News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

১৯ নভেম্বর ২০১৭, রবিবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow প্রবাস arrow গণতন্ত্রের জন্য আর কত লাশ চাই?
গণতন্ত্রের জন্য আর কত লাশ চাই? প্রিন্ট কর
মাহমুদ সাদিক:   
শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৩
 
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আরও ৩৯ দিন বাকি। কোন রকম সমঝোতা ছাড়া সংঘাতের মধ্যেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সরকার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনও এখন ব্য¯ত্ম সময় কাটাচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দল নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচী আরো ১২ ঘন্টা বৃদ্ধি করেছে। এরই মধ্যে অবরোধ কর্মসূচীর প্রথম দিনে সহিংসতায় এক বিজিবি সদস্যসহ ৮ জন এবং দ্বিতীয় দিনে এখন পর্যšত্ম ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা কেউই ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য লড়াই করছিলেন না কিংবা ক্ষমতা দখলের জন্যও রাজপথে ছিলেন না। তারা রাজপথে ছিলেন একাšত্মই জীবিকার জন্য। কেউ ছিলেন পেশাগত দায়িত্বে যা জীবিকার কারণেই। তবে তারা গণমানুষের অংশ যে গণমানুষের জন্য লড়াই করছে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রধান বিরোধী দল না এলেও সরকার যেকোন মূল্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাইলেও এখনও সমঝোতার সম্ভাবনা নেই একথা মানতে চান না সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজপথে সংঘাত চললেও সরকার, বিরোধী দল ও নির্বাচন কমিশনের কথায় সমঝোতার একটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এখনও। সরকার এখনও আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার। সর্বদলীয় সরকারে পছন্দ মত মন্ত্রণালয় দেয়ারও প্র¯ত্মাব দিয়ে রাখা হয়েছে। বিরোধী দলও বলছে, সমঝোতা হলে আর হরতাল অবরোধ দেয়া হবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণার একদিন পরেই বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে নতুন করে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যেখানে বলেছিলেন আমাদের হাতে সময় নেই, তিনিই আবার বলছেন তফসিল পুনরায় ঘোষণার কথা। এ থেকে এটা স্পষ্ট যে, সমঝোতা হলে সময় পাওয়া যাবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেই। সমঝোতার আশা নিয়ে দেশের বর্ষিয়ান রাজনীতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সুশীল সমাজের ৬ প্রতিনিধি মঙ্গলবার দেখা করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সাথে। তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন এবং রাষ্ট্রপতিকে একটি উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাদের আশার বাণী শোনাতে না পারলেও উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথাও বলেছেন তিনি। যা কিছু করবেন তা আনুষ্ঠানিক নয়, অনানুষ্ঠানিক-- একথাও বলে রেখেছেন রাষ্ট্রপতি। তবে সুশীল সমাজের প্রািতনিধিরা কিন্তু হাল ছাড়েননি। তারা এখনও আশাবাদী সমঝোতার ব্যাপারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও চান সমঝোতা। তারা বিভিন্ন প্লাটফর্মে বলে যাচ্ছেন গণমানুষের জীবনের নিরাপত্তা আর প্রাণহানি ঠেকাতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সমঝোতার কথা। বিশেষ করে দুই নেত্রীর নমনীয় মনোভাব দেশকে চরম সংঘাত থেকে রক্ষা করতে পারে বলে মনে করেন তারা। নির্বাচন নিয়ে যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলা হচ্ছে সেই সংবিধান তো জনগণের স্বার্থেই। বহু লাশের বিনিময়ে এই সংবিধানেই একদিন নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংযোজিত হয়েছিল। আবার সংবিধান সংশোধন করেই একে আজ অসাংবিধানিক করা হয়েছে। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী যে নির্বাচন করতে হয়েছিল সেই নির্বাচিত সংসদই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সংযোজন করে। তখন বিরোধী দলের দাবির মুখে তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু করতে সরকার বাধ্য হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় যে নির্বাচনটি করতে হয়েছিল তা কিন্তু কোন দিনও প্রসংশিত হয়নি; বরং দেশের ইতিহাসে একদলীয় ও অগ্রহণযোগ্য কালো নির্বাচনের উদাহরণ হয়ে আছে। ইতিহাসে ওই নির্বাচন স্বৈরশাসকের ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনকেও ম্লান করে দিয়েছে। এখানে উল্লেখ করতেই হয়, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল না। ওই নির্বাচন হয়েছিল স্বৈরাচারী সামরিক শাসন ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক বৈধতা দেয়ার জন্য। এবারও যদি সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এ ধরণের একটি নির্বাচন করে তাহলে সেই নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ কতদিনের হবে সে প্রশ্নের চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে একটি একদলীয় নির্বাচনের কথা। আর এই নির্বাচনটি হবে এদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের অধীনে। নির্বাচনকালীন সরকারকে সর্বদলীয় নাম দেয়া হলেও এই সরকারের তারাই রয়েছেন যারা মহাজোটের শরীক। সমঝোতা হলে দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। কারণ জনগণের স্বার্থে অনেক বিষয় যেমন সংবিধানে সংযোজন করার ইতিহাস আমাদের রয়েছে তেমনই অনেক কর্মকাণ্ডই পরে সংবিধানে পাশ করিয়ে নেয়ার ঘটনাও আমাদের রাজনীতির ইতিহাসে রয়েছে। তবে সমঝোতা না হলে কী হবে তা নিয়েও মানুষ নানা শংকায় নানা হিসেব করছেন। ঘর থেকে বের হবেন না এমন কথা যেমন ভাবছেন তেমনই ভাবছেন জীবিকার কথা। মা তার সšত্মানকে ঘরে বেঁধে রাখতে পারছেন না তার শিক্ষা জীবনের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। একজন চাকরিজীবী ঘরে বসে থাকতে পারবেন না তার চাকরি রক্ষার জন্য। একজন মুমূর্ষ রোগীও কিন্তু বেঁচে থাকার আশায় সহিংস রাজপথে নেমে পড়বেন হাসপাতালে সুচিকিৎসার আশায়। ঠিক এই আশা নিয়ে ঘরের বাইরে গিয়ে এরই মধ্যে প্রাণ দিয়েছেন অনেক মানুষ, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন আরও অনেকে। তার পরও মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন। কারণ একজন মানুষ তো সামাজিক প্রাণী। রাজনীতিকরা দেশের গণমানুষের জীবনের কথা কতটা ভাবেন সেই প্রশ্ন রেখেই মানুষ হিসেব করছেন, বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রথম দিনেই ৭ জনের প্রাণহানি; তাহলে বাকি ৩৯ দিনে আর কত লোকের প্রাণ যাবে। আর নির্বাচনের দিন পর্যšত্মই যে সহিংসতা সীমাবদ্ধ থাকবে তার নিশ্চয়তাই বা কে দেবে? কারণ নির্বাচনের পর দু’টি পক্ষ রাজপথে সক্রীয় হয়ে পড়ার আশংকা। এক পক্ষ বর্তমান বিরোধী দল যারা তাদের ভাষায় অবৈধ নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারকে মানি না বলে রাজপথে থাকবে। আর অন্য পক্ষ নির্বাচনে পরাজয়ের পর হয়ে যাবে সদ্য বিরোধী দল। তারা সুক্ষ্ম কারচুপি কিংবা ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে সংসদের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে রাজপথে থাকবে। রাজপথে এই দুই পক্ষ আর সদ্য বিজয়ী দলের অবস্থান দেশকে আরও সহিংসতার দিকে ঠেলে দেবে কিনা সেই শংকায় পুরো দেশবাসী।
সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০৭ জুলাই ২০১৪ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >

পাঠক পছন্দ

Free Joomla Templates