News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২২ অক্টোবর ২০১৭, রবিবার      
মূলপাতা
হৃদয়বীণা: ক্ষুধার্থ শিশুর আশার আলো প্রিন্ট কর
ওয়াহেদ হোসেনী, ভার্জিনিয়া   
সোমবার, ০৬ মার্চ ২০১৭

এডিসের বয়স আট বছর। এখন সন্ধ্যা সাতটা। এডিসের মা এদিক ওদিক করছে। কিন্তু ডিনার দিচ্ছে না। এডিসের দিকে তাকাচ্ছেও না। এডিস জানে তার অর্থ কি। বাড়ীতে খাবার বলতে কিছু নেই। অর্থাৎ সারা রাত পেট গুড় গুড় করবে। ক্ষিধার চোটে ঘুম আসবে না। প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে স্কুলে যেতে হবে। সরকারী খাওয়া পরিবেশনের যতক্ষণ না সময় হয় ততক্ষণ এডিসকে ক্ষুধার যন্ত্রণা ভুগতে হবে। না, এটা কোন গল্প কাহিনীর অংশ নয়, তৃতীয় বিশ্বের বস্তির ঘটনা নয়, রিফিউজি ক্যাম্পের বর্ননা নয়। হয়তো বিশ্বাস করতে চাইবেন না যে এই ঘটনা ঘটছে বিশ্বের সব চাইতে ধনীদেশ, সব চাইতে শক্তিশালী দেশ এই আমেরিকায়। পরিচয়টা গোপন রাখার জন্য নামটা বদলে দেওয়া হয়েছে। টাইম ম্যাগাযিনে দেখলাম, আমেরিকায় প্রতি ছটি শিশুর একজন ক্ষুধার্থ থাকে। এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাতে বিছনায় যাওয়ার আগে এরকম শিশুর খেতে না পাওয়ার ঘটনার কথা মনে পড়ে গেলে মন খারাপের চাপে ‘বিনিদ্র যামিনী’ যায়। পরের দিন সকাল বেলা আবার নিয়মিত কাজে ব্যস্ত হোয়ে পড়ি। তবে কেউ কেউ নিয়মিত কাজের ফাঁকে ফাঁকে ভাবতে থাকে কি করা যায়? কেমন করে অন্তত একটা শিশুকে ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করা যায়? যারা এধরনের চিন্তা করতে থাকে তাদের একজনকে চিনি তার শৈশব থেকে। স্কুল কলেজ পাশ করে তাকে চাকরি করতে দেখেছি, দেখেছি তার বিয়ে, দেখেছি তাকে মা হতে। দেখেছি তাকে বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে। মেয়েটি সে দিন দুপুরে এসেছিল আমাদের বাড়ীতে। রাস্তা ভুল করে আসেনি, একটু ঘুরে আসি ভেবে আসেনি। এসেছিল একটা অনুরোধ নিয়ে। মেয়েটিকে আপনারা অনেকই চেনেন, রুমা ভৌমিক। সুরঞ্জন দত্তের কনিষ্ঠ কন্যা। ওয়াশিংটন এলাকায় রুমা একজন অতি প্রিয় ও পরিচিত কণ্ঠ শিল্পী।
সরাসরি সে নেমে গেল তার উদ্দেশ্যে। শুরু করলো এইভাবে - জানেন আংকাল, এই আমেরিকায় কত শিশুকে না খেয়ে থাকতে হয়?  কয়েকদিন আগে পড়া এক feature-এর কথা মনে পড়লো।  Feeding America-র সাম্প্রতিক এক জরীপ মতে সুধু মাত্র ভার্জিনিয়াতেই দুই লক্ষ্য নিরানব্বই হাজার পঞ্চাশ জন শিশুকে প্রতিদিন এই ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। রুমা বলল, আংকল, আমি ঠিক করেছি আমাকে কিছু করতে হবে, এবং এর জন্য যা কিছু করতে হয় আমি প্রস্তুত। কদিন আগে রুমার আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম এক সামাজিক সমাবেশে। স্থানীয় অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি, অনেক প্রতিষ্ঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন সেখানে। সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল এক মহৎ কাজের শুভ উদ্বোধনী। রুমা ও তার বড় বোন ডক্টর সোমা বোসের প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্টান হৃদয়বীণার মুখ্য উদ্দেশ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা। হৃদয়বীনার পুরা নামটা হোল - HRIDOYBEENA Artists United Against Childhood Hunger -।  দুই বোনের উদ্দেশ্য এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠেনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এলাকার যতদূর সম্ভব ক্ষুধার্থ শিশুদের জন্য খাবার জোগাড় করা। এরা ইতিমধ্যে হৃদয়বীণা দু দুটি স্বার্থক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেছে। এই মে মাসে ওরা তাদের তৃতীয় অনুষ্ঠানের মহড়া দিচ্ছে। অনিশ্চিত ভীরু পায়ে যাত্রা শুরু করলেও প্রতিষ্ঠানের মহৎ উদ্দেশ্যর কথা জানতে পেরে এবং অনুষ্ঠানের উচ্চমানের পরিবেশনা সমাজের সর্বস্তরের অনেক মানুষ এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষুধার্থ শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে কে না চায়? রুমা এবং তার বোন সোমা বুঝতে পেরেছে এখন সময় এসেছে এই প্রতিষ্ঠানের মুখ্য উদ্দেশ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার।
রুমা ও সোমা হৃদয়বীণার সৃষ্ঠী করে সব শিল্পীদের এই মত নিয়ে যে তারা বিনা পরিশ্রমে অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। টিকিট লব্ধ অর্থ ব্যয় হবে ক্ষুধার্থ শিশুদের খাবার জোগাড় করতে। হৃদয়বীণা দু দুটি স্বার্থক অনুষ্ঠান পরিবেশন করার পর তাদের আত্মবিশ্বাস জন্মেছে অন্তত কিছু সংখ্যক ক্ষুধার্থ শিশুর মুখে তারা হাসি ফোটাতে পারবেই।
রুমা বলল, আমি জানি সমাজে এমন বহু উদার ব্যক্তি আছেন যারা সাহায্য করতে প্রস্তুত। তাঁরা যথাযোগ্য প্রতিষ্ঠান খুঁজে পান না। আমরা হৃদয়বীণা থেকে তাদের সে সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে চাই। আমরা আমাদের পরবর্তী মে মাসের অনুষ্ঠনে দর্শক স্রোতাদের অনুরোধ করবো, তারা যখন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসবেন তখন যেন হাতে করে ক্ষুধার্থ শিশুদের জন্য কিছু টিন-জাত খাবার নিয়ে আসেন। হৃদয়বীণা সে খাবার Food Bank গুলোর মাধ্যমে ক্ষুধার্থ শিশুদের পৌঁছে দেবে। ইতি মধ্যে আমারা কতগুলো Food Bankএর সঙ্গে কথাও বলেছি। তারা খুবই আগ্রহী। আমরা ঠিক করেছি, হৃদয়বীণা বৃহত্তর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন জায়গায় স্বেচ্ছাসেবী জোগাড় করবে। এরা তাদের এলাকার বিভিন্ন বাড়ী থেকে টিন-জাত খাবার সংগ্রহ করে এক জায়গায় জড়ো করবে, হৃদয়বীণা তা Food Bank এ দিয়ে আসবে। আমরা সমাজকে অনুরোধ করবো আমাদের আর্থিক সাহায্য করতে। বেশী নয় বছরে দশ ডলার করে দুবার HRIDOYBEENAর নামে দান করলে আমরা সে দান দিয়ে ক্ষুধার্থ শিশুদের খাবার জোগাড় করে Food Bankএ দিয়ে আসবো।
হঠাৎ করে চুপকরে রুমা আবার বলল, আংকাল আপনার বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে যে Social Work করার সময় আমি সরকারী খাবার পরিবেশনের লাইনে শিশুকে কোলে নিয়ে বাংলাদেশী মাকেও দেখেছি।
কিছুক্ষণ চুপ করে ভাবলাম, মেয়েটা ভালো ‘হোম ওয়ার্ক’ করে এসেছে। রুমাকে বললাম, আমি সর্বান্তকরনে হৃদয়বীণার সাফল্য কামনা করি। আমি তো নাচতেও পারি না, গাইতেও জানি না।  আমি তোমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি। রুমা বুঝি এরই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। মুহুর্তের মধ্যে বলে উঠলো, আপনি দয়া করে গোটা সমাজকে জানিয়ে দিন হৃদয়বীনা কি, হৃদয়বীণা কি করতে চায়। সবাইকে জানিয়ে দিন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হৃদয়বীণা ক্ষুধার্থ শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে চায়। তাদের কাছে আমাদের এই আবেদন পৌঁছে দিন যে তাঁরা যেন আমাদের এই প্রচেষ্টায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন। হৃদয়বীণা অনুষ্ঠানে খাবার নিয়ে আসেন, আপনার বাড়ীর কাছের স্বেচ্ছাসেবীদের টিনের খাবার দিয়ে সাহায্য করুন।  HRIDOYBEENAর নামে লেখা চেক রুমাকে (Phone 571-338-1392 email: স্প্যামবটের হাত থেকে এই ইমেল ঠিকানা সুরক্ষিত আছে। পড়ার জন্যে জাভাস্ক্রিপ্ট অন করুন। ) পাঠিয়ে হৃদয়বীণাকে তাদের উদ্দেশ্য অর্জনে সাহায্য করুন।
যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে রুমা বলল, আংকাল এবার আমি আসি। আমি নিশ্চয় আশা করবো আপনি সমাজের কাছে হৃদয়বীণার আবেদন পৌঁছে দেবেন। হৃদয়বান ব্যক্তিদের হৃদয়বীণাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করবেন।       
দরজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম, রুমা গাড়ী চালিয়ে চলে গেল। চলন্ত গাড়ীটার পেছন দিকটা দেখতে দেখতে মনে পড়ে গেল কবি গুরুর ছোট্ট কবিতা;
কে লইবে মোর কার্য্য, কহে সন্ধ্যা রবি
শুনিয়া জগৎ রহে নিরুত্তর ছবি।
মাটির প্রদীপ ছিল; সে কহে, স্বামী
আমার যেটুকু সাধ্য করিব তা আমি।
দরজা বন্ধ করতে করতে ভাবলাম হৃদয়বীণা ক্ষুধার্থ শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পারবে নিশ্চয়। 
সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০৬ মার্চ ২০১৭ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >

লগইন বক্স






পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
সদস্য হতে চাইলে রেজিস্টার করুন

A professional services and  IT training firm.
 
  

 DETAILS 

 

 Details

Details 

Details 

 Click here for details

 

 Details 

  Details

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 অন্যান্য পত্রিকা



 


 

 

বাচিক শিল্পী কাজী আরিফের সাথে একটি অনন্য সন্ধ্যা


আমেরিকাতে এখন গ্রীষ্মের শেষ লগ্ন। হেমন্তের (ফল)এর আগমনীর প্রাক্কালে সেদিনের অপরাহ্নটি ছিল সিগ্ধ শ্যামল। গত ১১ই সেপ্টেম্বরের  এমনি এক সোনালী রোদেলা বিকেলে
ভার্জিনিয়া রাজ্যের  স্টারলিংস্থ সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল দেশ বরণ্য আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফের আবৃত্তি সন্ধ্যা।

বিস্তারিত ...
 

২রা এপ্রিল শংকর চক্রবর্তীর মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা


আগামী ২রা এপ্রিল  রবিবার  বিকেল চারটায় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ কমফোর্ট ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে  বরণ্য  নজরুল গীতি, গজল এবং হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গানের গুনী  শিল্পী  শংকর চক্রবর্তীর একক  সংগীতানুষ্ঠান। সঙ্গত আর সংগীতের অসাধারণ ঐকতানে শংকর চক্রবর্তীর এই মনোজ্ঞ সংগীতের আসরটি  বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাবে সাজানো হচ্ছে। দর্শক শ্রোতারা দারুন ভাবে উপভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিস্তারিত ...
 

কি কখন কোথায়


No events
< অক্টোবর ২০১৭ >
বু বৃ শু
২৫ ২৬ ২৭ ২৮ ২৯ ৩০
১০ ১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫
১৬ ১৭ ১৮ ১৯ ২০ ২১ ২২
২৩ ২৪ ২৫ ২৬ ২৭ ২৮ ২৯
৩০ ৩১

মতামত জরিপ

Why do you visit News-Bangla
 
 
Free Joomla Templates