুমকি দেয়।
যাই হোক, সেই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সরকার মোকাবিলা করে দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। ইতোমধ্যে সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে দেশের অর্থনৈতিক নানা সূচকে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরেও অভাবনীয় উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।
এ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদান্তে ২০১৯ সালে দেশের ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সবার মুখেই এখন নির্বাচন কেন্দ্রিক আলাপ-আলোচনা। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারাও নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তব্য বিবৃতি দিচ্ছেন। এর মাঝে জনগণও অনেকটা শঙ্কিত, আবারও জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন শুরু হয় কিনা। তবে এ কথা চরম সত্য যে, জ্বালাও-পোড়াও দিয়ে আর যাই হোক অন্তত রাজনীতি হয় না। আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় তো একে মোটেই সমর্থন করে না। দেশের জনগণ, যারা গণতান্ত্রিক মনোভাবে ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দেবে। কিন্তু তাদের জিম্মি করে কিংবা গায়ে আগুন দিয়ে শুধু ক্ষমতায় যাওয়া কখনই সম্ভব নয়। যার প্রমাণ ইতোমধ্যে পেয়েছে বিএনপি। বিগত ধংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বর্তমানে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন যে কোনো সময়ের তুলনায় তলানিতে। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির নানামুখি ব্যর্থতাই এর জ্বলন্ত উদাহরণ।
এদিকে গত জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে যত যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করা অপচেষ্টা হয়েছে, যত মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে কিংবা গুম হয়েছে তার কোনো কিছুরই দায়িত্ব নেয়নি বিএনপি। এর পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গিবাদ মাথাচারা দিয়ে উঠছে। ফলে আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গণতন্ত্র।
এ দেশে আর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও পরিবেশ বিনষ্ট হতে দেয়া যাবে না। গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে এটা শক্ত হাতে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশে যদি ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কিংবা জঙ্গিদের উত্থান ঘটে তবে দেশ আবার প্রতিক্রিয়াশীল ধারায় চলে যাবে- যা কোনোভাবেই আমাদের প্রত্যাশিত নয়। মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির উত্থান ও ষড়যন্ত্র রহিত করার জন্যই এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার প্রয়োজন এবং দেশের উন্নয়নে ও জনগণের কল্যাণে এর কোনো বিকল্প নেই।
 
লেখক : উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বর্তমান।
সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০১৭ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >

লগইন বক্স






পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
সদস্য হতে চাইলে রেজিস্টার করুন

A professional services and  IT training firm.
 
  

 DETAILS 

 

 Details

Details 

Details 

 Click here for details

 

 Details 

  Details

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 অন্যান্য পত্রিকা



 


 

 

বাচিক শিল্পী কাজী আরিফের সাথে একটি অনন্য সন্ধ্যা


আমেরিকাতে এখন গ্রীষ্মের শেষ লগ্ন। হেমন্তের (ফল)এর আগমনীর প্রাক্কালে সেদিনের অপরাহ্নটি ছিল সিগ্ধ শ্যামল। গত ১১ই সেপ্টেম্বরের  এমনি এক সোনালী রোদেলা বিকেলে
ভার্জিনিয়া রাজ্যের  স্টারলিংস্থ সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল দেশ বরণ্য আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের আবৃত্তি সন্ধ্যা।

বিস্তারিত ...
 

২রা এপ্রিল শংকর চক্রবর্তীর মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা


আগামী ২রা এপ্রিল  রবিবার  বিকেল চারটায় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ কমফোর্ট ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে  বরণ্য  নজরুল গীতি, গজল এবং হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গানের গুনী  শিল্পী  শংকর চক্রবর্তীর একক  সংগীতানুষ্ঠান। সঙ্গত আর সংগীতের অসাধারণ ঐকতানে শংকর চক্রবর্তীর এই মনোজ্ঞ সংগীতের আসরটি  বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাবে সাজানো হচ্ছে। দর্শক শ্রোতারা দারুন ভাবে উপভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিস্তারিত ...
 

কি কখন কোথায়


No events
< অক্টোবর ২০১৭ >
বু বৃ শু
২৫ ২৬ ২৭ ২৮ ২৯ ৩০
১০ ১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫
১৬ ১৭ ১৮ ১৯ ২০ ২১ ২২
২৩ ২৪ ২৫ ২৬ ২৭ ২৮ ২৯
৩০ ৩১

মতামত জরিপ

Why do you visit News-Bangla
 
 
Free Joomla Templates