News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow প্রবাস arrow রুমানা মনজুর: জীবন খুঁজে ফিরি
রুমানা মনজুর: জীবন খুঁজে ফিরি প্রিন্ট কর
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৩

‘আমি অন্ধ হয়ে গেছি। আমি অন্ধ, এটা মেনে নিতেই হবে। এতে আমার কিছুই করার ছিল না। তবে এখন আমার মূল চিন্তা একটি অর্থবহ জীবন যাপন করা।’ বর্তমানে কানাডার বৃটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী রুমানা মনজুর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নিজের জীবনকে এভাবেই তুলে ধরেন।

স্বামীর অত্যাচারে ২০১১ সালে নিজের চোখ হারিয়েছিলেন এই রুমানা মনজুর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ক্যাম্পাসে নিজের পরিবারের সাথে বসবাস করছেন। তার সংগ্রামী মানসিকতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে বসবাস করার অনুমতি দেয় ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের জীবন সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন তিনি। আইনের শিক্ষার্থী রুমানা মঞ্জুর মনে করেন, আইন সমস্ত কিছুর ভিত্তি ভূমি। তাই আইন নিজে কাজ করতে পারলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। কিন্তু অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

তিনি কখনই ভুলে যেতে চান না যে, তিনি অন্ধ হয়ে গেছেন। বরং জীবনের চরম সত্যকে মেনে নিয়েই লড়াই চালাতে চান তিনি। একারণে চিকিৎসকরা তাকে হতাশারোধক ঔষধ খেতে বললেও গ্রহণ করেন না তিনি। সমস্ত তিক্ততার মুখোমুখি হয়েও পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন রুমানা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তরুণদের কোলাহল রুমানা মঞ্জুরকে বাঁচতে শেখায়। একারণেই বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিজের সবচেয়ে আপন জায়গা হিসেবেও মনে করেন রুমানা। অভিজাত পরিবারের সদস্য রুমানা বলেন, সমাজের সুবিধাভোগী মানুষদের একজন হওয়ায় সাধারণ নারীরা কি পরিমাণ পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হতেন তা নিয়ে আমার কোন ধারণাই ছিল না। কিন্তু নিজে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রকৃত পরিস্থিতিটা বুঝতে শিখেছি।

রুমানা মঞ্জুর এখন জীবন খুঁজে বেড়ান। স্বামীর আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর তাকে কানাডায় নিয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক সহায়তা করেছিলেন তার কানাডীয় বন্ধুরা। এখনও তার পড়াশোনায় তারাই সহায়তা করছেন। তিনি আইনের ক্লাস করেন, লেকচার রেকর্ড করেন। এছাড়া বন্ধুরা তাকে কোন একটি বিষয় জোরে জোরে পড়ে শোনায়। এভাবে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে মা-বাবা ও মেয়ে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই থাকেন তিনি। কানাডার সরকার দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন তাকে ও তার পরিবারকে।

সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০৭ জুলাই ২০১৪ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates