News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার      
মূলপাতা arrow তরুণ-তরুণী arrow মনের মৈত্রীতে
মনের মৈত্রীতে প্রিন্ট কর
জাহান রিমা, ফ্লোরিডা থেকে   
শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৬
           
শাড়ি পরে অ্যাসট্রিডের অভিব্যক্তি ও অনুভবশাড়ি পরে অ্যাসট্রিডের অভিব্যক্তি ও অনুভবঅ্যাসট্রিডের সঙ্গে লেখিকাঅ্যাসট্রিডের সঙ্গে লেখিকাস্কুল পালিয়ে রবীন্দ্রনাথ না হলেও কেউ কেউ তো বন্ধু হয়। অ্যাসট্রিড ভার্গাস আমার তেমন আমেরিকান বন্ধু। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর করছে পাবলিক রিলেশনে। মারিলিনস এজেন্সির মডেল সে। পার্টটাইম থেরাপিস্টও বটে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পার্টটাইম জবের প্রথা আমাদের বাংলাদেশে নেই। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্যান্য উন্নত দেশে এর ভীষণ প্রচলন। সেও এর ব্যতিক্রম নয়। উন্নয়নের পথে হাঁটার জন্য স্বনির্ভরতা নিঃসন্দেহে দারুণ বিষয়। কিন্তু মাঝে মধ্যে মনের আনন্দের জন্যও তো প্রয়োজন পড়ে বন্ধুত্বের থেরাপি। তাইতো সেদিন রোদ মাখানো বন্ধুত্বের দিনে অ্যাসট্রিড এল আমার অন্দরে। শীতের সকাল নয়। তবু ওর গায়ে জড়ানো স্কার্ফ নামের জাতীয়তা। আমেরিকার পতাকা। দেখেই আমার তৃপ্ত মন বলে ওঠে, আমি কী আর কম সখীরে।
আমার ঘরের দেয়াল জুড়ে আমার বাংলাদেশের মানচিত্র। দরজা খুললেই সেখানে ভেসে ওঠে শেকড়ের আমি। অ্যাসট্রিডের নীল চোখ মানচিত্রের দিকে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকায়। তাতেই আমরা দুজন দুই কাপ চা হাতে আমার ঘরে বসেও গল্পের প্রাবল্যে চলে যাই দূরে, বহুদূরে। যেখানে ভাষা মানে ভালোবাসা, নারী মানে শাড়ি।
অ্যাসট্রিডের সঙ্গে লেখিকাএদিকে ঘড়ির কাটার খুব হিংসে! সময়কে সময় দিয়ে আমাদের গল্প চলতে থাকে একাত্তরের যুদ্ধ থেকে। বলতে বলতে আমার চোখ জুড়ে ঢেউ। যুদ্ধ জয়ের সুখ জল। অ্যাসট্রিড যেন কথা নয় সৌরভ মাখা রুমাল ধরে বলে, ডোন্ট ডু দ্যাট। ইউ হ্যাভ ফ্ল্যাগ জাহান! ওতেই আমার মন ভরে যায় সুখের কোলাহলে।
আমি সেই কোলাহলে যুক্ত করে দিই আরও কিছু গৌরবময় অর্জন। আন্দোলিত হয়ে বলে উঠি, জানো অ্যাসট্রিড, আমরাই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছি।
এ কথা শুনে অ্যাসট্রিড ভাষা হারিয়ে ফেলে। কী বল। মুখের ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছ তোমরা? আমি হ্যাঁ বলি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রসঙ্গ টানি। ওসব শুনে ওর ঠোঁট থেকে একটি শব্দই ঝড়ে পড়ে—ওয়াও!
তারপর আরও পর আমাদের মন বায়না ধরে আয়না দেখবে। সঙ্গে দেখাদেখি আমার বাংলাদেশের কামিজ, ওড়না ও শাড়ি। অ্যাসট্রিড আনন্দে বিহ্বল সে কখনো শাড়ি দেখেনি। পরা তো পরাবাস্তব! আমি বলি, পরবে তুমি? অ্যাসট্রিড আনন্দে মাতোয়ারা। মাতাল রোগ আমারও কী কম! তারই তো বন্ধু। এরপর দেহে জড়ানো ভিনদেশি পোশাক ফেলে আমরা খুব করে হয়ে যায় বাঙালি রমণী। বন্ধুত্ব যে এমনই, দুই মহাদেশ এক করে দেয় মনের মৈত্রীতে।
--
সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৬ )
 
পরে >
Free Joomla Templates