News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার      
মূলপাতা arrow লেখালেখি arrow ফিচার arrow ছড়াকার ও ছড়া সমাচার
ছড়াকার ও ছড়া সমাচার প্রিন্ট কর
আবদুল হাসিব,অটোয়া থেকে   
বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০১৪

(প্রথম পর্ব)
ছড়া কি? ছড়া কখন থেকে সাহিত্যের শুভ্র জমিনে তার কৈশোরিক নগ্ন-নরম পা যোগল রাখলো? কিংবা তো ছড়া কখন সাহিত্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলো? ওগুলো বিশাল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ব্যাপার। এবং এমন বিশাল বিষয়ের উপর বিশ্লেষণমূলক বক্তব্য রাখবার মতো বিশেষজ্ঞ আমি আদৌ হইনি।
তবে ছড়া সম্পর্কে আমার ধারণকৃত অভিজ্ঞতা থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবার প্রচেষ্টা করছি। ছড়ার সুস্পষ্ট সুগঠিত কোন সংজ্ঞা উদ্ধারে আমি ব্যর্থ হয়েছি, তবে দু’জন খ্যাতিমান ব্যক্তি Ñএকজন কবি ও একজন ছড়াকার। ছড়া সম্পর্কে উনাদের মূল্যবান বক্তব্য দুটিকে উপস্থাপন করছি, যা ছড়াকে সংজ্ঞায়িক করতে সহযোগীতা না করলেও ছড়া যে কেমন হবে তা নির্ধারণে সহযোগীতা যে করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছড়ার কথা বলতে গিয়ে বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন, ‘আধুনিক কবির হাতে ছড়া বেরতে পারে শুধু এই শর্তে যে, তিনি বক্তব্য কিছু দেবেন, অথচ সেটুকুর বেশী দেবেন না যেটুকু এই হালকা ছোট চটুল শরীরে ধরে যায়। একেবারে সারাংশ কিছু না-থাকলে তা নেহাতই ছন্দের টুংটাং হয়ে পড়ে, মাত্রা একটু বেশী হলেও আর ছড়া থাকে না।’ সুতরাং বুদ্ধদেব বসু’র উপরোক্ত বক্তব্য থেকে ছড়ার চেহারা-চরিত্র আর দেহসৌষ্টব সম্পর্কে মোটামোটি একটি ধারণা পাওয়া গেলো Ñযাকে ছড়ার সংজ্ঞা হিসাবেও নেয়া যেতে পারে। অন্নদাশঙ্কর রায় ছড়া সম্পর্কে বলছেন, ‘ছড়া যদি কৃত্রিম হয় তবে তা ছড়াই নয়, তা হালকা চালের পদ্য। তাতে বাহাদুরি থাকতে পারে, কারিগরি থাকতে পারে, কিন্তু তা আবহমানকাল প্রচলিত খাঁটি দেশজ ছড়ার সঙ্গে মিশ খায় না। মিশ খাওয়ানোটাই আমার লক্ষ্য। যদি লক্ষ্যভেদ করতে পারি তবেই আমার ছড়া মিশ খাবে, নয়তো নয়।’ অতঃএব অন্নদাশঙ্কর রায়ও ছড়ার উপকরণ, গঠন, বর্ণ ইত্যাদি সম্পর্কে তিনি তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত করেছেন। বিশেষ করে ছড়ায় তিনি চিরায়ত লোকায়ত বা লোকজগন্ধ সাধ পেতে প্রত্যাশী। ছড়া সম্পর্কে আমার অর্জিত ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে ছড়ার সজ্ঞা আমি এভাবে দিতে পারি, ‘ছন্দ আর অন্তমিলের প্রতি যতœশীল হয়ে হালকা চালে সহজ শব্দের সম্ময় সাধন করে বিষয়কে প্রকাশ করবার জন্যে যে পদ বা পদসমষ্টির সৃষ্টি করা হয় তাকে ছড়া বলে।’ ছড়ার বিষয়ে বাংলায় সুস্পষ্ট কোন সংজ্ঞা না থাকলেও ইংরেজিতে ছড়ার একটি গ্রহণযোগ্য সজ্ঞা আছে, সে সজ্ঞাটি আপনাদের জন্য এখানে তুলে ধরা যায়, ‘অ জযুসব রং ধ ৎবঢ়বঃরঃরড়হ ড়ভ ংরসরষধৎ ংড়ঁহফ রহ ঃড়ি ড়ৎ সড়ৎব ড়িৎফং ধহফ রং সড়ংঃ ড়ভঃবহ ঁংবফ রহ ঢ়ড়বঃৎু ধহফ ংড়হমং. ঞযব ড়িৎফ ৎযুসব সধু ধষংড় ৎবভবৎ ঃড় ধ ংযড়ৎঃ ঢ়ড়বস. ঝঁপয ধং ধ ৎযুসরহম পড়ঁঢ়ষবঃ ড়ৎ ড়ঃযবৎ নৎরবভ ৎযুসরহম ঢ়ড়বস ংঁপয ধং হঁৎংবৎু ৎযুসবং.’ ছড়ার সুর-ছন্দের মধ্যে শ্রবণশক্তির যাদুকরী স্পর্শ থাকে; যা হৃদয়ের নরম অনুভুতিতে ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করে। যার ফলে একটি ছড়াকে বার বার পড়ে মুখস্ত করতে হয় না; কান পেতে কয়েকবার শুনলেই তা মুখস্ত হয়ে যায়। আর তা সম্ভব হয় ছড়ার শরীরে গাঁথা সুর ও ছন্দের মদিরাময় মহিমার কারণে। প্রত্যেকটি শিশু কথা বলার শুরুতেই কিংবা তো বলা যায় বর্ণমালা শেখারও আগে প্রথম পাঠ গ্রহণ করা হয়ে যায় ছড়াতে। যেমন, মায়ের কোলে, দাদা-দাদির কোলে, অথবা নানা-নানীর কুলে বসে বোধশক্তি হবার আগে থেকেই কানের শুরু হয়ে যায় ছড়া শুনার পালা। তারপর বোধশক্তি হতে না হতেই শিশুরা শুনে শুনে মুখস্ত করে ফেলে অসংখ্য ছড়া। যেমন আপনার আমার শৈশবের দিকে দৃষ্টি দিলে বা শৈশবের করা স্মরণ করলেই দেখবেন কোন বিলম্ব ছাড়াই হৃদয়ের অতল থেকে বের হয়ে আসছে অসংখ্য ছড়ার সাজানো কিংবা বিচ্ছিন্ন লাইনগুলো। যেমন, ‘আয় আয় চাঁদ মামা/ টিপ দিয়ে যা/ চাঁদের কপালে চাঁদ/ টিপ দিয়ে যা/ ধান ভানলে কুঁড়ো দেব/ মাছ কুটলে মুড়ো দেবো/ কালো গাইয়ের দুধ দেবো/ দুধ খাওয়ার বাটি দেবো/ চাঁদের কপালে চাঁদ/ টিপ দিয়ে যা।’ (প্রচলি)। কিংবা তো, ‘ভোর হলো দোর খোলো/ খুকুমনি ওঠরে/ ওই ডাকে জুঁই শাখে/ ফুলখুকি ছোটরে/ খুলি হাল তুলি পাল/ ওই তরী চললো/ এই বার এই বার/ খুকু চোখ খুললো।’ (প্রভাতী: কাজী নজরুল ইসলাম)। এভাবে অসংখ্য অগণিত ছড়া আমাদের স্মরণ হয়ে যাবে। ছড়া শিশু মনে খুবই রেখাপাত করে। ছড়া মূলত শিশুদের জন্যেই রচিত হতো, যদিও কালের পরিক্রমায় আর পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে এসে ছড়া আজ সকলের কথা বলে; এবং ছড়া আজ সকলের হয়ে ওঠেছে। ছড়ার জন্ম সেই প্রাচীন কালে, ছড়া বহু দিনের বহু পুরানো, অক্ষরজ্ঞানশূণ্য মানুষেরাই মুখে মুখে ছড়া রচনা করতো এবং অশিক্ষিত মানুষেরাই সেই ছড়াকে শত সহস্র বছর বংশ পরম্পরায় মুখে মুখে বাঁচিয়ে রাখছে। ছড়া অতি সাধারণের, ছড়াকে বুঝে উঠতে শিক্ষিত হবার দরকার হয় না, ছড়া পড়তেই হবে এমন নয়, ছড়া শুনে শুনে মুখস্ত যেমন করা যায় তেমনি তার ভাবার্থও সহজে হৃদয়ঙ্গম করা যায়। যেমন এখানে একটি প্রাচীন প্রাকৃত ছড়ার উদাহরণ দেয়া যায়, ‘তিন অক্ষরে নাম তার/ জলে বাস করে/ মধ্যের অক্ষর বাদ দিলে/ শূণ্যে উড়াল পাড়ে।’ এই ছোট্ট ছড়াটির মধ্যে সুর-ছন্দ-অন্তমিল সবই আছে। আর আছে বলেই ছড়াটি শ্রুতিমধুরও বটে। এমনকি তার ভাবার্থ বুঝে উঠতেও তেমন কোন বেগ পেতে হয় না। তিন অক্ষরে নাম ‘চিতল’ সে একটি মাছ, সে অবশ্যই জলে বাস করে, আর তার মধ্যের অক্ষর বাদ দিলে ‘চিল’ হয়ে আকাশপানে উড়া যে দেবে; তা ভেবে পেতে খুবই কষ্ট হবে না একটু বুদ্ধিমান লোকের জন্যে। এভাবে আদিকালের প্রাকৃতজনের কাছ থেকে ছড়ার শুরু হয়েছে। আমরা এসকল অমূল্য ছড়াগুলোর রচয়িতার নাম জানি না, কিন্তু তার ছড়াকে জানি। এসকল ছড়া সৃষ্টি করে মানুষের হৃদয়ে যে দ্যুতি তাঁরা জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন তা কোনদিন নিষ্প্রভ হবে না। আর এভাবেই সমাজে শিক্ষার সূচনা হয়েছে। আমাদের ছড়া সাহিত্যের ভা-ারে এমন কিছু কালজয়ী ছড়া আছে যা শুনতে একেবারে হালকা বা ঠুনকো লাগলেও তার অর্থ ও গুরুত্ব অপরিসীম এবং শক্তিশালী। যেমন, ‘খোকা ঘুমোল পাড়া জুড়োল/ বর্গী এল দেশে,/ বুলবুলিতে ধান খেয়েছে/ খাজনা দেব কিসে।/ ধান ফুরোল পান ফুরোল/ খাজনার উপায় কী,/ আর কটা দিন সবুর কর/ রসুন বুনেছি।’ আমরা এই কালজয়ী ছড়াটির মধ্যে যেমন পাই ছন্দের দোলা, তেমনি পাই কবির কল্পনার গভীরতা। ছড়াটি সেকালের মারাঠী দস্যুদের নির্দয় দখলদারিত্ব আর দুঃশাসনের কষ্টময় নিঃশ্বাসের ইতিহাস ভরা। বরীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন এক জায়গায় যদিও বলেছেন, ‘তোমরা সবাই কহ যে/ সহজ কথা যায় না বলা সহজে।’ কিন্তু উপরোক্ত ছড়ায় দেখা গেলো কতো সহজে কতো কঠিন কষ্টের কাহিনী অত্যন্ত সহজে পাঠক ও শ্রোতার কাছে তুলে ধরা গেলো। সকলের পরিচিত এরকম আরো একটি ছড়ার উল্লেখ করতে পারি, ‘খোকন খোকন ডাক পাড়ি/ খোকন মোদের কার বাড়ি।/ আয় রে খোকন ঘরে আয়/ দুধমাখা ভাত কাকে খায়।’ এখানেও ছড়াকার ঐ বৃটিশদের দুঃশাসনের কথা তুলে ধরেছেন। আমাদের বাংলা মা তার সন্তানকে ডাক দিয়ে বলছেন, খোকন রে, বাবা তুই গেলি কোথায়? তোর দুধমাখা ভাত যে কাক এসে খেয়ে যাচ্ছে! কাকদেরকে তাড়া! নইলে যে তোকে উপুস থাকতে হবে। হালকা চালের হালক ছন্দের এমন একটি ছড়ার মর্মার্থ কী প্রবল, কতো শক্তিধর, কতো চমৎকার প্রতিনিধিত্বমূলক জাতীয় উচ্চারণ। সুতরাং ছড়াকে তুচ্ছ বিষয় হিসাবে দেখবার কোন অবকাশ নেই। তবে অনেক কবিকে ভাবতে বা বলতে শুনা গেছে, ছড়া একটা বিষয়ই না! ওটা একটা সাধারণ ব্যাপার। কবিতা হচ্ছে কঠিন বিষয়। হ্যাঁ, কেউ কেউ ছড়াকারগণকে খুব খাটো করে দেখতে চান; সেই প্রবণতাটা অনেকের আছে বৈকি। কিন্তু কোন ছড়াকার যে কবিগণকে ছোট করে দেখেন না। এবিষয়ে প্রচ- রকমের কষ্ট বুকে ধারণ করে একজন বিশিষ্ট ছড়াকার জাহাঙ্গীর আলম তার ‘ছড়া-কবিতার পদ্য’ ছড়ার মাধ্যমে বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন, ‘ছড়াকে বলা হয় কবিতা/ কবিতা তো কোনদিন ছড়া না/ ছড়া হলো কবিতার আদিরূপ/ দুইয়ে মিলে তারা এক ঘরানা/ ছড়া হয় সহজ আর সাবলীল/ তাই বলে ছড়া লেখা সোজা না/ ছড়া মানে ছোট বড় সকলের/ ছড়া কারো অনুগত প্রজা-না/ ছড়া লিখে ছড়াকার কবি হয়/ সব কবি ছড়াকার হয় না/ নামি-দামি কবিকেও কোনোদিন/ কেউ জানি ছড়াকার কয় না।‘ বিষয়টি অনেকটা সত্য যে, একজন কবিকে ছড়াকার বলা হয় না। কিন্তু একজন ছড়াকারকে কবি বলা যায়। একজন মহৎ সাহিত্য সাধকের ব্রত হওয়া উচিৎ Ñতার লেখনিতে সময়কে ধরে রাখা। এবং তা করতে গিয়ে যেমন প্রাণময় প্রকৃতির নদ-নদী, চন্দ-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, ফুল-পাখি, বৃক্ষরাজি নিয়ে অর্থাৎ ধরিত্রীর বিচিত্র রূপ-সৌন্দর্য নিয়ে লিখবেন, তেমনি লিখবেন সামাজিক দুরাচার-অনাচার, ধর্মের নামে ব্যবসা বা ভ-ামো, রাষ্ট্রের চলমান দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দা, বাজার দর, প্রশাসনিক অনিয়ম ইত্যাদি নিয়ে। এসকল বিষয়গুলোকে একজন লেখক তাঁর নৈতিক দায়িত্ব হিসাবে গ্রহণ করে কর্মরত থাকতে পারলে, তাঁর মাঝে পরোপকার, মানবতাবোধ এবং পরমতসহিষ্ণুতা বর্তমান থাকবেই। এবং আমি মনে করি সকল নিষ্টাবান লেখকদের এই নীতিটুকু থাকা একান্ত প্রয়োজন। আজ থেকে ১১৩ বছর আগে, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে, যোগীন্দ্রনাথ সরকার’র ‘খুকুমণির ছড়া’ সংকলনটির ভূমিকা লিখতে গিয়ে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী ‘ছড়াসাহিত্য’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। ছড়াকে তিনিই সর্বপ্রথম সাহিত্যের মর্যাদায় অধিষ্টিত করেছিলেন লিখিত ভাষায়। হ্যাঁ, বহুকাল থেকে ছড়া সাহিত্য শিশু সাহিত্য হিসাবে গৃহীত হয়ে আসলেও কালের পরিক্রমায় আর সময়ে দাবীতে ছড়া এখন সার্বজনীন। প্রকৃতি ও সমাজ-সংসারের সর্ব বিষয়ে কবিতার মতো ছড়াও আজ সাহসী উচ্চারণ। ছড়া আজ দেয়াল লিখনে, সভা-সমিতির মিছিলে মিছিলে, আন্দোলনের শ্লোগানে শ্লোগানে, ছড়া গণ-অভুত্থানে মুক্তিপাগল মানুষের কন্ঠে। আমাদের মনে আছে, সেই উনোসত্তরের গণ-আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে অতঃপর স্বাধীনতা-উত্তরকালে বহুল উচ্চারিত জনপ্রিয় কতোকগুলো ছড়ার কথা যেমন, ‘তোমার আমার ঠিকানা/ পদ্মা মেঘনা যমুনা।’ ‘ইয়াহিয়া ভুট্টো দুই ভাই/ এক রশিতে ফাঁসি চাই।’ কিংবা ‘খুন হয়েছে আমার ভাই/ খুনি তোমার রক্ষা নাই।’ অথবা, ‘এক দফা এক দাবি/ এরশাদ তুই কবে যাবি।’ অতঃপর ১৯৮৭ ইংরেজি সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন’র আতœত্যাগের পর। আরেকটি শ্রেষ্ট ছড়ার জন্ম দিলেন লুৎফর রহমান রিটন। তিনি লিখতে পারলেন, ‘কে এই ছেলে? এই ছেলে কে? নাম তো জানা নাই!/ আর কেউ নয় আসাদ এবং মতিউরের ভাই।/ বুকে পিঠে শ্লোগান লেখা জীবন্ত পোস্টার/ এমনতরো কা- দেখে অবাক স্বৈরাচার!/ দিনদুপুরে গণতন্ত্র হুমড়ি খেয়ে পড়ে/ জীবন্ত পোস্টারের ছবি পাবেল তুলে ধরে/ বন্ধু আমার সাথী আমার, নূর সাহসী বীর/ গণতন্ত্রের প্রতীক তুমি, উঁচু তোমার শির।/ অবরোধে আন্দোলনে বিলিয়ে দিলে প্রাণ/ গণতন্ত্র মুক্তি পেলে গাইবো তোমার গান।’ এসকল ছড়া তখনকার স্বৈরাচার সরকারের দখলকৃত গদি কাঁপিয়ে কম্পিত করে তুলেছিলো। সুতরাং ছড়া যেমন খুকুমণিকে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে ঘুম পাড়ায়; ছড়া তেমনি মুঘন্ত জাতিকে তেজদ্বীপ্ত সূর্যের মতো করে জাগায়। প্রয়োজনে ছড়া বিষ্ফুরকভরা বিষ্ফারিত বোমার মতো কাজ করে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ ইংরেজি, অটোয়া, কানাডা ঊ-সধরষ:-যধংরনঢ়ড়ৎড়নধংযর@ংুসঢ়ধঃরপড়.পধ লেখক: কানাডা প্রবাসী Ñকবি, ছড়াকার, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক। লেখক এর প্রকাশিত গ্রন্থ: চোখে আসে জল (ছড়াগ্রন্থ), প্রজাপতির রঙিন পাখা (ছড়াগ্রন্থ), অষ্টপ্রহর স্পর্শ চাই (কাব্যগ্রন্থ), নিস্ফলা জমির কান্না (কাব্যগ্রন্থ), প্রসূনে প্রনষ্ট (কাব্যগ্রন্থ), গোধূলীর দুটো রঙ (গল্পগ্রন্থ), পারুলের প্রথম পরশ (গল্পগ্রন্থ), বালকের চোখে দেখা’৭১ (স্মৃতিগ্রন্থ), জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে (জীবনীগ্রন্থ), নজরুল, নারী ও অন্যন্য প্রসঙ্গ (প্রবন্ধগ্রন্থ), এক টুক্রি সিলোটি ছড়া (ছড়াগ্রন্থ), ছড়ায় ছন্দে স্বদেশ দেখো (ছড়াগ্রন্থ)।
সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ১৪ জুলাই ২০১৪ )
 

Add comment


Security code
Refresh

পরে >
Free Joomla Templates