News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার      
মূলপাতা arrow লেখালেখি arrow ফিচার arrow 'হলুদ বরফ খেতে মানা'
'হলুদ বরফ খেতে মানা' প্রিন্ট কর
শিতাংশু গুহ , নিউইয়র্ক   
বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০১৪
 এবার নিউইয়র্ক-এ বেশ শীত পড়ছে, কনকনে শীত। গতকাল শনিবার, আজ বরফ পড়েছে; তবে তেমন বেশি নয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার এক ফুটের বেশী 'স্নো' পড়ে। সকাল থেকেই স্নো পড়তে শুরু করে; সারাদিনরাত ধরে পড়ে। তিনটার পর অফিস ছুটি হয়ে যায়। 
বেয়াল্লিশ মাইল যেতে সচরাচর ঘন্টাখানেক সময় লাগলেও মঙ্গলবার লাগে সাড়ে তিনঘন্টা। ট্রাফিক ও গাড়ীর শ্লথগতি আমায় ঢাকার ট্রাফিক জ্যামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। গাড়িতে বসে ভাবছিলাম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মনুষ্যসৃস্ট যানজটের কথা! পরদিন সকালে স্কুল-অফিস-আদালত সব যথারীতি চলে। রাতের মধ্যে প্রশাসন স্নো পরিস্কার থেকে সবকাজ সারেন। না করলে, খবর আছে। সংশ্লিষ্টদের চাকুরিচ্যুতি বা নেতার নির্বাচনে ভরাডুবি সবই সম্ভব। সমালোচনা তো আছেই। কিন্তু 'যতদোষ নন্দঘোষ'-এর নয়। সবাইকে দাযিত্ব নিতে হয়। মনিকা লিউনিস্কীর ঘটনায় ক্লিন্টনের মত নেতাকে কম অপদস্ত হতে হয়নি। নিউজার্সীর গভর্নর ক্রিস্টি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন এবং আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হবার সম্ভবনা ছিলো উজ্জল। কিন্তু গত নভেম্বরের নির্বাচনে একটি ব্রীজে ক'টি লেন ক্লোজ করা নিয়ে তিনি এখন বিপাকে। প্রেসিডেন্ট তো দূর অস্ত; গভর্নরশীপ নিয়ে টানাটানি চলছে। তার অপরাধ, বলা হচ্ছে, তার প্রশাসন এটা করেছে প্রতিপক্ষকে সমস্যায় ফেলতে। গভর্নর বলছেন, তিনি বিষয়টি জানতেন না; প্রতিপক্ষ বলছেন গভর্নর জানতেন। যদি প্রমান হয় তিনি জানতেন তবে তার সমস্যা হবে। এটাই আমেরিকা, বাংলাদেশের সাথে তুলনা করে কোন লাভ নেই। স্নো নিয়ে যখন কথা, তখন সবাইকে বলি, 'ডোন্ট ইট ইয়োলো স্নো।' এদেশে ঠাট্টা করে এটা বলা হয়; 'হলুদ বরফ খেতে মানা।' বরফ কি লোকে খায়? না, খায়না। তবে বাচ্চারা খেলার সময় মুখে যায় বটে। তাছাড়া বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্তুপিকৃত শুভ্র, পরিচ্ছন্ন বরফ খেলে ক্ষতি নাই। কিন্তু হলুদ বরফ নয়। ওটা আসলে কি? প্রচন্ড ঠান্ডায় ররফের ওপর কুকুর প্রস্রাব করলে সেটাও বরফ হয়ে যায়, ইহাই হলুদ বরফ! মানুষ প্রস্রাব করলেও তাই হবার কথা, কিন্তু এদেশে যত্রতত্র প্রস্রাব করলে জরিমানা গুনতে হয়। আমাদের দেশে যেমন বন্যার পানি খেতে মানা, এদেশে তেমনি হলুদ বরফ খেতে মানা। আমাদের দেশের রাজনীতিটা কি 'হলুদ বরফের' মতই? হলুদ সাংবাদিকতার কথা আমরা বরাবর শুনি; হলুদ রাজনীতিও আছে নাকি? হলুদ নির্বাচন? কথায় বলে, এদেশে তিন 'w'-র কোন ঠিক নাই। প্রথম 'w' হচ্ছে weather বা আবহাওয়া। দ্বিতীয় 'w' মানে work বা কাজ এবং সবশেষ 'w' হলো women বা মহিলা বা নারী। মার্কিন দেশের আবহাওয়ার কথা আমাদের দেশের মানুষ জানে এবং তাই স্নো হলেও ফোন আসে! কিন্তু এরা প্রতিকুল আবহাওয়াকে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে এসেছে; প্রকৃতির সাথে যুদ্ব করে বা গাছ-পালা কেটে সাবার করে দিয়ে নয়, বরং প্রকৃতি মেনে এর সাথে পাল্লা দিয়ে। দ্বিতীয় 'w' বা কাজের জন্যে এদেশ। সবাই কাজ করেন এবং সবধরনের কাজ করেন। একজন মানুষ জীবনে কত ধরনের কাজ করেন তা বলা মুশকিল। অফিসের চেয়ারে কোট রেখে বাজার করতে যাবার কোন সুযোগ নেই। তবে এখানে বিনে পয়সায় কেউ কাজ করেনা বা মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে কাজ করার কোন প্রশ্নই ওঠেনা। যা দেশে থাকতে আমিও করেছি। মালিক বা শ্রমিক পক্ষ তাদের দেনা-পাওনা বুঝিয়ে দিতে বা নিতে কোন কার্পন্য করেনা। দেশে আমার বন্ধুরা সবাই রিটায়ার করেছেন; এদেশে আমি এখনো চাকুরী খুঁজি! তৃতীয় 'w'-এর কথা আর কি বলবো! ছেলেবেলায় 'নারীস্থান' নামক একটি প্রবন্দ্ব পড়েছিলাম; পশ্চিমা দেশগুলো ঠিক নারীস্থান না হলেও এসব দেশে নারীর অধিকার সর্বোচ্চ। 'লেডিজ ফার্স্ট' - একথাটি এখানে সর্বৈব্ সত্য; এমনকি সেক্সের ক্ষেত্রেও। আমাদের দেশে এরশাদ সাহেবরা একাধিক রমনীর সাথে ঘুমালেও যেমন তাদের 'চরিত্র ফুলের মত পবিত্র থাকে'; তেমনি এদেশে মেয়েরা স্বেচ্ছায় একাধিক পুরুষের সাথে ঘুমালেও তাদের চরিত্র অটুট থাকে। আমাদের দেশের মেয়েরা বিয়ে বসে; এদেশে ওরা বিয়ে করে। হেফাজতিরা আমাদের দেশের মেয়েদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করলেও আমাদের দুই নেত্রীর কথা ভিন্ন, তারা সর্বেসর্বা, দলে বা রাষ্ট্রে তারা সর্বক্ষমতাময়। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে মাত্র দুইজন পুরুষ, বাকীরা সবাই মহিলা! ঠান্ডা বরফের গল্পের পর এবার রাজনীতির গরম খবর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বেশ ক'বার বেগম খালেদা জিয়াকে জামাত ও সন্ত্রাস ছেড়ে আসার জন্যে আহবান জানিয়েছেন। বিএনপি'র ম্যাডাম মৌলবাদীদের রানী; তার পক্ষে কি ওদের ছেড়ে আসা সম্ভব? তারচেয়ে বরং সরকার ওনাকে সাহায্য করুন, জামাত নিষিদ্ব করুন। তাহলে জামাত থাকলো না, জামাতীরা সব বিএনপি হয়ে গেলো। যেমন, অতীতে রাজাকার, আলবদর, যুদ্বাপরাধী বা সব ধরনের অপরাধী জাসদে ঢুকে গিয়েছিল! জামাত নিষিদ্ব করতে না পারলে ৭২-এর সংবিধান পুন:প্রবর্তন করুন, ধর্মীয় রাজনীতি আপনা থেকেই বন্দ্ব হয়ে যাবে। প্রশ্ন হলো, জামাত বন্দ্ব করার সদিচ্ছা সরকারের আছে কিনা অথবা বাইরের চাপ সামাল দিয়ে সরকার তা করতে পারেন কিনা? সরকার এত কিছু পারেন, ৭২-এর সংবিধান পুন:প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না? প্রধানমন্ত্রীর উচিত (অতীতের মত) নারী হয়ে অন্য একজন নারী বেগম খালেদা জিয়াকে সাহায্য করা; জামাত নিষিদ্ব করা। তাহলে বেগম সাহেবকে অন্তত: ওদের ছেড়ে আসতে হলোনা বরং তখন তিনি বলতে পারবেন: 'সরকার আবার ধর্মের ওপর আঘাত হেনেছে।' সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর জুতা মেরেছেন মুসুল্লিরা। জুতা মারা ঘটনা এটা প্রথম নয় এবং সম্ভবত: শেষও নয়। মিজান চৌধুরী, আসম রব-এর ওপর জুতা মারার ঘটনা আমরা দেখেছি। বুশের ওপর জুতা ছুড়ে মারা ঘটনাও সবার জানা। জুতা মারা সবসময় খারাপ না। যেমন কলকাতায় একবার 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক হচ্ছিলো। মীরজাফরের ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন একজন নামী অভিনেতা। দর্শক সারিতে ছিলেন তৎকালীন সেরা নাট্যকার। নাটকের এক পর্যায়ে মীরজাফরের অভিনয়ে রেগেমেগে নাট্যকার পায়ের চটি খুলে অভিনেতার দিকে ছুড়ে মারেন। অভিনেতা সেই জুতা কুড়িয়ে মাথায় করে এনে হাত জোড় করে নাট্যকারকে প্রনাম করে বললেন: দাদা, আজ আমার অভিনয় সার্থকতা পেল।' তাই বলছিলাম সবসময় জুতা মারা খারাপ না। 'জুতা মেরে গরু দান' করলে গরু নেয়ার লোকের অভাব হবেনা। তাছাড়া জুতা নিয়ে ঢাকাইয়া কৌতুক ' স্যার, জুতা আপনার কপালেই আছে' তো আজো গৌরবময়। তবে মন্ত্রী থাকলে তো সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুতা পেটা হতেন না। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি দাবী জানাতেই পারেন, 'ফিরিয়ে দিন আমার মন্ত্রীত্ব।' শিতাংশু গুহ লেখক নিউইয়র্ক প্রবাসী।
সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ১৪ জুলাই ২০১৪ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates